ঢাকা ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এলএনজি টার্মিনালের সংকট কাটছে না, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬: লোগো উন্মোচন ও টেকনোর সঙ্গে নতুন যাত্রা ক্যাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনের হামলা, কূটনীতিককে তলব করল ইরান রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের সাংগঠনিক বৈঠক জুলাই বিপ্লব দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে: নাহিদ ইসলাম সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আইনমন্ত্রী এইচবিএল বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার হলেন আলমগীর মোরশেদ ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, দুই লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ধানমণ্ডির পরিত্যক্ত সুধাসদন থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিল ককরোচ জনতা পার্টি

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন নিয়ামক হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বাংলাদেশ ও ভারতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের অন্যতম বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তন। শুধু নয়াদিল্লি বা ঢাকার সিদ্ধান্ত নয়, কলকাতার রাজনীতিও ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিপ্লোমেসির রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক পল্লবী রায়। শনিবার বিকেলে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’ সম্মেলনের একক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

‘হোয়েন বর্ডার্স ক্যাননট সেপারেট পলিটিকস: ওয়েস্ট বেঙ্গলস পলিটিক্যাল ট্রান্সিশন, হোয়াই ইট হ্যাপেনড, অ্যান্ড ইটস ইমপ্যাক্ট অন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বক্তৃতায় পল্লবী রায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বিবর্তনকে কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই রাজ্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি অনানুষ্ঠানিক সেতুবন্ধ বা ‘বাফার’ হিসেবে কাজ করেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও পশ্চিমবঙ্গ প্রায়ই দুই দেশের মধ্যে সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রেখেছে। তবে এই বাফার দুর্বল হয়ে পড়লে তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে এবং সীমান্ত আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

পল্লবী রায় আরও বলেন, ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লি যদি উন্নয়ন সহযোগিতা ও অবকাঠামো প্রকল্পকে সামনে রেখে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে বর্তমান সরকারের জন্য সেই উদ্যোগ কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে যে জনমত গড়ে উঠেছিল, তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি টেনে পল্লবী রায় বলেন, এই সমস্যাকে কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করলে বাস্তবতা পুরোটা ধরা পড়ে না। নদীটির প্রবাহের বড় অংশ সিকিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় শুধু পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব নয়; এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার ও সিকিমের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তৃতার শেষাংশে তিনি পরিচয়ের রাজনীতিকে ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, চ্যালেঞ্জটি কেবল নির্বাচন বা সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং ধর্মীয় বিভাজনের বাইরে ‘বাঙালি’ পরিচয়কে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য করা যায়, সেটিই বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এটি ভারতের একটি রাজ্যের পরিচয়ের প্রশ্ন, আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভবিষ্যতে ‘বাঙালি’ পরিচয় ও জাতীয় পরিচয়কে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহাবস্থানকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্যও ইতিবাচক হতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন নিয়ামক হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি

আপডেট সময় : ০৬:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
print news

বাংলাদেশ ও ভারতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের অন্যতম বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তন। শুধু নয়াদিল্লি বা ঢাকার সিদ্ধান্ত নয়, কলকাতার রাজনীতিও ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিপ্লোমেসির রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক পল্লবী রায়। শনিবার বিকেলে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’ সম্মেলনের একক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

‘হোয়েন বর্ডার্স ক্যাননট সেপারেট পলিটিকস: ওয়েস্ট বেঙ্গলস পলিটিক্যাল ট্রান্সিশন, হোয়াই ইট হ্যাপেনড, অ্যান্ড ইটস ইমপ্যাক্ট অন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বক্তৃতায় পল্লবী রায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বিবর্তনকে কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই রাজ্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি অনানুষ্ঠানিক সেতুবন্ধ বা ‘বাফার’ হিসেবে কাজ করেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও পশ্চিমবঙ্গ প্রায়ই দুই দেশের মধ্যে সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রেখেছে। তবে এই বাফার দুর্বল হয়ে পড়লে তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে এবং সীমান্ত আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

পল্লবী রায় আরও বলেন, ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লি যদি উন্নয়ন সহযোগিতা ও অবকাঠামো প্রকল্পকে সামনে রেখে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে বর্তমান সরকারের জন্য সেই উদ্যোগ কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে যে জনমত গড়ে উঠেছিল, তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি টেনে পল্লবী রায় বলেন, এই সমস্যাকে কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করলে বাস্তবতা পুরোটা ধরা পড়ে না। নদীটির প্রবাহের বড় অংশ সিকিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় শুধু পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব নয়; এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার ও সিকিমের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তৃতার শেষাংশে তিনি পরিচয়ের রাজনীতিকে ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, চ্যালেঞ্জটি কেবল নির্বাচন বা সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং ধর্মীয় বিভাজনের বাইরে ‘বাঙালি’ পরিচয়কে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য করা যায়, সেটিই বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এটি ভারতের একটি রাজ্যের পরিচয়ের প্রশ্ন, আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভবিষ্যতে ‘বাঙালি’ পরিচয় ও জাতীয় পরিচয়কে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহাবস্থানকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্যও ইতিবাচক হতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo