ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জের হাড়ের গুঁড়ো এখন ওষুধ শিল্পের বড় চাহিদা মেটাচ্ছে অর্থনৈতিক চাপে ‘ভূমিকম্পের মতো’ পাল্টা আঘাতের হুমকি ইরানের ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জামায়াত ১৬ বছর আ.লীগের ভেতরে লুকিয়ে ছিল: রাশেদ খাঁন নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে’ পাঠানোর হুঁশিয়ারি ইরানি জেনারেলের মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা: চীন-ভারতের নতুন ভূরাজনৈতিক রণক্ষেত্র সবজির দাম কমলেও নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ ভারতীয় আটক প্রযুক্তির যুগে দাওয়াহর সম্ভাবনা ও দাঈদের নিয়ত রক্ষার চ্যালেঞ্জ নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২

অনুমতি না নিয়ে অন্যের ঘরে ঢোকার অভ্যাস কেন ক্ষতিকর, বদলাবেন কীভাবে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনেকেরই অভ্যাস থাকে কারও রুমে ঢোকার আগে দরজায় নক বা টোকা না দেওয়া। বিষয়টি ঘরের ভেতরে থাকা মানুষের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন ধরা যাক, ছুটির বিকেলে শোবার ঘরে বসে স্বামী-স্ত্রী মিলে হয়তো ল্যাপটপ বা টিভিতে কোনো সিনেমা দেখছেন। হুট করেই কোনো অনুমতি ছাড়া দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়লেন দেবর। জানতে চাইলেন, তারা কী করছেন এবং তাকে কেন ডাকা হলো না। এই একটি ছোট্ট ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে দুজনের একান্ত ব্যক্তিগত সময়টি আর ব্যক্তিগত থাকে না। নিজের বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি কিংবা আলাদা সংসার—সবখানেই প্রতিদিন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় অনেককে। অথচ দরজায় একটি ছোট্ট টোকাই দুই পক্ষের জন্য অনেক স্বস্তি এনে দিতে পারে।

আমাদের সমাজে অনেকের কাছে বন্ধ দরজা মানেই সেখানে কোনো ব্যস্ততা নয়, বরং ভেতরে কী হচ্ছে তা দেখার কৌতূহল। আবার দরজায় টোকা না দিয়ে সরাসরি ঢুকে পড়া অন্যকে গুরুত্ব না দেওয়ারও বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। মনোবিদদের মতে, এই আচরণের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পারিবারিক অভ্যাসের অভাব। ছোটবেলা থেকে পরিবারে কারও ঘরে ঢোকার আগে অনুমতি নেওয়ার চল না থাকলে বড় হয়েও সেই অভ্যাস গড়ে ওঠে না। কারণ শিশুরা বড়দের আচরণ দেখেই শেখে।

পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিসর বা প্রাইভেসি সম্পর্কে অসচেতনতাও এর জন্য দায়ী। অনেকেই ভাবেন, নিজের মানুষ বা কাছের মানুষের ঘরে ঢুকতে আবার অনুমতির কী প্রয়োজন! অতিরিক্ত আপন ভাবা বা নিছক কৌতূহল থেকেও এমনটা হতে পারে। এছাড়া নতুন কোনো সম্পর্ক বা শ্বশুরবাড়ির মতো পরিবেশে অনেকের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা বা অনিশ্চয়তা কাজ করে। তারা মনে করতে পারেন যে কাছের মানুষটি হয়তো আগের মতো আপন নেই। এই মানসিকতা থেকেও অন্যের ব্যক্তিগত জীবনে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়ার বা নজর রাখার প্রবণতা তৈরি হয়। সর্বোপরি, যে পরিবারে মা-বাবা কিংবা ভাইবোনদের মধ্যে একে অপরের ঘরে ঢোকার আগে নক করার অভ্যাস নেই, সেখানে এটিকেই স্বাভাবিক আচরণ মনে করা হয়। ফলে ব্যক্তিগত সীমানা রক্ষা করা যে সম্পর্কেরই একটি অংশ, তা আর শেখা হয়ে ওঠে না।

বিশেষ করে দুটি জায়গায় প্রবেশের আগে দরজায় নক করা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমটি হলো শোবার ঘর বা ব্যক্তিগত কাজের জায়গা এবং দ্বিতীয়টি হলো বাথরুম বা পোশাক পরিবর্তনের স্থান।

বেসরকারি সংস্থা ‘মনের বন্ধু’র হেড অব মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম এবং লিড সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলর কাজী রুমানা হক জানান, কারও ঘরে ঢোকার আগে দরজায় নক করা কেবল সাধারণ ভদ্রতা নয়, এটি অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও অংশ। অনেক পরিবারেই এই অভ্যাসের ঘাটতি থাকে। শুধু নতুন দম্পতিই নন, অনেক সময় মা-বাবার ঘরে ঢোকার আগেও সন্তানরা নক করে না। অথচ প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব একটি ব্যক্তিগত পরিসর থাকা প্রয়োজন।

এই আচরণ বা অভ্যাসে পরিবর্তন আনা সম্ভব। শৈশব থেকেই মা-বাবার আচরণ দেখে শিশুরা ব্যক্তিগত পরিসরের ধারণা পায়। তাই মা-বাবা যদি সন্তানের ঘরে ঢোকার আগে দরজায় টোকা দেওয়ার অভ্যাস করেন, তবে শিশুর মধ্যেও এই ভালো অভ্যাসটি গড়ে উঠবে। অন্যদিকে বড়দের ক্ষেত্রে পুরনো অভ্যাস বদলানো কিছুটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এ জন্য ঘরের দরজায় নক করার কথা বারবার মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে নিজের আচরণের প্রতিও নিবিড় মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। আচরণ পরিবর্তনের নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব। তবে কেউ যদি নিজে থেকে এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হন, তবে পেশাদার মনোবিজ্ঞানী বা সাইকোথেরাপিস্টের সাহায্য নিতে পারেন।

অথচ সবারই নিজের একটি ব্যক্তিগত পরিসর আছে।১.

তাই মা–বাবা যদি সন্তানের ঘরে ঢোকার আগে নক করেন, ধীরে ধীরে শিশুর মধ্যেও একই অভ্যাস তৈরি হবে।২.

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

অনুমতি না নিয়ে অন্যের ঘরে ঢোকার অভ্যাস কেন ক্ষতিকর, বদলাবেন কীভাবে

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

অনেকেরই অভ্যাস থাকে কারও রুমে ঢোকার আগে দরজায় নক বা টোকা না দেওয়া। বিষয়টি ঘরের ভেতরে থাকা মানুষের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন ধরা যাক, ছুটির বিকেলে শোবার ঘরে বসে স্বামী-স্ত্রী মিলে হয়তো ল্যাপটপ বা টিভিতে কোনো সিনেমা দেখছেন। হুট করেই কোনো অনুমতি ছাড়া দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়লেন দেবর। জানতে চাইলেন, তারা কী করছেন এবং তাকে কেন ডাকা হলো না। এই একটি ছোট্ট ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে দুজনের একান্ত ব্যক্তিগত সময়টি আর ব্যক্তিগত থাকে না। নিজের বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি কিংবা আলাদা সংসার—সবখানেই প্রতিদিন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় অনেককে। অথচ দরজায় একটি ছোট্ট টোকাই দুই পক্ষের জন্য অনেক স্বস্তি এনে দিতে পারে।

আমাদের সমাজে অনেকের কাছে বন্ধ দরজা মানেই সেখানে কোনো ব্যস্ততা নয়, বরং ভেতরে কী হচ্ছে তা দেখার কৌতূহল। আবার দরজায় টোকা না দিয়ে সরাসরি ঢুকে পড়া অন্যকে গুরুত্ব না দেওয়ারও বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। মনোবিদদের মতে, এই আচরণের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পারিবারিক অভ্যাসের অভাব। ছোটবেলা থেকে পরিবারে কারও ঘরে ঢোকার আগে অনুমতি নেওয়ার চল না থাকলে বড় হয়েও সেই অভ্যাস গড়ে ওঠে না। কারণ শিশুরা বড়দের আচরণ দেখেই শেখে।

পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিসর বা প্রাইভেসি সম্পর্কে অসচেতনতাও এর জন্য দায়ী। অনেকেই ভাবেন, নিজের মানুষ বা কাছের মানুষের ঘরে ঢুকতে আবার অনুমতির কী প্রয়োজন! অতিরিক্ত আপন ভাবা বা নিছক কৌতূহল থেকেও এমনটা হতে পারে। এছাড়া নতুন কোনো সম্পর্ক বা শ্বশুরবাড়ির মতো পরিবেশে অনেকের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা বা অনিশ্চয়তা কাজ করে। তারা মনে করতে পারেন যে কাছের মানুষটি হয়তো আগের মতো আপন নেই। এই মানসিকতা থেকেও অন্যের ব্যক্তিগত জীবনে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়ার বা নজর রাখার প্রবণতা তৈরি হয়। সর্বোপরি, যে পরিবারে মা-বাবা কিংবা ভাইবোনদের মধ্যে একে অপরের ঘরে ঢোকার আগে নক করার অভ্যাস নেই, সেখানে এটিকেই স্বাভাবিক আচরণ মনে করা হয়। ফলে ব্যক্তিগত সীমানা রক্ষা করা যে সম্পর্কেরই একটি অংশ, তা আর শেখা হয়ে ওঠে না।

বিশেষ করে দুটি জায়গায় প্রবেশের আগে দরজায় নক করা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমটি হলো শোবার ঘর বা ব্যক্তিগত কাজের জায়গা এবং দ্বিতীয়টি হলো বাথরুম বা পোশাক পরিবর্তনের স্থান।

বেসরকারি সংস্থা ‘মনের বন্ধু’র হেড অব মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম এবং লিড সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলর কাজী রুমানা হক জানান, কারও ঘরে ঢোকার আগে দরজায় নক করা কেবল সাধারণ ভদ্রতা নয়, এটি অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও অংশ। অনেক পরিবারেই এই অভ্যাসের ঘাটতি থাকে। শুধু নতুন দম্পতিই নন, অনেক সময় মা-বাবার ঘরে ঢোকার আগেও সন্তানরা নক করে না। অথচ প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব একটি ব্যক্তিগত পরিসর থাকা প্রয়োজন।

এই আচরণ বা অভ্যাসে পরিবর্তন আনা সম্ভব। শৈশব থেকেই মা-বাবার আচরণ দেখে শিশুরা ব্যক্তিগত পরিসরের ধারণা পায়। তাই মা-বাবা যদি সন্তানের ঘরে ঢোকার আগে দরজায় টোকা দেওয়ার অভ্যাস করেন, তবে শিশুর মধ্যেও এই ভালো অভ্যাসটি গড়ে উঠবে। অন্যদিকে বড়দের ক্ষেত্রে পুরনো অভ্যাস বদলানো কিছুটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এ জন্য ঘরের দরজায় নক করার কথা বারবার মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে নিজের আচরণের প্রতিও নিবিড় মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। আচরণ পরিবর্তনের নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব। তবে কেউ যদি নিজে থেকে এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হন, তবে পেশাদার মনোবিজ্ঞানী বা সাইকোথেরাপিস্টের সাহায্য নিতে পারেন।

অথচ সবারই নিজের একটি ব্যক্তিগত পরিসর আছে।১.

তাই মা–বাবা যদি সন্তানের ঘরে ঢোকার আগে নক করেন, ধীরে ধীরে শিশুর মধ্যেও একই অভ্যাস তৈরি হবে।২.

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo