তিন পার্বত্য জেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণের ঘোষণা তথ্য উপদেষ্টার

- আপডেট সময় : ০৪:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকার প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বর্ষা মৌসুম বা ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় খাদ্য পরিবহন ব্যাহত হয়। নতুন গুদাম নির্মাণ করা হলে দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে এবং জরুরি মজুত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দেশের ৫৫ লাখ দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারকে প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। সরকার এটিকে শিক্ষার মানোন্নয়নের একটি অংশ হিসেবে দেখছে। অতীতের শুধু পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রকৃত মান নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
স্বাস্থ্যখাতের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে সম্প্রতি একজন চিকিৎসককে বরখাস্তও করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, একটি যন্ত্রাংশ বিদেশে রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে না পাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে পাঠাতে হয়েছিল। এছাড়া ইমিগ্রেশন জটিলতায় যাত্রীরা বিমানবন্দরের বাইরে যেতে না পারায় ভোগান্তি বাড়ে। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। শুরুর দিকে ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা হলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরমাণু শক্তি কমিশনের ২২টি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ৮২ হাজার ৩৭৬ জন রোগীকে আধুনিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে এবং আমদানিকৃত খাদ্যের তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার আওতায় ২ হাজার ৪১টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকা ও দেশের ১৩টি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাঠ সংরক্ষণ, দখলমুক্ত করা এবং নতুন মাঠ নির্মাণের কাজ চলছে। সরকার শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে সরিয়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সবশেষে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা নিশ্চিত করে একটি মানবিক ও টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।


























