ফেসবুক ব্যবহারে সচেতনতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি
- আপডেট সময় : ০১:০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান সময়ে ফেসবুক ব্যবহারের ধরণ অনেকটা নেশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি কি ফেসবুক ব্যবহার করছেন নাকি ফেসবুক আপনাকে ব্যবহার করছে—এই বিষয়টি ভেবে দেখা প্রয়োজন। মার্কিন গবেষকদের মতে, দীর্ঘসময় ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং বিষণ্নতা বাড়িয়ে তোলে। হাউসটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও গবেষণা প্রবন্ধের লেখক মাই-লি স্টিয়ারস সোশ্যাল অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, মানুষ ফেসবুকে নিজেকে জাহির করতে পছন্দ করে এবং খারাপ ঘটনার চেয়ে ভালো ঘটনা বেশি শেয়ার করে। এই বিষয়টি বুঝতে না পারলে অন্যের জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা শুরু হয়, যা বন্ধুদের সঠিক মূল্যায়নে বাধা দেয়।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব বজায় রাখতে ফেসবুক ব্যবহারে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি। নিজের ঠিকানা, ফোন নম্বর বা স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুকে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া, ব্যক্তিত্ব নষ্ট হয় এমন ছবি, যেমন নাক-মুখ বাঁকানো সেলফি পোস্ট করার আগে দ্বিতীয়বার চিন্তা করুন। বাস্তব জীবনের মতো ফেসবুক প্রোফাইলেও ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটে, তাই সেখানেও সচেতনতা প্রয়োজন।
পোস্ট প্লেনারের পরামর্শ অনুযায়ী, ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। আপনার বন্ধু তালিকায় আত্মীয়, সহকর্মী, ব্যবসায়িক পার্টনার থেকে শুরু করে অপরিচিত অনেকেই থাকতে পারেন, তাই যেকোনো কিছু পোস্ট করার আগে তা সবার দেখার উপযোগী কি না তা যাচাই করুন। সঙ্গীর সাথে ঝগড়া বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের তিক্ততা ফেসবুকে প্রকাশ করবেন না, এতে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এছাড়া একদম অচেনা কাউকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠানো বা মিউচুয়াল ফ্রেন্ড দেখেই বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠানো থেকে বিরত থাকুন।
ঘন ঘন স্ট্যাটাস আপডেট করা, বারবার কাউকে ট্যাগ করা, কিংবা অফিসে কাজের সময় ফেসবুক ব্যবহার করা থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এতে ব্যক্তিগত ব্যক্তিত্ব হ্রাস পায় এবং সহকর্মীদের কাছে সমালোচনার সুযোগ তৈরি হয়। আপনার প্রোফাইলে ছদ্মনাম বা অস্পষ্ট ছবি না রেখে নিজের ছবি ব্যবহার করুন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ফেসবুকে বাণী বা চিরন্তনী কোটেশন পোস্ট করা পছন্দ করেন না। সবশেষে, পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সাথে আড্ডার সময় ফেসবুকের দিকে ডুবে না থেকে বাস্তব জীবনকে গুরুত্ব দিন। মনে রাখবেন, ফেসবুক জীবনের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র, পুরো জীবন নয়।




























