ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণ: চট্টগ্রামে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার মুন্সীগঞ্জে সরকারি কলেজের লিফটে আটকা পড়া মা ও শিশুকন্যা উদ্ধার লোহিত সাগরে হুতিদের হুমকির মুখে গতিপথ পাল্টাচ্ছে তেলবাহী জাহাজ নৌবাহিনীর নতুন প্রধানকে র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগির পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১৪ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, বিপৎসীমা ছাড়াল তিন নদীর পানি ৪-৫ বছরের মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত হবে বাংলাদেশ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ ছাড় সিরাজগঞ্জে কৃষকের গোয়ালঘর থেকে ৪ গরু চুরি, দিশেহারা পরিবার ইরানের বিভিন্ন জায়গায় টানা ১২ দিন ধরে মার্কিন হামলা

৪-৫ বছরের মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত হবে বাংলাদেশ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ছানিজনিত অন্ধত্ব (ক্যাটারাক্ট ব্লাইন্ডনেস) পুরোপুরি নির্মূল করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত "বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা" শীর্ষক এক অংশীজন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও—এই তিন খাতের সমন্বিত উদ্যোগে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি জাতীয় রোডম্যাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, বর্তমানে চোখের চিকিৎসায় প্রশংসনীয় কাজ হলেও কোনো সমন্বিত মনিটরিং বা কমন রিপোর্টিং ব্যবস্থা ছিল না। এবার একটি 'জাতীয় উদ্যোগ' বা ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে পাঁচ বছরের দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে।

পরিকল্পনার প্রথম বছরেই প্রতিটি জেলা হাসপাতালের বিদ্যমান চক্ষু চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন জনবল নিয়োগের জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া স্কুলগামী শিশুদের চোখের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত চশমা সরবরাহের জন্য দেশব্যাপী সমন্বিত ক্যাম্পেইন চালানো হবে। কলকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের চোখের যত্ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, শ্রমিক ও কর্মীদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত হলে কাজের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চোখের ছানি দূর করতে ব্যাপকভিত্তিক ক্যাটারাক্ট সার্জারি কর্মসূচি চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি বছর লাখ লাখ সফল অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করে ৪-৫ বছরের মধ্যে দেশকে ছানিমুক্ত ও অন্ধত্বহীন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো জটিল রোগ শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আধুনিক স্ক্রিনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সেবা পৌঁছানো সহজ হবে। তার লক্ষ্য হলো, হাইটেক আই কেয়ার সেবা যেন শুধু ধনী শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রান্তিক মানুষও এটি নাগরিক অধিকার হিসেবে পায়।

চক্ষু সেবা খাতের দক্ষ জনবল সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ ক্যাডারের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি করে চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং সহযোগী অধ্যাপক (অফথালমোলজি) ড. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির বক্তব্য রাখেন। এছাড়া এআরকে ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিনিধিরা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে দেশের প্রবীণ চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, মাঠপর্যায়ের চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত "বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা" শীর্ষক এক অংশীজন সংলাপে (স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

৪-৫ বছরের মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত হবে বাংলাদেশ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
print news

আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ছানিজনিত অন্ধত্ব (ক্যাটারাক্ট ব্লাইন্ডনেস) পুরোপুরি নির্মূল করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত "বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা" শীর্ষক এক অংশীজন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও—এই তিন খাতের সমন্বিত উদ্যোগে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি জাতীয় রোডম্যাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, বর্তমানে চোখের চিকিৎসায় প্রশংসনীয় কাজ হলেও কোনো সমন্বিত মনিটরিং বা কমন রিপোর্টিং ব্যবস্থা ছিল না। এবার একটি 'জাতীয় উদ্যোগ' বা ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে পাঁচ বছরের দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে।

পরিকল্পনার প্রথম বছরেই প্রতিটি জেলা হাসপাতালের বিদ্যমান চক্ষু চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন জনবল নিয়োগের জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া স্কুলগামী শিশুদের চোখের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত চশমা সরবরাহের জন্য দেশব্যাপী সমন্বিত ক্যাম্পেইন চালানো হবে। কলকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের চোখের যত্ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, শ্রমিক ও কর্মীদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত হলে কাজের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চোখের ছানি দূর করতে ব্যাপকভিত্তিক ক্যাটারাক্ট সার্জারি কর্মসূচি চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি বছর লাখ লাখ সফল অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করে ৪-৫ বছরের মধ্যে দেশকে ছানিমুক্ত ও অন্ধত্বহীন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো জটিল রোগ শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আধুনিক স্ক্রিনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সেবা পৌঁছানো সহজ হবে। তার লক্ষ্য হলো, হাইটেক আই কেয়ার সেবা যেন শুধু ধনী শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রান্তিক মানুষও এটি নাগরিক অধিকার হিসেবে পায়।

চক্ষু সেবা খাতের দক্ষ জনবল সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ ক্যাডারের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি করে চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং সহযোগী অধ্যাপক (অফথালমোলজি) ড. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির বক্তব্য রাখেন। এছাড়া এআরকে ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিনিধিরা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে দেশের প্রবীণ চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, মাঠপর্যায়ের চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত "বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা" শীর্ষক এক অংশীজন সংলাপে (স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh