ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অনাপত্তি সনদ বাতিল: ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ সিরাজগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল ফাউন্ডেশন আফগানিস্তানের আটটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি পাকিস্তানের বাংলাদেশ পুলিশের ১৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদায়ন গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ওসি নিয়োগ কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে পটুয়াখালীতে সেরা দশমিনার আরিফ ট্রাম্পের হুমকিকে কৌশলগত হতাশা বলে আরও তীব্র হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের সরকারি সব কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে, বাদ পড়ছেন আওয়ামীপন্থীরা সরকারি কলেজের ক্লাস রুটিন চেয়ে মাউশির জরুরি নির্দেশনা জারি পাঁচ জেলায় ছড়িয়েছে অ্যানথ্রাক্স, আক্রান্ত শতাধিক মানুষ

হামের ঝুঁকিতে টিকার বাইরের শিশুরা, হাসপাতালে বাড়ছে ভর্তি ও মৃত্যু

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সেসব শিশু, যারা এখনও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম হওয়ায় এই শিশুরা সহজেই হামে আক্রান্ত হচ্ছে এবং পরবর্তীতে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতায় ভুগছে। অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮৩ জন শিশু হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ৬৭ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। হাসপাতালের হামের ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে গত বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১০৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, শিশুদের অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। বরিশাল থেকে আসা রাজিয়া সুলতানা জানান, তার ১ মাস ২০ দিনের নাতি জাওয়াদ গত ১ তারিখ থেকে প্রচণ্ড জ্বর ও র‍্যাশে আক্রান্ত হয়। একইভাবে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থেকে আসা আসমা বেগমের ১১ মাস বয়সী সন্তান আফফান হামের পর নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। জন্মগত হার্টের সমস্যা থাকায় আফফানের অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। এছাড়াও ভোলা থেকে আসা ৯ মাস বয়সী আমাতুল্লাহ এবং ৯ মাস ১৩ দিন বয়সী আদিল আল মুতাবের পরিবারও একই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমাতুল্লাহর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া ও বদহজমের পর হাম ধরা পড়ে, আর আদিলের ক্ষেত্রে র‍্যাশ দেখা দেওয়ার পরপরই তাকে ঢাকা আনা হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক। এর মূল কারণ তাদের অত্যন্ত দুর্বল ইমিউনিটি সিস্টেম। বিশেষ করে যে শিশুদের বয়স এখনও টিকাদান কর্মসূচির উপযুক্ত হয়নি, তারা ব্যাপকভাবে এই সংক্রমণের শিকার হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

হামের ঝুঁকিতে টিকার বাইরের শিশুরা, হাসপাতালে বাড়ছে ভর্তি ও মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৯:২২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সেসব শিশু, যারা এখনও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম হওয়ায় এই শিশুরা সহজেই হামে আক্রান্ত হচ্ছে এবং পরবর্তীতে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতায় ভুগছে। অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮৩ জন শিশু হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ৬৭ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। হাসপাতালের হামের ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে গত বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১০৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, শিশুদের অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। বরিশাল থেকে আসা রাজিয়া সুলতানা জানান, তার ১ মাস ২০ দিনের নাতি জাওয়াদ গত ১ তারিখ থেকে প্রচণ্ড জ্বর ও র‍্যাশে আক্রান্ত হয়। একইভাবে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থেকে আসা আসমা বেগমের ১১ মাস বয়সী সন্তান আফফান হামের পর নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। জন্মগত হার্টের সমস্যা থাকায় আফফানের অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। এছাড়াও ভোলা থেকে আসা ৯ মাস বয়সী আমাতুল্লাহ এবং ৯ মাস ১৩ দিন বয়সী আদিল আল মুতাবের পরিবারও একই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমাতুল্লাহর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া ও বদহজমের পর হাম ধরা পড়ে, আর আদিলের ক্ষেত্রে র‍্যাশ দেখা দেওয়ার পরপরই তাকে ঢাকা আনা হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক। এর মূল কারণ তাদের অত্যন্ত দুর্বল ইমিউনিটি সিস্টেম। বিশেষ করে যে শিশুদের বয়স এখনও টিকাদান কর্মসূচির উপযুক্ত হয়নি, তারা ব্যাপকভাবে এই সংক্রমণের শিকার হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy