তাইওয়ানকে চাপে রাখতে চীনের ‘গ্রে জোন’ কৌশল
- আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

তাইওয়ানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশটির মিত্রদের ওপর চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যে চীন বর্তমানে তাদের কূটনৈতিক ও সামুদ্রিক তৎপরতা জোরদার করেছে। সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার এই বিশেষ কৌশলটি আন্তর্জাতিক মহলে 'গ্রে জোন' বা ধূসর অঞ্চলের কৌশল হিসেবে পরিচিত।
চীনের এই কৌশলের অংশ হিসেবে সম্প্রতি প্যারাগুয়ের যোগাযোগমন্ত্রী ও বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-র এপ্রিলে আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনি সফরের পরিকল্পনাও বাধার মুখে পড়েছিল। সেশেলস, মরিশাস ও মাদাগাস্কার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় সেই সফর বাতিল করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে মে মাসে এসওয়াতিনির রাজার উড়োজাহাজে করে তিনি তার সফর সম্পন্ন করেন।
কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের জলসীমায় চীনের কোস্টগার্ড ও অন্যান্য সরকারি জাহাজের তৎপরতাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব জাহাজের মাধ্যমে নজরদারি ও পরিদর্শন চালানোর উদ্দেশ্য হলো তাইওয়ানের ওপর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি ওই অঞ্চলে চীনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। বেইজিং অন্য দেশগুলোকে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন না করার আহ্বান জানিয়ে থাকে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের সরকার বেইজিংয়ের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চীনের এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য শুধু তাইওয়ানের কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত করা নয়; বরং দেশটির মিত্রদের মধ্যে এই বার্তা দেওয়া যে, তাইওয়ানের পাশে দাঁড়ালে তাদের কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে। তবে এই চাপের মুখেও জাপান ও ফিলিপাইনের মতো কিছু দেশ তাইওয়ানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, তাইওয়ান প্রণালিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আগ্রহী দেশগুলোর উচিত চীনের এই কৌশলের বিরুদ্ধে আরও স্পষ্টভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা।




























