শাবিপ্রবিতে বহিষ্কৃত দুই ছাত্রদল নেতার শাস্তি পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন

- আপডেট সময় : ০৬:৫৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে একাডেমিক শাস্তি পাওয়া ছাত্রদলের দুই নেতার বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীও উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান যে, শাস্তিপ্রাপ্ত দুজনের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে যেন তাদের চার সেমিস্টারের বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনা করা হয়।
মানববন্ধনে পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় আহসান বলেন, গত ১৮ জুলাই তাদের সহপাঠী ও জুনিয়রের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি ‘হিট অব দ্য মোমেন্টে’ হাতাহাতির মাধ্যমে ঘটে গেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুজনের বিরুদ্ধে যে বিচার করা হয়েছে তা অমানবিক। তিনি আরও বলেন, তারা দুজনই চতুর্থ বর্ষের ছাত্র, তাই তাদের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে শাস্তি কমিয়ে আনা উচিত। পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, তারা অকপটে স্বীকার করছেন যে অভিযুক্তরা অন্যায় কাজ করেছে, তবে পরিবারের কথা চিন্তা করে তাদের যেন একটি সুযোগ দেওয়া হয় এবং বিচারটি পুনর্বিবেচনা করা হোক।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৬ জুলাই, যখন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার শাহপরাণ হলের ক্যানটিনের খাবারের মান নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মন্তব্য করেন। এর জেরে ১৮ জুলাই রাতে পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং একই বর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিন বিক্ষোভ করেন। ১৯ জুলাই ছাত্রদল অভিযুক্ত দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত মঙ্গলবার রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ওই দুই নেতাকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


























