ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের শক্তি নিয়ে বিশিষ্টজনদের মতামত ও জরিপ ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত নগরায়নে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে অগ্নিকাণ্ড: রহস্য ও ধোঁয়াশা গুলশানে গোপন বৈঠককালে আটক আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মীর রিমান্ড মঞ্জুর ঈদে মিলাদুন্নবী: যেভাবে মিলবে টানা চার দিনের ছুটি শর্ত না মানলে খুলবে না হরমুজ প্রণালি, জানাল আইআরজিসি ১৭ সেনা নিহতের পর হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনি বাহিনীর পাল্টা অভিযান ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ওপর হামলার জবাবে শিবিরকে প্রতিহত করেছি : নাছির রাজধানীর মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল তরুণের হবিগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে কুপিয়ে যুবককে হত্যা

আয়নাঘর: নিঃশব্দ দেয়ালের পেছনে লুকানো সত্য

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:১৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ২৩৪ বার পড়া হয়েছে

আয়নাঘর: নিঃশব্দ দেয়ালের পেছনে লুকানো সত্য

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
ঢাকার রহস্যময় বন্দিশালা আয়নাঘর—একটি নাম, যা দীর্ঘদিন ছিল শুধুই গুজব, ফিসফাসের বিষয়। কিন্তু এখন, যখন এটি প্রকাশ্যে এসেছে, তখন উঠে আসছে ভয়াবহ সব গল্প—গুম, নির্যাতন, নিঃশব্দ মৃত্যু।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন এই গোপন বন্দিশালাটি পরিদর্শন করেন, তখন সেখানে অতীতের নির্দয়তার চিহ্ন মুছে ফেলার সব চেষ্টাই স্পষ্ট ছিল। দেয়ালগুলোর ওপর নতুন রং, মুছে দেওয়া বন্দিদের লেখা, ভেঙে ফেলা বিভাজনগুলো যেন এক ইতিহাসকে গোপন করার ব্যর্থ প্রয়াস।

কিন্তু ইতিহাস কি এত সহজে হারিয়ে যায়?

গুম কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের বর্ণনা করা নির্যাতনের কক্ষগুলো অনেকটাই অক্ষত থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ আলামত চিরতরে হারিয়ে গেছে। ব্যবহৃত নির্যাতনের সরঞ্জাম বা গোপন সিসিটিভির ফুটেজের কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে প্রশ্ন ওঠে—কারা এসব মুছে দিল? কেন?

বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর অন্ধকার কক্ষে কাটিয়ে দেওয়া সেই দিনগুলোর কথা। সেখানে সময় থমকে থাকত, বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সমস্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। শুধু নির্যাতন, আরেকটি নতুন দিনের ভয়।

সরকার বলছে, আয়নাঘর সিলগালা থাকবে, তদন্ত চলবে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—এই তদন্ত কি শুধুই লোক দেখানো, নাকি সত্যিকার বিচার হবে? যারা নিখোঁজ হয়েছিল, যারা ফিরেও আসেনি—তাদের স্মৃতি কি এই দেয়ালের রঙের নিচে ঢাকা পড়ে যাবে? নাকি একদিন সত্যের আলোয় উন্মোচিত হবে আয়নাঘরের অন্ধকার অধ্যায়?
সময় দেবে সেই উত্তর।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

আয়নাঘর: নিঃশব্দ দেয়ালের পেছনে লুকানো সত্য

আপডেট সময় : ১২:১৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
print news

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
ঢাকার রহস্যময় বন্দিশালা আয়নাঘর—একটি নাম, যা দীর্ঘদিন ছিল শুধুই গুজব, ফিসফাসের বিষয়। কিন্তু এখন, যখন এটি প্রকাশ্যে এসেছে, তখন উঠে আসছে ভয়াবহ সব গল্প—গুম, নির্যাতন, নিঃশব্দ মৃত্যু।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন এই গোপন বন্দিশালাটি পরিদর্শন করেন, তখন সেখানে অতীতের নির্দয়তার চিহ্ন মুছে ফেলার সব চেষ্টাই স্পষ্ট ছিল। দেয়ালগুলোর ওপর নতুন রং, মুছে দেওয়া বন্দিদের লেখা, ভেঙে ফেলা বিভাজনগুলো যেন এক ইতিহাসকে গোপন করার ব্যর্থ প্রয়াস।

কিন্তু ইতিহাস কি এত সহজে হারিয়ে যায়?

গুম কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের বর্ণনা করা নির্যাতনের কক্ষগুলো অনেকটাই অক্ষত থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ আলামত চিরতরে হারিয়ে গেছে। ব্যবহৃত নির্যাতনের সরঞ্জাম বা গোপন সিসিটিভির ফুটেজের কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে প্রশ্ন ওঠে—কারা এসব মুছে দিল? কেন?

বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর অন্ধকার কক্ষে কাটিয়ে দেওয়া সেই দিনগুলোর কথা। সেখানে সময় থমকে থাকত, বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সমস্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। শুধু নির্যাতন, আরেকটি নতুন দিনের ভয়।

সরকার বলছে, আয়নাঘর সিলগালা থাকবে, তদন্ত চলবে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—এই তদন্ত কি শুধুই লোক দেখানো, নাকি সত্যিকার বিচার হবে? যারা নিখোঁজ হয়েছিল, যারা ফিরেও আসেনি—তাদের স্মৃতি কি এই দেয়ালের রঙের নিচে ঢাকা পড়ে যাবে? নাকি একদিন সত্যের আলোয় উন্মোচিত হবে আয়নাঘরের অন্ধকার অধ্যায়?
সময় দেবে সেই উত্তর।