ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু অনারারি ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি প্রাণ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি হাসিনাকে ‘অমূল্য সম্পদ’ বলা চসিক সচিবের অডিও ফাঁস কিশোরগঞ্জে ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ালো অস্ট্রেলিয়া, লিড মাত্র ১৫ রানের

আয়নাঘর: নিঃশব্দ দেয়ালের পেছনে লুকানো সত্য

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:১৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ২৪১ বার পড়া হয়েছে

আয়নাঘর: নিঃশব্দ দেয়ালের পেছনে লুকানো সত্য

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
ঢাকার রহস্যময় বন্দিশালা আয়নাঘর—একটি নাম, যা দীর্ঘদিন ছিল শুধুই গুজব, ফিসফাসের বিষয়। কিন্তু এখন, যখন এটি প্রকাশ্যে এসেছে, তখন উঠে আসছে ভয়াবহ সব গল্প—গুম, নির্যাতন, নিঃশব্দ মৃত্যু।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন এই গোপন বন্দিশালাটি পরিদর্শন করেন, তখন সেখানে অতীতের নির্দয়তার চিহ্ন মুছে ফেলার সব চেষ্টাই স্পষ্ট ছিল। দেয়ালগুলোর ওপর নতুন রং, মুছে দেওয়া বন্দিদের লেখা, ভেঙে ফেলা বিভাজনগুলো যেন এক ইতিহাসকে গোপন করার ব্যর্থ প্রয়াস।

কিন্তু ইতিহাস কি এত সহজে হারিয়ে যায়?

গুম কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের বর্ণনা করা নির্যাতনের কক্ষগুলো অনেকটাই অক্ষত থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ আলামত চিরতরে হারিয়ে গেছে। ব্যবহৃত নির্যাতনের সরঞ্জাম বা গোপন সিসিটিভির ফুটেজের কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে প্রশ্ন ওঠে—কারা এসব মুছে দিল? কেন?

বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর অন্ধকার কক্ষে কাটিয়ে দেওয়া সেই দিনগুলোর কথা। সেখানে সময় থমকে থাকত, বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সমস্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। শুধু নির্যাতন, আরেকটি নতুন দিনের ভয়।

সরকার বলছে, আয়নাঘর সিলগালা থাকবে, তদন্ত চলবে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—এই তদন্ত কি শুধুই লোক দেখানো, নাকি সত্যিকার বিচার হবে? যারা নিখোঁজ হয়েছিল, যারা ফিরেও আসেনি—তাদের স্মৃতি কি এই দেয়ালের রঙের নিচে ঢাকা পড়ে যাবে? নাকি একদিন সত্যের আলোয় উন্মোচিত হবে আয়নাঘরের অন্ধকার অধ্যায়?
সময় দেবে সেই উত্তর।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

আয়নাঘর: নিঃশব্দ দেয়ালের পেছনে লুকানো সত্য

আপডেট সময় : ১২:১৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
ঢাকার রহস্যময় বন্দিশালা আয়নাঘর—একটি নাম, যা দীর্ঘদিন ছিল শুধুই গুজব, ফিসফাসের বিষয়। কিন্তু এখন, যখন এটি প্রকাশ্যে এসেছে, তখন উঠে আসছে ভয়াবহ সব গল্প—গুম, নির্যাতন, নিঃশব্দ মৃত্যু।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন এই গোপন বন্দিশালাটি পরিদর্শন করেন, তখন সেখানে অতীতের নির্দয়তার চিহ্ন মুছে ফেলার সব চেষ্টাই স্পষ্ট ছিল। দেয়ালগুলোর ওপর নতুন রং, মুছে দেওয়া বন্দিদের লেখা, ভেঙে ফেলা বিভাজনগুলো যেন এক ইতিহাসকে গোপন করার ব্যর্থ প্রয়াস।

কিন্তু ইতিহাস কি এত সহজে হারিয়ে যায়?

গুম কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের বর্ণনা করা নির্যাতনের কক্ষগুলো অনেকটাই অক্ষত থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ আলামত চিরতরে হারিয়ে গেছে। ব্যবহৃত নির্যাতনের সরঞ্জাম বা গোপন সিসিটিভির ফুটেজের কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে প্রশ্ন ওঠে—কারা এসব মুছে দিল? কেন?

বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর অন্ধকার কক্ষে কাটিয়ে দেওয়া সেই দিনগুলোর কথা। সেখানে সময় থমকে থাকত, বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সমস্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। শুধু নির্যাতন, আরেকটি নতুন দিনের ভয়।

সরকার বলছে, আয়নাঘর সিলগালা থাকবে, তদন্ত চলবে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—এই তদন্ত কি শুধুই লোক দেখানো, নাকি সত্যিকার বিচার হবে? যারা নিখোঁজ হয়েছিল, যারা ফিরেও আসেনি—তাদের স্মৃতি কি এই দেয়ালের রঙের নিচে ঢাকা পড়ে যাবে? নাকি একদিন সত্যের আলোয় উন্মোচিত হবে আয়নাঘরের অন্ধকার অধ্যায়?
সময় দেবে সেই উত্তর।