ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তাফহীমুল কুরআন পোড়ানোর ঘটনায় আটক যুবক কারাগারে দেশের ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত জুমার নামাজ শেষে আল-আকসার খতিব শেখ মোহাম্মদ হোসেনকে আটক করলো ইসরায়েল ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার চট্টগ্রামের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ বিশেষ পদক্ষেপ ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার চট্টগ্রামের সব জেলায় শনিবারের মাদ্রাসা ও কারিগরি পরীক্ষা স্থগিত ঝালকাঠিতে নতুন সিলকোট উঠে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ, ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা ভিএআর রিভিউয়ের দীর্ঘসূত্রতায় বিরক্ত আর্লিং হালান্ড অসুস্থ বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল হাসপাতালে

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসিত থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই এই কথা জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, শুধু তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। তিনি বলেন, “আমি সবাইকে বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরব। তোমাদেরও একদিন ফিরতে হবে। সবাই মিলে আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করব।” এর আগে ইমেইলে এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ বছরই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে এবারই প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্ট সময়ের আভাস দিলেন।

দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার বা হত্যার আশঙ্কা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে।” ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ভারত তাকে আশ্রয় দেওয়ায় ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন চললেও শেখ হাসিনা দাবি করেন, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, “আমি ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেই মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক—আর আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।” কারাগারে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এর আগেও ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে ফেরার পর এবং ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল, তাই এ নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই।

বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা আমাকে সাজা দিয়েছে এবং আমি হয়ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করবে? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, তবে জনগণকে সেটা সিদ্ধান্ত নিতে দিন।”

৫ আগস্ট ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাসভবনের দিকে জনতা এগিয়ে আসায় জীবন শঙ্কার কারণেই তিনি দেশ ছাড়েন। তবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন তা সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেননি। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে শেখ হাসিনার মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
print news

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসিত থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই এই কথা জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, শুধু তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। তিনি বলেন, “আমি সবাইকে বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরব। তোমাদেরও একদিন ফিরতে হবে। সবাই মিলে আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করব।” এর আগে ইমেইলে এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ বছরই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে এবারই প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্ট সময়ের আভাস দিলেন।

দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার বা হত্যার আশঙ্কা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে।” ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ভারত তাকে আশ্রয় দেওয়ায় ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন চললেও শেখ হাসিনা দাবি করেন, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, “আমি ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেই মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক—আর আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।” কারাগারে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এর আগেও ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে ফেরার পর এবং ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল, তাই এ নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই।

বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা আমাকে সাজা দিয়েছে এবং আমি হয়ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করবে? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, তবে জনগণকে সেটা সিদ্ধান্ত নিতে দিন।”

৫ আগস্ট ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাসভবনের দিকে জনতা এগিয়ে আসায় জীবন শঙ্কার কারণেই তিনি দেশ ছাড়েন। তবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন তা সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেননি। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে শেখ হাসিনার মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।