তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের গন্তব্য সিউল: টানা পঞ্চমবার বিশ্বসেরা
- আপডেট সময় : ১০:২০:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

কে-ড্রামার রঙিন পর্দা থেকে বেরিয়ে সিউল এখন বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে এক স্বপ্নের গন্তব্য। ইউএসভিত্তিক ভ্রমণ মিডিয়া আউটলেট ট্র্যাজি ট্রাভেলের ‘২০২৬ দ্য ট্র্যাজিস’ অ্যাওয়ার্ডে টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের সেরা শহরের মুকুট জিতেছে কোরিয়ার রাজধানী। গড়ে বছরে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ডলার আয় করা তরুণ পেশাদারদের প্রত্যক্ষ ভোটে এই অর্জন এসেছে। এথেন্স, লন্ডন, হংকং ও ডাবলিনের মতো শহরকে পেছনে ফেলে ‘কুইন্ট স্ট্যাটাস’ অর্জন করে সিউল এখন ‘হল অব ফেম’-এ জায়গা করে নিয়েছে।
বর্তমান প্রজন্মের ডিজিটাল নেটিভ পর্যটকেরা কেবল ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ বা জাদুঘরে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তারা খুঁজছেন লাইফস্টাইল ট্যুরিজম, যেখানে সাধারণ কোরীয়দের দৈনন্দিন জীবনের আসল রূপ ফুটে ওঠে। সিউলের সংসু-দং এলাকায় কে-ফ্যাশন ও বিউটি ট্রেন্ডের পপ-আপ শপগুলোতে ভিড় বাড়ছে তরুণদের। প্রিয় তারকার মতো পোশাক বা মেকআপ লুকের অভিজ্ঞতা নিতে এই পপ-আপ সংস্কৃতি পর্যটকদের দারুণ সুযোগ দিচ্ছে।
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সিউল এক অনন্য অভিজ্ঞতা উপহার দিচ্ছে। ঐতিহাসিক গোয়াংজাং মার্কেটে গরম মুগ ডালের প্যানকেক কিংবা ঝাল রাইস কেক (টপোক্কি) খাওয়ার অনুভূতি যেন কে-ড্রামার জনপ্রিয় দৃশ্যের বাস্তব প্রতিফলন। সিউল এআই ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, গত এক বছরে ডংদেমুন ডিজাইন প্লাজায় বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত ১২ শতাংশ এবং গোয়াংজাং মার্কেটে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ভিনটেজ ফ্যাশন বা আধুনিক ক্যাফে সংস্কৃতির খোঁজে উলজিরোর গলিতেও তরুণদের আনাগোনা বেড়েছে।
শহরের ভৌগোলিক সুবিধা এবং গণপরিবহনের সহজলভ্যতা সিউলের বড় চমক। সকালে কে-বিউটি শপিং শেষে খুব সহজেই পর্যটকেরা আছাসান বা গোয়ানাকসান পর্বতের পাদদেশে পৌঁছে যাচ্ছেন। শহরের সীমানা না পেরিয়েই হাইকিং বুট পায়ে পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যাস্ত দেখার এই অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গত বছরের তুলনায় আছাসান ট্রেইলে বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত বেড়েছে ১২ শতাংশ।
নিরাপদ পরিবেশ, স্মার্ট পরিকাঠামো এবং সহজলভ্য গণপরিবহনের কারণে একা ভ্রমণকারী তরুণীদের কাছেও সিউল এখন অন্যতম আস্থার জায়গা। এই পর্যটন ধারার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে। গত এপ্রিলে প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার বিদেশি পর্যটক সিউল ভ্রমণ করে কার্ড পেমেন্টের মাধ্যমে রেকর্ড ১ দশমিক ১৫৩ ট্রিলিয়ন কোরিয়ান ওন ব্যয় করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালে ৩১৭টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে সিউল এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ব্যবসায়িক ভ্রমণের শক্ত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তরুণ পর্যটকদের এই আকর্ষণ ধরে রাখতে সিউল মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট ও সিউল ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন এখন বাস্তব অভিজ্ঞতামূলক ট্যুরিজম প্যাকেজ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।





























