ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী ফুলহ্যাম ছেড়ে বোরহ্যাম উডে ধারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহান মেহেরপুরে কৃষিজমি থেকে ল্যান্ডমাইনের মতো ৫টি বক্স উদ্ধার এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, নিলামে বিক্রি ৪৮ লাখ টাকায় ভেদরগঞ্জে তরুণীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, চুল কেটে জুতার মালা পরানো বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করে সমালোচনায় উজিরপুরের বিএনপি নেতা পেশাগত দায়িত্ব পালনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাধা না হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সাড়ে ছয় বছরে বাইক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ১৫ হাজারের বেশি প্রাণ নিরাপত্তা পেলে দেশে ফিরতে চান সাকিব, স্বাভাবিক সুযোগ নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তনু হত্যা মামলা: কেরানীগঞ্জ থেকে পুনরায় গ্রেফতার হাফিজুর রহমান

সাড়ে ছয় বছরে বাইক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ১৫ হাজারের বেশি প্রাণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দেশে গত সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’-এর এক সমীক্ষায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সংঘটিত ১৬ হাজার ৬৫টি বাইক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংস্থাটি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩ হাজার ৫৪৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ছিল। এছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫ হাজার ৪৯৭টি, ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ৬ হাজার ৩১৪টি এবং অন্যান্য কারণে ৭০৬টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী পক্ষগুলোর বিষয়ে সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ছিলেন। এছাড়া পণ্যবাহী যানবাহন (ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরি ইত্যাদি) ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। বাসের চালক দায়ী ছিলেন ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ দুর্ঘটনায়। বাকি দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে থ্রি-হুইলার ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ২ দশমিক ৭২ শতাংশ, পথচারী ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং বাইসাইকেল ও রিকশা দশমিক ৭৬ শতাংশ ঘটনার জন্য দায়ী ছিল।

সড়কের ধরন অনুযায়ী দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৬ হাজার ৬৮৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ৪ হাজার ৭৭৩টি, শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সংস্থাটির তথ্যমতে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল, যার একটি বড় অংশ চালায় কিশোর ও যুবকরা। তাদের মধ্যে বেপরোয়াভাবে বাইক চালানোর প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা ও ভঙ্গিও কিশোর-যুবকদের অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালাতে উৎসাহিত করছে বলে মনে করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। বিজ্ঞাপনের প্রভাবে তারা গতির মধ্যে রোমাঞ্চ অনুভব করে, যার ফলে চালকরা নিজেরা যেমন দুর্ঘটনায় পড়ছে, তেমনি পথচারীসহ অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীদেরও ঝুঁকিতে ফেলছে।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের একটি বড় অংশই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। তাদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং মোটরসাইকেলকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার কারণেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশেরই বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দেশে উন্নত ও সহজলভ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকা এবং যানজটের কারণে মানুষ এই বাহনটি ব্যবহারে বেশি উৎসাহিত হচ্ছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন উল্লেখ করেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ার অন্যতম কারণ মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করা। ভালো মানের হেলমেট ব্যবহারে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সংস্থাটি বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে—মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো, বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তামূলক প্রচারণা চালানো, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনা পরিবর্তন করা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

সাড়ে ছয় বছরে বাইক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ১৫ হাজারের বেশি প্রাণ

আপডেট সময় : ০২:১৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
print news

দেশে গত সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’-এর এক সমীক্ষায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সংঘটিত ১৬ হাজার ৬৫টি বাইক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংস্থাটি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩ হাজার ৫৪৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ছিল। এছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫ হাজার ৪৯৭টি, ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ৬ হাজার ৩১৪টি এবং অন্যান্য কারণে ৭০৬টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী পক্ষগুলোর বিষয়ে সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ছিলেন। এছাড়া পণ্যবাহী যানবাহন (ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরি ইত্যাদি) ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। বাসের চালক দায়ী ছিলেন ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ দুর্ঘটনায়। বাকি দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে থ্রি-হুইলার ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ২ দশমিক ৭২ শতাংশ, পথচারী ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং বাইসাইকেল ও রিকশা দশমিক ৭৬ শতাংশ ঘটনার জন্য দায়ী ছিল।

সড়কের ধরন অনুযায়ী দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৬ হাজার ৬৮৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ৪ হাজার ৭৭৩টি, শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সংস্থাটির তথ্যমতে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল, যার একটি বড় অংশ চালায় কিশোর ও যুবকরা। তাদের মধ্যে বেপরোয়াভাবে বাইক চালানোর প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা ও ভঙ্গিও কিশোর-যুবকদের অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালাতে উৎসাহিত করছে বলে মনে করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। বিজ্ঞাপনের প্রভাবে তারা গতির মধ্যে রোমাঞ্চ অনুভব করে, যার ফলে চালকরা নিজেরা যেমন দুর্ঘটনায় পড়ছে, তেমনি পথচারীসহ অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীদেরও ঝুঁকিতে ফেলছে।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের একটি বড় অংশই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। তাদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং মোটরসাইকেলকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার কারণেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশেরই বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দেশে উন্নত ও সহজলভ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকা এবং যানজটের কারণে মানুষ এই বাহনটি ব্যবহারে বেশি উৎসাহিত হচ্ছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন উল্লেখ করেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ার অন্যতম কারণ মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করা। ভালো মানের হেলমেট ব্যবহারে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সংস্থাটি বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে—মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো, বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তামূলক প্রচারণা চালানো, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনা পরিবর্তন করা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin