ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু অনারারি ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি প্রাণ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি হাসিনাকে ‘অমূল্য সম্পদ’ বলা চসিক সচিবের অডিও ফাঁস কিশোরগঞ্জে ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ালো অস্ট্রেলিয়া, লিড মাত্র ১৫ রানের

জামালপুরে একদিনে ৮ সন্তানের জন্ম দিলেন দুই মা 

মোঃ কবির হোসেন, জামালপুরঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৩ ৩২৩ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরে একদিনে ৮ সন্তানের জন্ম দিলেন দুই মা 

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ কবির হোসেন, জামালপুরঃ

একে একে আটটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন জামালপুরের দুই মা। এক মা সন্ধায় ও আরেক মা রাতে জন্ম দেন আট সন্তানের।

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৭ টার দিকে জামালপুর শহরের দেওয়ানপাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনে ৪টি কন্যা সন্তান প্রসব করে আঞ্জুয়ারা বেগম। গর্ভকালীন সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে তিনটি শিশু গর্ভে থাকার কথা জানলেও অপারেশনের পর ৪টি কন্যা সন্তান পেয়ে উচ্ছসিত স্বজনেরা।

৪ কন্যা শিশুর ফুপু ছানোয়ারা বেগম এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা আগে আল্ট্রাসনোগ্রাম করেছিলাম। তখন পেটে তিনটি শিশু আছে বলে জানতে পারি। গর্ভে শিশুদের নাড়াচাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বুধবার বিকালে ক্লিনিকে ভর্তি করি। এরপর ডাক্তার সিজারের সিদ্ধান্ত নেয়। সিজারের পর আমরা দেখি ৪টি কন্যা সন্তান। আলহামদুলিল্লাহ। আমরা এখন অনেক খুশি।

অপারেশনের পরই নবজাতক ৪ কন্যা শিশুকে পাঠানো হয় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে ৪ কন্যা শিশুকে বিশেষায়িত নবজাতক সেবাকেন্দ্রে রাখেন কর্মরত চিকিৎসক। বিয়ের সাত বছর পর একসাথে চার কন্যা সন্তানের জনক হতে পেরে আবেগে আপ্লুত আতাউর হোসেন বাবু। পেশায় দরিদ্র কাঠ মিস্ত্রি বাবু মিয়া এই সন্তান পালনে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা।

জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর সরিষাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান বাবু বলেন, আমি সাত বছর আগে বিয়ে করি। আমাদের কোনো সন্তান হয় না। আমরা আল্লাহর কাছে একটি সন্তান ভিক্ষা চেয়েছি অনেকবার। আজ আল্লাহ আমার দিকে তাকাইছে। আমি অনেক খুশি।

আতাউর রহমান বাবু আরও বলেন, আমি অনেক গরীব। এখন কীভাবে এই মেয়েদের লালন পালন করব। সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি। প্রধানমন্ত্রী যদি একটু সহায়তা করতো তাহলে আমি এই সন্তানদের লালন পালন করতে পারতাম।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে সাজু-দুলেনা দম্পতির কোলে আসে আরও ৪টি সন্তান। তিন কন্যা সন্তান স্বাভাবিক থাকলেও মারা যায় একটি ছেলে সন্তান। আগের ৫টিসহ মোট ৮ সন্তানের পিতা হতে পেরে আনন্দে আত্মহারা সাজু মিয়া।

জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের পোড়ার চর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক সাজু মিয়া বলেন, আমার ৫টি সন্তান রয়েছে। আজ আরও ৩টি সন্তানের বাবা হলাম। মোট ৮ সন্তানের বাবা হলাম। আমি আমার আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না। হাসপাতাল চত্বরে শিশুদের স্বজনদের মাঝে চলছে খুশির আমেজ।

বাবু-আঞ্জুয়ারা দম্পত্তির স্বজন মুসলিম উদ্দিন বলেন, আমি এই ঘটনা শোনার পরেই এই শীতের মধ্যে সরিষাবাড়ি থেকে চলে এসেছি। আমরা খুব খুশি। এখন এই বাচ্চাগুলো লালন পালন নিয়েই আমরা চিন্তায় পড়ে গেলাম।

শিশুদের দাদী জমিলা বেগম বলেন, আমার ছেলের ঘরের সন্তান হয় না। তাই আমি সাত বছর ধরে অনেক আফসোস করেছি। আজ আল্লাহ আমার কোল ভরে দিয়েছে। আমি অনেক খুশি। এখন কাকে ছেড়ে কাকে কোলে নেব। সেটাই বুঝতে পারছি না।

একই দিনে দুই নারীর আট সন্তান প্রসবের ঘটনা আগে দেখেনি হাসপাতালের কর্মচারীরা। শিশুদের দেখতে হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স শিউলি খানম বলেন, আমি ১০ বছর ধরে প্রসূতি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে কখনও একই দিনে দুই নারীর ৮ সন্তান প্রসবের ঘটনা দেখি নিই। আমি অবাক হয়ে গেছি।

তবে চিকিৎসক বলছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করায় শিশুদের ওজন কম থাকায় কিছুটা ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা ।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রসন দেবনাথ বলেন, হাসপাতালে থাকা প্রতিটি শিশুই নির্ধারিত সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করেছে। প্রত্যেকের ওজন স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে কম। সাধারণত যেসব শিশুর ওজন একটু কম তাদের কিছুটা ঝুকি থাকেই। আমরা আমাদের সাধ্যমত এসব শিশুদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

জামালপুরে একদিনে ৮ সন্তানের জন্ম দিলেন দুই মা 

আপডেট সময় : ০৩:২১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৩

মোঃ কবির হোসেন, জামালপুরঃ

একে একে আটটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন জামালপুরের দুই মা। এক মা সন্ধায় ও আরেক মা রাতে জন্ম দেন আট সন্তানের।

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৭ টার দিকে জামালপুর শহরের দেওয়ানপাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনে ৪টি কন্যা সন্তান প্রসব করে আঞ্জুয়ারা বেগম। গর্ভকালীন সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে তিনটি শিশু গর্ভে থাকার কথা জানলেও অপারেশনের পর ৪টি কন্যা সন্তান পেয়ে উচ্ছসিত স্বজনেরা।

৪ কন্যা শিশুর ফুপু ছানোয়ারা বেগম এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা আগে আল্ট্রাসনোগ্রাম করেছিলাম। তখন পেটে তিনটি শিশু আছে বলে জানতে পারি। গর্ভে শিশুদের নাড়াচাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বুধবার বিকালে ক্লিনিকে ভর্তি করি। এরপর ডাক্তার সিজারের সিদ্ধান্ত নেয়। সিজারের পর আমরা দেখি ৪টি কন্যা সন্তান। আলহামদুলিল্লাহ। আমরা এখন অনেক খুশি।

অপারেশনের পরই নবজাতক ৪ কন্যা শিশুকে পাঠানো হয় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে ৪ কন্যা শিশুকে বিশেষায়িত নবজাতক সেবাকেন্দ্রে রাখেন কর্মরত চিকিৎসক। বিয়ের সাত বছর পর একসাথে চার কন্যা সন্তানের জনক হতে পেরে আবেগে আপ্লুত আতাউর হোসেন বাবু। পেশায় দরিদ্র কাঠ মিস্ত্রি বাবু মিয়া এই সন্তান পালনে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা।

জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর সরিষাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান বাবু বলেন, আমি সাত বছর আগে বিয়ে করি। আমাদের কোনো সন্তান হয় না। আমরা আল্লাহর কাছে একটি সন্তান ভিক্ষা চেয়েছি অনেকবার। আজ আল্লাহ আমার দিকে তাকাইছে। আমি অনেক খুশি।

আতাউর রহমান বাবু আরও বলেন, আমি অনেক গরীব। এখন কীভাবে এই মেয়েদের লালন পালন করব। সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি। প্রধানমন্ত্রী যদি একটু সহায়তা করতো তাহলে আমি এই সন্তানদের লালন পালন করতে পারতাম।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে সাজু-দুলেনা দম্পতির কোলে আসে আরও ৪টি সন্তান। তিন কন্যা সন্তান স্বাভাবিক থাকলেও মারা যায় একটি ছেলে সন্তান। আগের ৫টিসহ মোট ৮ সন্তানের পিতা হতে পেরে আনন্দে আত্মহারা সাজু মিয়া।

জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের পোড়ার চর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক সাজু মিয়া বলেন, আমার ৫টি সন্তান রয়েছে। আজ আরও ৩টি সন্তানের বাবা হলাম। মোট ৮ সন্তানের বাবা হলাম। আমি আমার আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না। হাসপাতাল চত্বরে শিশুদের স্বজনদের মাঝে চলছে খুশির আমেজ।

বাবু-আঞ্জুয়ারা দম্পত্তির স্বজন মুসলিম উদ্দিন বলেন, আমি এই ঘটনা শোনার পরেই এই শীতের মধ্যে সরিষাবাড়ি থেকে চলে এসেছি। আমরা খুব খুশি। এখন এই বাচ্চাগুলো লালন পালন নিয়েই আমরা চিন্তায় পড়ে গেলাম।

শিশুদের দাদী জমিলা বেগম বলেন, আমার ছেলের ঘরের সন্তান হয় না। তাই আমি সাত বছর ধরে অনেক আফসোস করেছি। আজ আল্লাহ আমার কোল ভরে দিয়েছে। আমি অনেক খুশি। এখন কাকে ছেড়ে কাকে কোলে নেব। সেটাই বুঝতে পারছি না।

একই দিনে দুই নারীর আট সন্তান প্রসবের ঘটনা আগে দেখেনি হাসপাতালের কর্মচারীরা। শিশুদের দেখতে হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স শিউলি খানম বলেন, আমি ১০ বছর ধরে প্রসূতি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে কখনও একই দিনে দুই নারীর ৮ সন্তান প্রসবের ঘটনা দেখি নিই। আমি অবাক হয়ে গেছি।

তবে চিকিৎসক বলছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করায় শিশুদের ওজন কম থাকায় কিছুটা ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা ।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রসন দেবনাথ বলেন, হাসপাতালে থাকা প্রতিটি শিশুই নির্ধারিত সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করেছে। প্রত্যেকের ওজন স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে কম। সাধারণত যেসব শিশুর ওজন একটু কম তাদের কিছুটা ঝুকি থাকেই। আমরা আমাদের সাধ্যমত এসব শিশুদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।