পিটিআইয়ের লংমার্চ সপ্তম দিনে, জরুরি অবস্থা জারির পরিকল্পনার প্রতিবাদ
- আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারামুক্তির দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) রাজধানী ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ কর্মসূচি আজ শনিবার সপ্তম দিনে পৌঁছেছে। তবে এই কর্মসূচি এখনো খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যেই দেশটির খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ১২টি জেলায় জরুরি অবস্থা জারির কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনার খবর বেরিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এমন পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে পিটিআই। দলটি বলেছে, এ পদক্ষেপ সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন হবে।
পিটিআইয়ের খাইবার পাখতুনখাওয়া শাখার মুখপাত্র শওকত ইউসুফজাই এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমি আপনাদের জরুরি অবস্থার কথা জানাতে চাই। জানাতে চাই, ১২টি জেলায় আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এটা অষ্টাদশ সংশোধনীর গুরুতর লঙ্ঘন। আর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) সব সময় এ সংশোধনীর কৃতিত্ব নিয়ে এসেছে।’
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বারবার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা বা গভর্নরের শাসন জারির হুমকি দিয়ে আসছে। প্রদেশটির গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি বলেছেন, প্রয়োজন হলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পিটিআই এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে। দলটির নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, গভর্নরের শাসন বা জরুরি অবস্থা জারি হলে তাঁরা জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ থেকে পদত্যাগ করবেন।
ইউসুফজাই আরও বলেন, পিটিআই কখনো সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাধা দেয়নি। দলটি সব সময় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এখানকার সব অংশীজনকে আস্থায় নিতে হবে। এরই মধ্যে একটি সর্বদলীয় সম্মেলন হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দল ও অন্য অংশীজনেরা ১৫ দফা ঘোষণায় একমত হয়েছেন। ঘোষণাটি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। পিটিআইয়ের খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখপাত্র বলেন, এ ঘোষণা বাস্তবায়ন করলেই বিষয়টির সমাধান হতে পারে।
ইউসুফজাই বলেন, ১১ অক্টোবর সোয়াবিতে বিপুল মানুষ জড়ো হবেন। সরকার মনে করছে মানুষ রাস্তায় নামবে না, তবে তাঁর যুক্তি, এ বিক্ষোভ সরকারের সেই ভুল ধারণা ভেঙে দেবে। জরুরি অবস্থা বা গভর্নরের শাসন দিয়ে পরিস্থিতির সমাধান হতে পারে, এমন ধারণা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের দরকার রাজনৈতিক সমাধান ও স্থিতিশীলতা। রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর নির্বিচার বলপ্রয়োগ করে কখনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা যায় না। তিনি সরকারকে জেদ ও অহংকার ছেড়ে আলোচনার টেবিলে এসে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান।
পিটিআই নেতা বলেন, তাঁর দল কোনো বেআইনি বা অসাংবিধানিক দাবি করেনি। দলটি চায় হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়ন করা হোক। দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হোক এবং তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হোক। ইউসুফজাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মামলাগুলোর শুনানি এবং তাঁর বোন ও স্ত্রীর প্রতিকার ও মুক্তির দাবিও জানান। খাইবার পাখতুনখাওয়ায় প্রাদেশিক মন্ত্রী, জাতীয় পরিষদের সদস্য, প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেপ্তার নিয়েও তিনি উদ্বেগ জানান।
বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির চরমপন্থা এড়ানোর আহ্বানের জবাবে ইউসুফজাই প্রশ্ন রাখেন, ‘বিলাওয়াল ভুট্টো, নিজের ন্যায্য অধিকারের জন্য আওয়াজ তোলা কি চরমপন্থা? নিজের নেতার পক্ষে আওয়াজ তোলা কি চরমপন্থা?’ তিনি বলেন, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবেশের যে অবনতি হয়েছে, তা পুরোপুরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও হুমকিমূলক বক্তব্যের ফল। তিনি মাওলানা ফজলুর রহমানের মধ্যস্থতার ভূমিকাকে স্বাগত জানান এবং বলেন, পিটিআইও যেকোনো মধ্যস্থতাকে অবশ্যই স্বাগত জানাবে।
সূত্র জানিয়েছে, আজ শনিবার ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকতে পারেন। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে জরুরি অবস্থা বা গভর্নরের শাসন জারি নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনা করা হতে পারে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২টি জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হবে। এর মধ্যে আটটি একীভূত উপজাতীয় জেলা হলো খাইবার, কুররম, ওরাকজাই, বাজাওর, মোহমান্দ, উত্তর ওয়াজিরিস্তান, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান ও লোয়ার ওয়াজিরিস্তান। চারটি বন্দোবস্তভুক্ত জেলা হলো ডেরা ইসমাইল খান, ট্যাংক, বান্নু ও লাক্কি মারওয়াত।
সূত্রগুলো জানায়, এসব জেলার জন্য একটি বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, যা প্রাদেশিক সরকারের বিদ্যমান কাঠামো থেকে আলাদা হবে। শুরুতে দুই মাসের জন্য জরুরি অবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা পরে পর্যালোচনা করা হবে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ২১তম গ্রেডের একজন সচিবের নেতৃত্বে একটি সচিবালয় গঠন করা হবে, যেখানে ২১তম গ্রেডের এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ চার থেকে ছয়জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা থাকবেন। এই কর্মকর্তাদের সরাসরি নিয়োগ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর ডেপুটি কমিশনার ও পুলিশ কর্মকর্তারা এই সচিবালয়ের কাছে জবাবদিহি করবেন। প্রস্তাবিত পদক্ষেপ বিবেচনার সময় সংবিধানের ২৩২ থেকে ২৩৪ অনুচ্ছেদের প্রাসঙ্গিক বিধানগুলো খতিয়ে দেখা হতে পারে।





























