ইসলামে মানবদেহে কৃত্রিম পরিবর্তন ও বিকৃতি কেন নিষিদ্ধ
- আপডেট সময় : ১১:৩০:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা তিনের ৪ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মানুষকে সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টিকে আল্লাহ অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তাদের যথাযথ আকৃতি দান করেছেন এবং মানুষও এর ব্যতিক্রম নয়। মানুষের আকার-আকৃতি, অঙ্গভঙ্গি ও চলন-বলন শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। তবে অনেক সময় মানুষ আল্লাহর এই অসীম ক্ষমতার সমালোচনা করে এবং তাঁর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মানব ও পশুদেহে কৃত্রিম পরিবর্তন ঘটায়, যা শেষ পর্যন্ত রোগব্যাধি ও অস্বস্তি ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনে না।
ইসলামের দৃষ্টিতে এই ধরনের পরিবর্তন স্পষ্টত নিষিদ্ধ ও গর্হিত কাজ। সুরা নিসার ১১৯ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, শয়তান আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি ঘটানোর জন্য মানুষকে প্ররোচিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বর্তমান বিশ্বে ট্যাটু আঁকা, প্লাস্টিক সার্জারি এবং ট্র্যান্সহিউম্যানিজমের মতো বিষয়গুলো সেই বিকৃতিরই বাস্তব প্রতিফলন। রাসুলুল্লাহ (সা.) শরীরে উলকি বা ট্যাটু আঁকাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন, যা সহিহ বুখারির ৫৪০৮ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
আধুনিক যুগে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং ফ্যাশনের মোহে অনেক মুসলিম অজান্তেই এই নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হচ্ছেন। আল্লাহ প্রদত্ত সুন্দর মানবদেহে কৃত্রিম পরিবর্তন আনা কেবল সৃষ্টির অবমাননাই নয়, বরং এটি স্রষ্টার কর্তৃত্বের প্রতি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ট্রান্সহিউম্যানিজমের মতো বিষয়গুলো মানুষের মস্তিষ্কের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন ও মানুষকে অমর করার অবাস্তব লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে, যা আল্লাহর ক্ষমতার পরিপন্থী। সুরা আল-ইমরানের ৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তিনি মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা আমাদের আকৃতি দান করেন। ফলে দেহের রঙ, উচ্চতা ও গঠন নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে পরিবর্তন আনা আল্লাহর সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার শামিল।
পৃথিবীতে মানুষের মূল লক্ষ্য হলো একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, কিন্তু বাহ্যিক সৌন্দর্যের মোহে মগ্ন হয়ে মানুষ আজ সেই পথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি ও যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেবল সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে মানবদেহে যেকোনো ধরনের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।





























