প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনা
- আপডেট সময় : ০৬:৩২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত, কার্যকর এবং সহজলভ্য করে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন। সরকার গঠনের পর এটিই ছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরাসরি সফর ও বৈঠক।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের গত পাঁচ মাসের অগ্রগতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গ্রহণ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে জানান, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলে স্বাস্থ্য খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সংকট কাটিয়ে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের অবহেলা এবং রোগীদের সেবা না পাওয়ার যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে, তা বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন যে, দায়িত্বে অবহেলাকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যেন সরকারি হাসপাতাল থেকেই মানসম্মত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজে পান, তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। চিকিৎসা নিতে গিয়ে যেন কোনো নাগরিক ভোগান্তির শিকার না হন, সেদিকেও তিনি কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন।
কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বর্তমানে জেলা পর্যায়ে যে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলো রয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের লক্ষ্যে দক্ষ জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা এ সংক্রান্ত অবকাঠামোগত উন্নয়নের নকশা ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় সরকারি হাসপাতালের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।




























