ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু অনারারি ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি প্রাণ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি হাসিনাকে ‘অমূল্য সম্পদ’ বলা চসিক সচিবের অডিও ফাঁস কিশোরগঞ্জে ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ালো অস্ট্রেলিয়া, লিড মাত্র ১৫ রানের

শেরপুরে জমি রেজিস্ট্রিতে চরম ভোগান্তি।

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৪৩৫ বার পড়া হয়েছে

0-4064x3048-0-0-{}-0-12#

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মোট ২৩৬টি মৌজা নিয়ে গঠিত। প্রতিদিনই এখানে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কার্যক্রম চলমান থাকে। আর এই জমি ক্রয়-বিক্রয়ের অন্যতম প্রধান ধাপ হলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন। কিন্তু স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় শেরপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে ১৫০টি জমির দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার চাহিদা রয়েছে। অথচ এখানে কোনো স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অন্য একটি অফিস থেকে আগত সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এর ফলে সপ্তাহের পাঁচ দিনের কাজ এসে জমা হচ্ছে ওই দুই দিনে। এতে করে অফিসে তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশ। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই দিন শেষে দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীরা জানান, সময় স্বল্পতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দলিলের স্বাক্ষরের আগেই ক্রেতার কাছ থেকে বিক্রেতা টাকা বুঝে নিচ্ছেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না হওয়ায় ক্রেতারা পড়ছেন অনিশ্চয়তায়। অনেক সময় এমন ঘটনাও ঘটছে যে, দলিল রেজিস্ট্রি না করেই ফিরে যাওয়ার পর বিক্রেতা আর জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা টাকা দিয়ে দিচ্ছি, কিন্তু দলিল হচ্ছে না। পরে বিক্রেতা যদি মত পরিবর্তন করে, তাহলে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।”

এদিকে আবার দলিল লেখকেরাও পরছে বিপাকে, সেবা দানকারীদের সঠিক সময়ে সেবা দিতে না পেরে তাদের কর্ম অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
অনেকেই মনে করছেন এই পরিস্থিতি জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লেখক সহ ভুক্তভোগীরা। তারা শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শেরপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি এস এম ফেরদৌস বলেন, আমরা এই সমস্যা নিরসনের জন্য দলিল লেখকরা সবাই মিলে কর্তৃপক্ষের বরাবর আবেদন করেছি দ্রুতই এই জটিলতা নিষ্পত্তি হবে।

শেরপুরের মতো একটি ব্যস্ত উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকা শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, এটি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

শেরপুরে জমি রেজিস্ট্রিতে চরম ভোগান্তি।

আপডেট সময় : ১২:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মোট ২৩৬টি মৌজা নিয়ে গঠিত। প্রতিদিনই এখানে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কার্যক্রম চলমান থাকে। আর এই জমি ক্রয়-বিক্রয়ের অন্যতম প্রধান ধাপ হলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন। কিন্তু স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় শেরপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে ১৫০টি জমির দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার চাহিদা রয়েছে। অথচ এখানে কোনো স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অন্য একটি অফিস থেকে আগত সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এর ফলে সপ্তাহের পাঁচ দিনের কাজ এসে জমা হচ্ছে ওই দুই দিনে। এতে করে অফিসে তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশ। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই দিন শেষে দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীরা জানান, সময় স্বল্পতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দলিলের স্বাক্ষরের আগেই ক্রেতার কাছ থেকে বিক্রেতা টাকা বুঝে নিচ্ছেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না হওয়ায় ক্রেতারা পড়ছেন অনিশ্চয়তায়। অনেক সময় এমন ঘটনাও ঘটছে যে, দলিল রেজিস্ট্রি না করেই ফিরে যাওয়ার পর বিক্রেতা আর জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা টাকা দিয়ে দিচ্ছি, কিন্তু দলিল হচ্ছে না। পরে বিক্রেতা যদি মত পরিবর্তন করে, তাহলে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।”

এদিকে আবার দলিল লেখকেরাও পরছে বিপাকে, সেবা দানকারীদের সঠিক সময়ে সেবা দিতে না পেরে তাদের কর্ম অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
অনেকেই মনে করছেন এই পরিস্থিতি জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লেখক সহ ভুক্তভোগীরা। তারা শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শেরপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি এস এম ফেরদৌস বলেন, আমরা এই সমস্যা নিরসনের জন্য দলিল লেখকরা সবাই মিলে কর্তৃপক্ষের বরাবর আবেদন করেছি দ্রুতই এই জটিলতা নিষ্পত্তি হবে।

শেরপুরের মতো একটি ব্যস্ত উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকা শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, এটি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে।