তিস্তার পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনে গঙ্গাচড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে

- আপডেট সময় : ০৭:০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের টানা বর্ষণে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যদিও তিস্তার পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা এখনো জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তাদের হাঁটুপানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সন্তানদের হাত ধরে স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। নোহালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক এখনো পানির নিচে। শিক্ষার্থীরা জুতা হাতে খালি পায়ে পানি পার হচ্ছে, আর কৃষক ও সাধারণ মানুষসহ রোগীদের নিত্যদিনের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কৃষিজমি তলিয়ে থাকায় আমন ধানের বীজতলা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
পানি কিছুটা কমলেও নদীভাঙনের ভয়াবহতা নতুন করে দেখা দিয়েছে। নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচারিপাড়া এলাকায় তিস্তার তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সাথে হারিয়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি। নদীপাড়ের পরিবারগুলো শেষ সম্বল রক্ষায় ঘরের টিন খুলে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে এবং আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।
এদিকে, তীব্র স্রোতে গঙ্গাচড়া-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর প্রতিরক্ষা বাঁধের অন্তত ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় মূল সড়ক ও সেতুসহ রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদীপাড়ের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সর্বস্ব হারানো মর্জিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, নদী তাদের সাজানো সংসার ও বাড়িঘর কেড়ে নিয়েছে, এখন খেয়ে বেঁচে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে তারা।
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গঙ্গাচড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে সরকারি সহায়তা ও ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


























