ঢাকা ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফিফায় কিংসের অভিযোগ বেড়ে ১৪, নিষেধাজ্ঞামুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় আবাহনী টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ ছাড়ছেন নটরাজন চন্দ্রশেখরণ বিতর্কিত নওমিকে এশিয়ান গেমসে নারী দলের ম্যানেজার করল বাফুফে ফিলিস্তিন ইস্যু মুছে ফেলতে চায় ইসরাইল: এরদোগান এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমেই হবে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ, আশ্বস্ত শিক্ষক নেতারা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সরাসরি দেখবেন যেভাবে বিএনপি অলিগার্ক তোষণের পথে হাঁটছে, অভিযোগ নাহিদ ইসলামের গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই হাতির মৃত্যু ১১ অক্টোবর সিডনিতে বসছে চট্টগ্রাম ক্লাবের স্প্রিং ফেয়ার ২০২৬ সাংবাদিক নুর মোহাম্মদকে হত্যার হুমকি, ইরাব ও বিএসআরএফের তীব্র নিন্দা

লোহিত সাগরে হুতিদের হুমকির মুখে গতিপথ পাল্টাচ্ছে তেলবাহী জাহাজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লোহিত সাগরে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণার পর ওই এলাকায় উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। হুতিদের হুমকির মুখে পড়ে অন্তত সাতটি তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যপোত ইয়েমেন উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় নিজেদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।

শিপ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘রোডোস’ সৌদি তেল নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবেল মানদেব প্রণালির কাছ থেকে ঘুরে উত্তর দিকে চলে যায়। একইভাবে সৌদি আরবের জাজান বন্দর ত্যাগ করা ‘মাইকা’ নামের আরেকটি ট্যাংকারও দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করে। এ ছাড়া চীন থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা ও অন্যান্য বন্দরের উদ্দেশ্যে আসা বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক জাহাজ এডেন উপসাগর ও আরব সাগরে অবস্থান নিয়েছে।

হুতিরা শিপিং কোম্পানিগুলোকে ইমেইল পাঠিয়ে সতর্ক করেছে যে, সৌদি আরবের কোনো বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাদের আওতাধীন এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যেকোনো জাহাজে হামলা হতে পারে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর ও বিমানবন্দরে সৌদি আরবের আরোপ করা অবরোধের জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের জাহাজ ও বাণিজ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব তাদের অপরিশোধিত তেল রফতানির ৭০ শতাংশের বেশি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে স্থানান্তরিত করেছিল। এখন নতুন করে লোহিত সাগর ও বাবেল মানদেব প্রণালি ঝুঁকিতে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক নৌ-মিশন ‘অ্যাসপিডেস’ ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের মতে, বাবেল মানদেব প্রণালি বন্ধ হলে সৌদি আরবকে বিকল্প হিসেবে ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে এশিয়ায় তেল পাঠাতে হবে, যা পরিবহন খরচ ও সময় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সম্ভাব্য আক্রমণ এড়াতে লোহিত সাগরে চলাচলকারী অন্তত ৫০টি জাহাজ নিজেদের সুরক্ষায় ‘সশস্ত্র রক্ষী’ থাকার বার্তা স্পষ্ট করে চলাচল করছে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইওএস রিস্ক গ্রুপের বিশেষজ্ঞ মার্টিন কেলি সতর্ক করে বলেছেন, এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি বা বড় মাপের হামলায় জ্বালানি ট্যাংকার ধ্বংস হয়ে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

লোহিত সাগরে হুতিদের হুমকির মুখে গতিপথ পাল্টাচ্ছে তেলবাহী জাহাজ

আপডেট সময় : ০১:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

লোহিত সাগরে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণার পর ওই এলাকায় উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। হুতিদের হুমকির মুখে পড়ে অন্তত সাতটি তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যপোত ইয়েমেন উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় নিজেদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।

শিপ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘রোডোস’ সৌদি তেল নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবেল মানদেব প্রণালির কাছ থেকে ঘুরে উত্তর দিকে চলে যায়। একইভাবে সৌদি আরবের জাজান বন্দর ত্যাগ করা ‘মাইকা’ নামের আরেকটি ট্যাংকারও দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করে। এ ছাড়া চীন থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা ও অন্যান্য বন্দরের উদ্দেশ্যে আসা বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক জাহাজ এডেন উপসাগর ও আরব সাগরে অবস্থান নিয়েছে।

হুতিরা শিপিং কোম্পানিগুলোকে ইমেইল পাঠিয়ে সতর্ক করেছে যে, সৌদি আরবের কোনো বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাদের আওতাধীন এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যেকোনো জাহাজে হামলা হতে পারে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর ও বিমানবন্দরে সৌদি আরবের আরোপ করা অবরোধের জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের জাহাজ ও বাণিজ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব তাদের অপরিশোধিত তেল রফতানির ৭০ শতাংশের বেশি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে স্থানান্তরিত করেছিল। এখন নতুন করে লোহিত সাগর ও বাবেল মানদেব প্রণালি ঝুঁকিতে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক নৌ-মিশন ‘অ্যাসপিডেস’ ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের মতে, বাবেল মানদেব প্রণালি বন্ধ হলে সৌদি আরবকে বিকল্প হিসেবে ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে এশিয়ায় তেল পাঠাতে হবে, যা পরিবহন খরচ ও সময় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সম্ভাব্য আক্রমণ এড়াতে লোহিত সাগরে চলাচলকারী অন্তত ৫০টি জাহাজ নিজেদের সুরক্ষায় ‘সশস্ত্র রক্ষী’ থাকার বার্তা স্পষ্ট করে চলাচল করছে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইওএস রিস্ক গ্রুপের বিশেষজ্ঞ মার্টিন কেলি সতর্ক করে বলেছেন, এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি বা বড় মাপের হামলায় জ্বালানি ট্যাংকার ধ্বংস হয়ে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh