ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিয়ানমারে বাজারে বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৩৩ ২২টি লাইসেন্সবিহীন অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার সতর্কবার্তা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসিতে ১২ দিনব্যাপী এডিস মশার লার্ভা জরিপ শুরু পাবনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত বোরকা পরে ছদ্মবেশে উত্তরখান ভূমি অফিস পরিদর্শনে ডিসি ফরিদা গোপনে আরব আমিরাত সফর করলেন নেতানিয়াহু, নেপথ্যে ইরান ও বিতর্ক সৈয়দপুরে ইএমই কোরের বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত নিখোঁজ শিশু জিসান উদ্ধার, পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা, রূপপুরের ইউরেনিয়াম আসা বিলম্বিত এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে গেলেন অসুস্থ নাজমুল হোসেন শান্ত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দৃষ্টি হারানো আমান উল্লাহ চান কাজের সুযোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



‘আমি শুধু ভাতার ওপর বা দানের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না। আমি প্রশিক্ষণ চাই, কাজ চাই। নিজের আত্মবিশ্বাসের জন্য এটা আমার খুব দরকার।’ এভাবেই নিজের মনের আকুতি প্রকাশ করছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দুই চোখের দৃষ্টি হারানো মো. আমান উল্লাহ (২২)। রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ঠেকাপাড়া গ্রামের এই তরুণ কেবল সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান।

আমান উল্লাহর বাবা নজির আহমেদ (৭০) একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাঠ পরিবহনের কাজ করতেন এবং মা আমেনা বেগম (৫৮)। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আমান উল্লাহ সবার ছোট। ২০২৩ সালে লংগদু মডেল ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেও টাকার অভাবে পরের বছর আর ফর্ম পূরণ করতে পারেননি। নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে তিনি কখনো রাজমিস্ত্রি, আবার কখনো খেতের দিনমজুর হিসেবে কাজ করেছেন। আন্দোলনের কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা এলাকার একটি হোটেলে ১০ হাজার টাকা বেতনে ব্যবস্থাপকের চাকরি নিয়েছিলেন তিনি।

২০২৪ সালের ২ আগস্ট জুলাই গণ-আন্দোলনে যোগ দেন আমান উল্লাহ। পরদিন ৩ আগস্ট চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে আন্দোলনে থাকার সময় তাঁর পায়ে রাবার বুলেট লাগে। ৪ আগস্ট নিউমার্কেট এলাকায় তিনি পুলিশের মারধরের শিকার হন। এরপর ৫ আগস্ট সরকার পতনের খবর পেয়ে আন্দরকিল্লা ও কাজীর দেউড়ি হয়ে নিউমার্কেট এলাকায় আনন্দমিছিলে যোগ দেন তিনি। বিকেলে লালদিঘির ময়দান হয়ে জেলখানার মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ নির্বিচার কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও ছররা গুলি ছুড়তে শুরু করে। সেখানে তাঁর পাশে থাকা এক তরুণ মাথায় গুলি লেগে পড়ে যান এবং আমান উল্লাহর পিঠেও ছররা গুলি লাগে। তিনি পেছনে তাকাতেই এক পুলিশ সদস্য তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ও ছররা ছুড়েন। সঙ্গে সঙ্গে চোখে অন্ধকার নেমে আসে এবং রক্ত ঝরতে থাকে। পরবর্তীতে এক অপরিচিত তরুণ তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

এখন পর্যন্ত আমান উল্লাহর দুই চোখে ৯টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। দুই চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি এখন সবকিছু আবছা দেখেন। বাঁ চোখে সম্পূর্ণ ঝাপসা এবং ডান চোখে কেবল মানুষের অবয়ব ও নড়াচড়া টের পান। ঘর বা পরিচিত পরিবেশে নিজে চলাফেরা করতে পারলেও বাইরে বের হতে তাঁর সাদাছড়ির প্রয়োজন হয় এবং অন্য কারও সাহায্য নিতে হয়। চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সার্জিক্যাল রেটিনা বিভাগের প্রধান সহযোগী পরামর্শক অপরাজিতা রায়হান জানান, আমান উল্লাহ চোখে ‘গানশট ইনজুরি’ নিয়ে এসেছিলেন। রেটিনার টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আর আগের অবস্থায় ফেরানো যায় না। অস্ত্রোপচারের পর এখন তিনি এক চোখে সামান্য আলোর ঝলক পান, তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিহীনতার সংজ্ঞা অনুযায়ী তিনি দৃষ্টিহীন।

বর্তমানে অতি গুরুতর আহত ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে সরকারি সম্মানী ভাতা পান আমান উল্লাহ। এছাড়া আহত হিসেবে পাওয়া সহায়তার টাকা দিয়ে বাড়ির পাশে একটি মুদিদোকান দিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর আক্ষেপ, সরকার প্রদত্ত ‘জুলাই কার্ড’ নিয়ে অনেক জায়গায় সেবা নিতে গেলে অনেকেই তা চিনতে পারেন না। আমান উল্লাহ বলেন, অনেকে ভাবেন দৃষ্টিহীনদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই, তারা দানের ওপরই বেঁচে থাকবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি।

নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করতে বেশ কয়েকবারের চেষ্টায় গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে sechs মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন আমান উল্লাহ। এই বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষে সম্মানজনক কোনো কর্মসংস্থানের আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর মতো দৃষ্টিহীনদের উৎপাদনমুখী করে তুলতে সরকারের বিশেষ নজরদারি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন এই তরুণ যোদ্ধা।

বিকেলে লালদিঘির ময়দান হয়ে জেলখানার মোড়ে এলে দেখতে পান, পুলিশ নির্বিচার কাঁদানে গ্যাসের শেল, রাবার বুলেট ও ছররা গুলি ছুড়ছে।.নতুন আবেদন নেই, জুলাই শহীদের সংখ্যা ৮৪৩ .আমান উল্লাহ বলেন, ‘আমার পাশে দাঁড়ানো একটি ছেলে মাথায় গুলি খেয়ে রাস্তায় পড়ে যান।

তবে দৃষ্টিহীনতার সংজ্ঞা অনুসারে, তিনি দৃষ্টিহীন।.জুলাই যোদ্ধাদের আবাসনে বরাদ্দ ৩০০ কোটি.অতি গুরুতর আহত ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে মাসে ২০ হাজার টাকা করে সরকারি সম্মানী ভাতা পান আমান উল্লাহ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দৃষ্টি হারানো আমান উল্লাহ চান কাজের সুযোগ

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

‘আমি শুধু ভাতার ওপর বা দানের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না। আমি প্রশিক্ষণ চাই, কাজ চাই। নিজের আত্মবিশ্বাসের জন্য এটা আমার খুব দরকার।’ এভাবেই নিজের মনের আকুতি প্রকাশ করছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দুই চোখের দৃষ্টি হারানো মো. আমান উল্লাহ (২২)। রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ঠেকাপাড়া গ্রামের এই তরুণ কেবল সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান।

আমান উল্লাহর বাবা নজির আহমেদ (৭০) একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাঠ পরিবহনের কাজ করতেন এবং মা আমেনা বেগম (৫৮)। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আমান উল্লাহ সবার ছোট। ২০২৩ সালে লংগদু মডেল ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেও টাকার অভাবে পরের বছর আর ফর্ম পূরণ করতে পারেননি। নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে তিনি কখনো রাজমিস্ত্রি, আবার কখনো খেতের দিনমজুর হিসেবে কাজ করেছেন। আন্দোলনের কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা এলাকার একটি হোটেলে ১০ হাজার টাকা বেতনে ব্যবস্থাপকের চাকরি নিয়েছিলেন তিনি।

২০২৪ সালের ২ আগস্ট জুলাই গণ-আন্দোলনে যোগ দেন আমান উল্লাহ। পরদিন ৩ আগস্ট চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে আন্দোলনে থাকার সময় তাঁর পায়ে রাবার বুলেট লাগে। ৪ আগস্ট নিউমার্কেট এলাকায় তিনি পুলিশের মারধরের শিকার হন। এরপর ৫ আগস্ট সরকার পতনের খবর পেয়ে আন্দরকিল্লা ও কাজীর দেউড়ি হয়ে নিউমার্কেট এলাকায় আনন্দমিছিলে যোগ দেন তিনি। বিকেলে লালদিঘির ময়দান হয়ে জেলখানার মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ নির্বিচার কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও ছররা গুলি ছুড়তে শুরু করে। সেখানে তাঁর পাশে থাকা এক তরুণ মাথায় গুলি লেগে পড়ে যান এবং আমান উল্লাহর পিঠেও ছররা গুলি লাগে। তিনি পেছনে তাকাতেই এক পুলিশ সদস্য তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ও ছররা ছুড়েন। সঙ্গে সঙ্গে চোখে অন্ধকার নেমে আসে এবং রক্ত ঝরতে থাকে। পরবর্তীতে এক অপরিচিত তরুণ তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

এখন পর্যন্ত আমান উল্লাহর দুই চোখে ৯টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। দুই চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি এখন সবকিছু আবছা দেখেন। বাঁ চোখে সম্পূর্ণ ঝাপসা এবং ডান চোখে কেবল মানুষের অবয়ব ও নড়াচড়া টের পান। ঘর বা পরিচিত পরিবেশে নিজে চলাফেরা করতে পারলেও বাইরে বের হতে তাঁর সাদাছড়ির প্রয়োজন হয় এবং অন্য কারও সাহায্য নিতে হয়। চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সার্জিক্যাল রেটিনা বিভাগের প্রধান সহযোগী পরামর্শক অপরাজিতা রায়হান জানান, আমান উল্লাহ চোখে ‘গানশট ইনজুরি’ নিয়ে এসেছিলেন। রেটিনার টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আর আগের অবস্থায় ফেরানো যায় না। অস্ত্রোপচারের পর এখন তিনি এক চোখে সামান্য আলোর ঝলক পান, তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিহীনতার সংজ্ঞা অনুযায়ী তিনি দৃষ্টিহীন।

বর্তমানে অতি গুরুতর আহত ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে সরকারি সম্মানী ভাতা পান আমান উল্লাহ। এছাড়া আহত হিসেবে পাওয়া সহায়তার টাকা দিয়ে বাড়ির পাশে একটি মুদিদোকান দিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর আক্ষেপ, সরকার প্রদত্ত ‘জুলাই কার্ড’ নিয়ে অনেক জায়গায় সেবা নিতে গেলে অনেকেই তা চিনতে পারেন না। আমান উল্লাহ বলেন, অনেকে ভাবেন দৃষ্টিহীনদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই, তারা দানের ওপরই বেঁচে থাকবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি।

নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করতে বেশ কয়েকবারের চেষ্টায় গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে sechs মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন আমান উল্লাহ। এই বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষে সম্মানজনক কোনো কর্মসংস্থানের আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর মতো দৃষ্টিহীনদের উৎপাদনমুখী করে তুলতে সরকারের বিশেষ নজরদারি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন এই তরুণ যোদ্ধা।

বিকেলে লালদিঘির ময়দান হয়ে জেলখানার মোড়ে এলে দেখতে পান, পুলিশ নির্বিচার কাঁদানে গ্যাসের শেল, রাবার বুলেট ও ছররা গুলি ছুড়ছে।.নতুন আবেদন নেই, জুলাই শহীদের সংখ্যা ৮৪৩ .আমান উল্লাহ বলেন, ‘আমার পাশে দাঁড়ানো একটি ছেলে মাথায় গুলি খেয়ে রাস্তায় পড়ে যান।

তবে দৃষ্টিহীনতার সংজ্ঞা অনুসারে, তিনি দৃষ্টিহীন।.জুলাই যোদ্ধাদের আবাসনে বরাদ্দ ৩০০ কোটি.অতি গুরুতর আহত ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে মাসে ২০ হাজার টাকা করে সরকারি সম্মানী ভাতা পান আমান উল্লাহ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo