তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের রেকর্ড, অনেক এলাকায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন
- আপডেট সময় : ০৯:৫৯:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন, এর মধ্যেই দেশে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। গ্যাস ও কয়লা সংকটের পাশাপাশি ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি অর্ধেকে নেমে আসায় দেশের ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা চরম চাপের মুখে পড়েছে। ঢাকার বাইরে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎহীন সময় ১০ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, কয়লা ও গ্যাস সংকটের কারণে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রোববার বিকাল ৩টায় সারা দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় তিন হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, যা গত সপ্তাহের সর্বোচ্চ তিন হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ওই সময়ে লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বিকাল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫৯ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ ছিল মাত্র ১২ হাজার ৩৮৮ মেগাওয়াট। বিকাল ৫টায় সরবরাহ কিছুটা বেড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছালেও লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৯৬৭ মেগাওয়াট।
পিডিবি জানায়, ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কয়লা পরিবহন করতে না পারার অজুহাতে তারা উৎপাদন কমিয়েছে বলে জানিয়েছে। সাধারণ পিক আওয়ারে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সরবরাহ করলেও রোববার বিকাল ৫টায় তা ৮১৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে। পিডিবি কর্মকর্তাদের মতে, আদানি গ্রুপের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কোনো সুযোগ তাদের নেই।
এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। বড়পুকুরিয়া, বরিশাল ইলেকট্রিক কোম্পানি, মাতারবাড়ী, পায়রা, রামপাল, এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএলের কেন্দ্রে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ ছিল, রাতে তা চালু হলেও উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় বেশ কম।
গ্যাস সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে কমপক্ষে দুই হাজার মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াট হলেও রোববার বিকাল ৫টায় উৎপাদন হয়েছে মাত্র তিন হাজার ৫৮৯ মেগাওয়াট। একইভাবে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
এদিকে, গত ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ফলে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ৫১ কোটি ঘনফুট কমে গিয়েছিল। মেরামতের পর ৫ আগস্ট রাতে আংশিক সরবরাহ শুরু হলেও রোববার সন্ধ্যা ৬টায় দুটি টার্মিনাল থেকে মোট ৭৫ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেছে, যা স্বাভাবিক ১১০ কোটি ঘনফুটের তুলনায় অনেক কম। সব মিলিয়ে পিডিবি ও বিতরণ কোম্পানিগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
আদানি ছাড়া কয়লা সংকট এবং যান্ত্রিক কারণে বড়পুকুরিয়া, বরিশাল ইলেকট্রিক কোম্পানি, মাতারবাড়ী, পায়রা, রামপাল, এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএলের কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। এর মধ্যে পায়রার একটি ইউনিট রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। সেটি রাতে চালু হয়েছে বলে চানা গেছে। এ কারণে পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াটের ক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন হয়েছে ৭১০ মেগাওয়াট। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্র যান্ত্রিক সক্ষমতা দুর্বল। তাই এর দুটি ইউনিট থেকে উৎপাদন হচ্ছে এক হাজার ১৬৫ মেগাওয়াট। এসএস পাওয়ারের কয়লার দাম বাড়িয়ে দেওয়ার পরও এর দুটি ইউনিট থেকে উৎপাদন হচ্ছে এক হাজার ১৬৩ মেগাওয়াট। অথচ এর উৎপাদন ক্ষমতা ১৩২০ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি। সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ৭০ কোটি ঘনফুট। তাই গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে কমপক্ষে দুই হাজার মেগাওয়াট। গতকাল বিকাল ৫টায় দেশের সব গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে তিন হাজার ৫৮৯ মেগাওয়াট। অথচ সক্ষমতা আছে ১০ হাজার মেগাওয়াটের। তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকেও উৎপাদন হচ্ছে দুই হাজার মেগাওয়াটের মতো। অথচ উৎপাদনের সক্ষমতা হচ্ছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।


























