ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আবাসন খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রিহ্যাব প্রতিনিধিদলের বৈঠক পিপলস্ লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের নির্দেশ হাইকোর্টের গৃহকর্মী প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যু: সৈয়দ আশফাকুল দম্পতির চার্জ শুনানি পেছাল জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত: চরমোনাই পীর না ফেরার দেশে সাংবাদিক আবু হেনা রাসেল হজ এজেন্সির প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হাজিরা, কঠোর ব্যবস্থার পথে সরকার পিরোজপুরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত রাজমিস্ত্রির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পাবনার সাঁথিয়ায় বাস-অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৪ পারেদেসের ফিফা নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে গাভি তিস্তার পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনে গঙ্গাচড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে

তিস্তার পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনে গঙ্গাচড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের টানা বর্ষণে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যদিও তিস্তার পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা এখনো জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তাদের হাঁটুপানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সন্তানদের হাত ধরে স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। নোহালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক এখনো পানির নিচে। শিক্ষার্থীরা জুতা হাতে খালি পায়ে পানি পার হচ্ছে, আর কৃষক ও সাধারণ মানুষসহ রোগীদের নিত্যদিনের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কৃষিজমি তলিয়ে থাকায় আমন ধানের বীজতলা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

পানি কিছুটা কমলেও নদীভাঙনের ভয়াবহতা নতুন করে দেখা দিয়েছে। নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচারিপাড়া এলাকায় তিস্তার তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সাথে হারিয়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি। নদীপাড়ের পরিবারগুলো শেষ সম্বল রক্ষায় ঘরের টিন খুলে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে এবং আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

এদিকে, তীব্র স্রোতে গঙ্গাচড়া-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর প্রতিরক্ষা বাঁধের অন্তত ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় মূল সড়ক ও সেতুসহ রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদীপাড়ের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সর্বস্ব হারানো মর্জিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, নদী তাদের সাজানো সংসার ও বাড়িঘর কেড়ে নিয়েছে, এখন খেয়ে বেঁচে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে তারা।

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গঙ্গাচড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে সরকারি সহায়তা ও ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

তিস্তার পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনে গঙ্গাচড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় : ০৭:০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
print news

ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের টানা বর্ষণে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যদিও তিস্তার পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা এখনো জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তাদের হাঁটুপানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সন্তানদের হাত ধরে স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। নোহালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক এখনো পানির নিচে। শিক্ষার্থীরা জুতা হাতে খালি পায়ে পানি পার হচ্ছে, আর কৃষক ও সাধারণ মানুষসহ রোগীদের নিত্যদিনের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কৃষিজমি তলিয়ে থাকায় আমন ধানের বীজতলা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

পানি কিছুটা কমলেও নদীভাঙনের ভয়াবহতা নতুন করে দেখা দিয়েছে। নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচারিপাড়া এলাকায় তিস্তার তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সাথে হারিয়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি। নদীপাড়ের পরিবারগুলো শেষ সম্বল রক্ষায় ঘরের টিন খুলে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে এবং আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

এদিকে, তীব্র স্রোতে গঙ্গাচড়া-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর প্রতিরক্ষা বাঁধের অন্তত ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় মূল সড়ক ও সেতুসহ রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদীপাড়ের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সর্বস্ব হারানো মর্জিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, নদী তাদের সাজানো সংসার ও বাড়িঘর কেড়ে নিয়েছে, এখন খেয়ে বেঁচে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে তারা।

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গঙ্গাচড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে সরকারি সহায়তা ও ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh