ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জের হাড়ের গুঁড়ো এখন ওষুধ শিল্পের বড় চাহিদা মেটাচ্ছে অর্থনৈতিক চাপে ‘ভূমিকম্পের মতো’ পাল্টা আঘাতের হুমকি ইরানের ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জামায়াত ১৬ বছর আ.লীগের ভেতরে লুকিয়ে ছিল: রাশেদ খাঁন নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে’ পাঠানোর হুঁশিয়ারি ইরানি জেনারেলের মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা: চীন-ভারতের নতুন ভূরাজনৈতিক রণক্ষেত্র সবজির দাম কমলেও নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ ভারতীয় আটক প্রযুক্তির যুগে দাওয়াহর সম্ভাবনা ও দাঈদের নিয়ত রক্ষার চ্যালেঞ্জ নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২

জীবন বদলে দিতে পারে জাপানি সংস্কৃতির এই সহজ অভ্যাসগুলো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জীবনকে নতুন রূপ দিতে সবসময় বড় কোনো সিদ্ধান্ত বা আকস্মিক পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাসই আমাদের জীবনধারা, চিন্তাভাবনা ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জাপানি জীবনযাত্রায় এমন কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস রয়েছে, যা মানুষের সচেতনতা, আত্মশৃঙ্খলা ও মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

জাপানি সংস্কৃতিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে কেবল ঘর ঝাড়ু দেওয়া বা ময়লা ফেলার কাজ হিসেবে দেখা হয় না। সেখানে ‘সোউজি’ নামের একটি বিশেষ অভ্যাস রয়েছে, যার অর্থ নিজের চারপাশের পরিবেশকে সচেতনভাবে পরিচ্ছন্ন ও গোছানো রাখা। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে নিজের ঘর বা কাজের টেবিল গুছিয়ে রাখলে অগোছালো পরিবেশের কারণে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়। একইভাবে, বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর জুতো এলোমেলো না রেখে নির্দিষ্ট স্থানে গুছিয়ে রাখার সাধারণ অভ্যাসটিও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়। বাইরের ব্যস্ততা থেকে ঘরের নিজস্ব পরিবেশে প্রবেশের সময় এই কয়েক সেকেন্ডের অভ্যাসটি মানসিকভাবেও একটি ছোট বিরতি তৈরি করতে সাহায্য করে।

খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে জাপানিদের একটি সুন্দর রেওয়াজ হলো খাওয়ার আগে ‘ইতাদাকিমাসু’ বলা। এটি কেবল খাবার খাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়, বরং যে খাবারটি টেবিলে এসেছে, তার পেছনে থাকা মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। আমরাও খাবার খাওয়ার ঠিক আগে কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে এর পেছনের মানুষের শ্রমের কথা স্মরণ করতে পারি। এতে খাবারের প্রতি আমাদের সচেতনতা ও কৃতজ্ঞতাবোধ তৈরি হয়।

জাপানিদের আরেকটি চমৎকার অভ্যাস হলো ‘ইউবুনে নি সুকারু’ বা উষ্ণ পানিতে কিছুক্ষণ শরীর ডুবিয়ে রাখা। তাদের সংস্কৃতিতে গোসল কেবল দ্রুত শরীর পরিষ্কারের মাধ্যম নয়, বরং সারাদিনের ক্লান্তি দূর করার একটি প্রশান্তিময় উপায়। দিনের কাজ শেষে ফোন দূরে রেখে এবং অন্য সব চিন্তা থেকে নিজেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়ে উষ্ণ পানিতে শান্তভাবে কিছু সময় কাটালে শরীর ও মন উভয়ই সতেজ হয়ে ওঠে।

কোনো জিনিস পুরোনো বা নষ্ট হয়ে গেলেই তা ফেলে দিয়ে নতুন কিছু কেনার যে প্রবণতা, তার বিপরীতে জাপানিরা ‘মত্তাইনাই’ ধারণায় বিশ্বাসী। এই ধারণার মূল কথা হলো—যেকোনো জিনিসের মূল্য ও উপযোগিতাকে সম্মান করা এবং অপ্রয়োজনীয় অপচয় রোধ করা। জামাকাপড়, বই, আসবাব বা নিত্যব্যবহার্য জিনিস যত্ন সহকারে ব্যবহার করা এবং সম্ভব হলে তা মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে এই অভ্যাস গড়ে তোলা যায়।

প্রকৃতির পরিবর্তন ও ঋতুভিত্তিক বৈচিত্র্যকে উপভোগ করার একটি সুন্দর জাপানি ধারণা হলো ‘শুন’। এর অর্থ হলো যেকোনো খাবার বা অভিজ্ঞতাকে তার নিজস্ব উপযুক্ত সময়ে বা মৌসুমে উপভোগ করা। আমাদের জীবনেও এই অভ্যাসটি যুক্ত করা সম্ভব। কোন সময়ে কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে, প্রকৃতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে বা আবহাওয়ায় কী ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে—এসবের প্রতি একটু মনোযোগী হলেই দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আনন্দগুলো আরও গভীরভাবে উপভোগ করা যায়।

সকালের শুরুটা যদি তাড়াহুড়োর মধ্য দিয়ে হয়, তবে তার নেতিবাচক প্রভাব সারাদিনের কাজের ওপর পড়তে পারে। এজন্য জাপানি সংস্কৃতিতে ‘হায়াওকি’ বা সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। তবে এর অর্থ ঘুম কমিয়ে দেওয়া নয়; তবে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করে দিনের শুরুতে নিজের জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময় বের করা। সকালে একটু আগে ঘুম থেকে উঠে শান্তভাবে সময় কাটানো, নিজের মতো করে দিনটির পরিকল্পনা করা পুরো দিনের ব্যস্ততা সামলাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। মূলত, প্রতিদিনের সাধারণ কাজগুলো আরও সচেতনতা, শৃঙ্খলা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে করার মাধ্যমেই জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

জীবন বদলে দিতে পারে জাপানি সংস্কৃতির এই সহজ অভ্যাসগুলো

আপডেট সময় : ০২:০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

জীবনকে নতুন রূপ দিতে সবসময় বড় কোনো সিদ্ধান্ত বা আকস্মিক পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাসই আমাদের জীবনধারা, চিন্তাভাবনা ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জাপানি জীবনযাত্রায় এমন কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস রয়েছে, যা মানুষের সচেতনতা, আত্মশৃঙ্খলা ও মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

জাপানি সংস্কৃতিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে কেবল ঘর ঝাড়ু দেওয়া বা ময়লা ফেলার কাজ হিসেবে দেখা হয় না। সেখানে ‘সোউজি’ নামের একটি বিশেষ অভ্যাস রয়েছে, যার অর্থ নিজের চারপাশের পরিবেশকে সচেতনভাবে পরিচ্ছন্ন ও গোছানো রাখা। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে নিজের ঘর বা কাজের টেবিল গুছিয়ে রাখলে অগোছালো পরিবেশের কারণে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়। একইভাবে, বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর জুতো এলোমেলো না রেখে নির্দিষ্ট স্থানে গুছিয়ে রাখার সাধারণ অভ্যাসটিও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়। বাইরের ব্যস্ততা থেকে ঘরের নিজস্ব পরিবেশে প্রবেশের সময় এই কয়েক সেকেন্ডের অভ্যাসটি মানসিকভাবেও একটি ছোট বিরতি তৈরি করতে সাহায্য করে।

খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে জাপানিদের একটি সুন্দর রেওয়াজ হলো খাওয়ার আগে ‘ইতাদাকিমাসু’ বলা। এটি কেবল খাবার খাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়, বরং যে খাবারটি টেবিলে এসেছে, তার পেছনে থাকা মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। আমরাও খাবার খাওয়ার ঠিক আগে কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে এর পেছনের মানুষের শ্রমের কথা স্মরণ করতে পারি। এতে খাবারের প্রতি আমাদের সচেতনতা ও কৃতজ্ঞতাবোধ তৈরি হয়।

জাপানিদের আরেকটি চমৎকার অভ্যাস হলো ‘ইউবুনে নি সুকারু’ বা উষ্ণ পানিতে কিছুক্ষণ শরীর ডুবিয়ে রাখা। তাদের সংস্কৃতিতে গোসল কেবল দ্রুত শরীর পরিষ্কারের মাধ্যম নয়, বরং সারাদিনের ক্লান্তি দূর করার একটি প্রশান্তিময় উপায়। দিনের কাজ শেষে ফোন দূরে রেখে এবং অন্য সব চিন্তা থেকে নিজেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়ে উষ্ণ পানিতে শান্তভাবে কিছু সময় কাটালে শরীর ও মন উভয়ই সতেজ হয়ে ওঠে।

কোনো জিনিস পুরোনো বা নষ্ট হয়ে গেলেই তা ফেলে দিয়ে নতুন কিছু কেনার যে প্রবণতা, তার বিপরীতে জাপানিরা ‘মত্তাইনাই’ ধারণায় বিশ্বাসী। এই ধারণার মূল কথা হলো—যেকোনো জিনিসের মূল্য ও উপযোগিতাকে সম্মান করা এবং অপ্রয়োজনীয় অপচয় রোধ করা। জামাকাপড়, বই, আসবাব বা নিত্যব্যবহার্য জিনিস যত্ন সহকারে ব্যবহার করা এবং সম্ভব হলে তা মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে এই অভ্যাস গড়ে তোলা যায়।

প্রকৃতির পরিবর্তন ও ঋতুভিত্তিক বৈচিত্র্যকে উপভোগ করার একটি সুন্দর জাপানি ধারণা হলো ‘শুন’। এর অর্থ হলো যেকোনো খাবার বা অভিজ্ঞতাকে তার নিজস্ব উপযুক্ত সময়ে বা মৌসুমে উপভোগ করা। আমাদের জীবনেও এই অভ্যাসটি যুক্ত করা সম্ভব। কোন সময়ে কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে, প্রকৃতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে বা আবহাওয়ায় কী ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে—এসবের প্রতি একটু মনোযোগী হলেই দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আনন্দগুলো আরও গভীরভাবে উপভোগ করা যায়।

সকালের শুরুটা যদি তাড়াহুড়োর মধ্য দিয়ে হয়, তবে তার নেতিবাচক প্রভাব সারাদিনের কাজের ওপর পড়তে পারে। এজন্য জাপানি সংস্কৃতিতে ‘হায়াওকি’ বা সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। তবে এর অর্থ ঘুম কমিয়ে দেওয়া নয়; তবে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করে দিনের শুরুতে নিজের জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময় বের করা। সকালে একটু আগে ঘুম থেকে উঠে শান্তভাবে সময় কাটানো, নিজের মতো করে দিনটির পরিকল্পনা করা পুরো দিনের ব্যস্ততা সামলাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। মূলত, প্রতিদিনের সাধারণ কাজগুলো আরও সচেতনতা, শৃঙ্খলা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে করার মাধ্যমেই জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor