ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুড়িগ্রাম ভূরুঙ্গামারী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শতাধিক দোকান পুড়ে ছাই পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু ভোলায় তরুনীকে গণধর্ষনের অভিযোগে আটক-৩ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ আরপিএমপির অভিযানে ২৪ ঘন্টায় (২৪) জন গ্রেফতার, মাদক ও জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার বীরগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় কথিত কাজী লম্পট রয়েল গ্রেফতার রূপগঞ্জে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে আতঙ্কে হাজারো মানুষ ফ্ল্যাশিংয়ে দগ্ধ দোকানদার, শতাধিক দুর্ঘটনার অভিযোগ; লাইন অপসারণের দাবিতে গ্রামবাসী ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ফুলবাড়ী শাখার গ্রাহকদের মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত অসহায় মানুষের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে, এমপি মনজুরুল ইসলাম কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন রবিউল ইসলাম নয়ন

রূপগঞ্জে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে আতঙ্কে হাজারো মানুষ ফ্ল্যাশিংয়ে দগ্ধ দোকানদার, শতাধিক দুর্ঘটনার অভিযোগ; লাইন অপসারণের দাবিতে গ্রামবাসী

মোঃ ইসমাইল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ০৫:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ ইসমাইল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের কেশরাব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাঞ্চন পূর্বাচল পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের ফ্ল্যাশিং ও স্পার্কিংয়ের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে মানুষের জীবন, গবাদিপশু এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

সবশেষ গত ২৭ মে ঈদের আগের দিন বিদ্যুতের আগুনে ঝলসে যান আরিফ নামে এক স্থানীয় দোকানদার। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এ ঘটনা দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের ফল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বাচলে অবস্থিত ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কাঞ্চন পূর্বাচল পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য নির্মিত লাইনটি নির্ধারিত রুট ব্যবহার না করে কেশরাব গ্রামের ওপর দিয়ে নেওয়া হয়েছে। জনগণের আপত্তি সত্ত্বেও প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় লাইনটি নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ তাদের।

এলাকাবাসী জানান, লাইনটি চালুর পর থেকে শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। হাইভোল্টেজ ফ্ল্যাশিংয়ের কারণে ঘরের টিভি, ফ্রিজ, আইপিএস, বৈদ্যুতিক মিটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে বসতবাড়িতে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া গবাদিপশু ও মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উচ্চ ভোল্টেজ লাইনের পোলের নিচেই পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ লাইন ও ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই লাইনের নিচ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

দগ্ধ দোকানদার আরিফ বলেন, “এখানে প্রায়ই আগুনের ফুলকি পড়ে। বহুবার অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি। ঈদের আগের দিন হঠাৎ তার থেকে আগুন ছিটকে আমার শরীরে পড়ে। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।”

স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন সিদ্দিকী বলেন, “আমার বাড়ির আইপিএস, ফ্রিজ, সাবমার্সিবল মোটর ও মিটারসহ প্রায় সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বারবার মেরামত করেও লাভ হচ্ছে না।”

নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, বিদ্যুতের ফ্ল্যাশিংয়ের কারণে তার একটি গরু মারা যায়। ক্ষতিপূরণের আশ্বাস পেলেও সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ তিনি পাননি।

কেশরাব ও দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম বলেন, “একটু বাতাস হলেই তারে তারে ঘষা লেগে আগুন জ্বলে ওঠে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকে। মসজিদের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও নষ্ট হয়েছে।”

রিকশাচালক ও মৎস্যচাষি আলামিন বলেন, “বিদ্যুতের ফায়ারিংয়ের কারণে আমার পুকুরের মাছ মারা গেছে। কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। এতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ লাইন অপসারণ অথবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রূপগঞ্জে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে আতঙ্কে হাজারো মানুষ ফ্ল্যাশিংয়ে দগ্ধ দোকানদার, শতাধিক দুর্ঘটনার অভিযোগ; লাইন অপসারণের দাবিতে গ্রামবাসী

আপডেট সময় : ০৫:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
print news

মোঃ ইসমাইল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের কেশরাব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাঞ্চন পূর্বাচল পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের ফ্ল্যাশিং ও স্পার্কিংয়ের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে মানুষের জীবন, গবাদিপশু এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

সবশেষ গত ২৭ মে ঈদের আগের দিন বিদ্যুতের আগুনে ঝলসে যান আরিফ নামে এক স্থানীয় দোকানদার। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এ ঘটনা দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের ফল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বাচলে অবস্থিত ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কাঞ্চন পূর্বাচল পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য নির্মিত লাইনটি নির্ধারিত রুট ব্যবহার না করে কেশরাব গ্রামের ওপর দিয়ে নেওয়া হয়েছে। জনগণের আপত্তি সত্ত্বেও প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় লাইনটি নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ তাদের।

এলাকাবাসী জানান, লাইনটি চালুর পর থেকে শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। হাইভোল্টেজ ফ্ল্যাশিংয়ের কারণে ঘরের টিভি, ফ্রিজ, আইপিএস, বৈদ্যুতিক মিটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে বসতবাড়িতে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া গবাদিপশু ও মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উচ্চ ভোল্টেজ লাইনের পোলের নিচেই পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ লাইন ও ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই লাইনের নিচ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

দগ্ধ দোকানদার আরিফ বলেন, “এখানে প্রায়ই আগুনের ফুলকি পড়ে। বহুবার অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি। ঈদের আগের দিন হঠাৎ তার থেকে আগুন ছিটকে আমার শরীরে পড়ে। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।”

স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন সিদ্দিকী বলেন, “আমার বাড়ির আইপিএস, ফ্রিজ, সাবমার্সিবল মোটর ও মিটারসহ প্রায় সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বারবার মেরামত করেও লাভ হচ্ছে না।”

নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, বিদ্যুতের ফ্ল্যাশিংয়ের কারণে তার একটি গরু মারা যায়। ক্ষতিপূরণের আশ্বাস পেলেও সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ তিনি পাননি।

কেশরাব ও দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম বলেন, “একটু বাতাস হলেই তারে তারে ঘষা লেগে আগুন জ্বলে ওঠে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকে। মসজিদের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও নষ্ট হয়েছে।”

রিকশাচালক ও মৎস্যচাষি আলামিন বলেন, “বিদ্যুতের ফায়ারিংয়ের কারণে আমার পুকুরের মাছ মারা গেছে। কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। এতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ লাইন অপসারণ অথবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।