ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিরপুরে ধ্বংসস্তূপের সামনেই চলছে রাড্ডা সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় বাংলাদেশ: আমরা কি প্রস্তুত নাকি কেবলই কল্পনা? নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনন্ত আম্বানির নিয়োগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক অক্টোবরের মধ্যেই জিয়াউলের গুম মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষের আশা দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে চিরিরবন্দরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি, বিজয় সুসংহত করতে হবে: ইরানি সেনাপ্রধান আল্লাহর বিধান ছাড়া প্রকৃত শান্তি অসম্ভব: মিয়া গোলাম পরওয়ার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: ন্যায়বিচার পাবেন বললেন রাশেদ খাঁন অধিকৃত পশ্চিম তীরে গাজার মতো যুদ্ধের উস্কানি দিলেন স্মোটরিচ সরকার বা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে রেহাই নেই: মাহদী আমিন

ট্রাম্প-শি বৈঠক: বৈশ্বিক সংকটে মিলল না কোনো আশার আলো

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিশ্বের শক্তিধর দুই রাষ্ট্র চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে পুরো বিশ্বের যে অধীর আগ্রহ ও আশা তৈরি হয়েছিল, তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গত বুধবার থেকে বিশ্ব মিডিয়ায় স্থান দখল করে থাকা এই দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি বা চুক্তি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য সংকট, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্য যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইউক্রেন যুদ্ধ ও তাইওয়ান ইস্যু ঘিরে বিশ্ববাসীর যে চরম অস্থিরতা, তাতে তেমন কোনো স্বস্তি আনতে পারেনি এই বহুল প্রত্যাশিত বৈঠক। উভয় নেতাই নিজেকে জয়ী দেখাতে ব্যস্ত ছিলেন।

এবারের বৈঠকের অন্যতম বাস্তব ফল হলো দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি আরও কিছু সময় বাড়ানো। উত্তেজনা কমানোর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, এটি কেবল আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসহ যে নানা সংকট শুরু হয়েছে, তারও কোনো আশু সমাধান এই বৈঠকে আসেনি। বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, ইরানের মিত্র চীন তেহরানকে রাজি করিয়ে চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে ব্যবস্থা করবে বা ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেবে। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও শি’র মধ্যে আদৌ কোনো কথা হয়েছে কিনা, তা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

উল্টো এবারের বৈঠকে তাইওয়ান ঘিরে ট্রাম্পকে পাল্টা চাপ দিয়েছেন শি। তার ভাষ্যমতে, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকতে হবে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তির মাধ্যমে তা দখলে নেয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। গত মে মাসের বৈঠকে শি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে মোকাবিলা করলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে বা যুদ্ধে প্রবেশ করতে পারে। এরপর ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন পিছিয়ে দিয়েছিলেন। এবারও তাইওয়ান ইস্যুতে শি-ই এগিয়ে থাকলেন।

দুই নেতার আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। শি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে এআইয়ের উন্নয়নকে দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা চীনের দ্রুত এআই অগ্রগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে চীন অভিযোগ করে আসছে যে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে তাদের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। এআই নিয়ে আলোচনা হলেও, এটি ব্যবহারে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তারা একমত হয়েছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। এর আগে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং একই কোম্পানির এক শীর্ষ গবেষক সতর্ক করেছিলেন যে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। শি শুধু এআই যেন সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে তার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, তবে ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কাকে ভাঁওতা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এই বৈঠকের আয়োজনের মধ্যেও যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই বৈঠকের দৃশ্যমান লাভের পাল্লা শি’র দিকেই ভারী বলে প্রতীয়মান। ট্রাম্প যেভাবে চীনা প্রেসিডেন্টকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন এবং উষ্ণ আতিথেয়তায় বরণ করেছেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও নিজ দেশে শি’র ভাবমূর্তি শক্তিশালী করতে পারে। এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও উষ্ণ কথাবার্তা সাময়িকভাবে সম্পর্কের উত্তাপ কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু এই আড়ম্বরের আড়ালে দুই পরাশক্তির স্বার্থের সংঘাত ও আধিপত্যের প্রতিযোগিতা আগের মতোই তীব্র থাকবে। আর সেই প্রতিযোগিতার ছায়ায় বিশ্বজুড়ে চলমান নানা সংকটের সমাধান যখন অধরাই থেকে যায়, তখন বিশ্ববাসীর হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্প-শি বৈঠক: বৈশ্বিক সংকটে মিলল না কোনো আশার আলো

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বের শক্তিধর দুই রাষ্ট্র চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে পুরো বিশ্বের যে অধীর আগ্রহ ও আশা তৈরি হয়েছিল, তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গত বুধবার থেকে বিশ্ব মিডিয়ায় স্থান দখল করে থাকা এই দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি বা চুক্তি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য সংকট, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্য যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইউক্রেন যুদ্ধ ও তাইওয়ান ইস্যু ঘিরে বিশ্ববাসীর যে চরম অস্থিরতা, তাতে তেমন কোনো স্বস্তি আনতে পারেনি এই বহুল প্রত্যাশিত বৈঠক। উভয় নেতাই নিজেকে জয়ী দেখাতে ব্যস্ত ছিলেন।

এবারের বৈঠকের অন্যতম বাস্তব ফল হলো দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি আরও কিছু সময় বাড়ানো। উত্তেজনা কমানোর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, এটি কেবল আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসহ যে নানা সংকট শুরু হয়েছে, তারও কোনো আশু সমাধান এই বৈঠকে আসেনি। বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, ইরানের মিত্র চীন তেহরানকে রাজি করিয়ে চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে ব্যবস্থা করবে বা ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেবে। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও শি’র মধ্যে আদৌ কোনো কথা হয়েছে কিনা, তা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

উল্টো এবারের বৈঠকে তাইওয়ান ঘিরে ট্রাম্পকে পাল্টা চাপ দিয়েছেন শি। তার ভাষ্যমতে, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকতে হবে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তির মাধ্যমে তা দখলে নেয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। গত মে মাসের বৈঠকে শি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে মোকাবিলা করলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে বা যুদ্ধে প্রবেশ করতে পারে। এরপর ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন পিছিয়ে দিয়েছিলেন। এবারও তাইওয়ান ইস্যুতে শি-ই এগিয়ে থাকলেন।

দুই নেতার আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। শি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে এআইয়ের উন্নয়নকে দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা চীনের দ্রুত এআই অগ্রগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে চীন অভিযোগ করে আসছে যে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে তাদের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। এআই নিয়ে আলোচনা হলেও, এটি ব্যবহারে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তারা একমত হয়েছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। এর আগে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং একই কোম্পানির এক শীর্ষ গবেষক সতর্ক করেছিলেন যে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। শি শুধু এআই যেন সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে তার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, তবে ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কাকে ভাঁওতা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এই বৈঠকের আয়োজনের মধ্যেও যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই বৈঠকের দৃশ্যমান লাভের পাল্লা শি’র দিকেই ভারী বলে প্রতীয়মান। ট্রাম্প যেভাবে চীনা প্রেসিডেন্টকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন এবং উষ্ণ আতিথেয়তায় বরণ করেছেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও নিজ দেশে শি’র ভাবমূর্তি শক্তিশালী করতে পারে। এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও উষ্ণ কথাবার্তা সাময়িকভাবে সম্পর্কের উত্তাপ কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু এই আড়ম্বরের আড়ালে দুই পরাশক্তির স্বার্থের সংঘাত ও আধিপত্যের প্রতিযোগিতা আগের মতোই তীব্র থাকবে। আর সেই প্রতিযোগিতার ছায়ায় বিশ্বজুড়ে চলমান নানা সংকটের সমাধান যখন অধরাই থেকে যায়, তখন বিশ্ববাসীর হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin