কূটনৈতিক ব্যস্ততাতেও কমছে না ট্রাম্পের অস্বস্তি
- আপডেট সময় : ১২:১৫:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান সুসংহত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন এবং হোয়াইট হাউসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও দেশে ও বিদেশে ট্রাম্পের সংকটগুলো কাটেনি। ওয়াশিংটনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাসের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং প্রযুক্তি খাতে চীনের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা তার প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে প্রতিরোধের মুখে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি এখন অনেকটা থমকে গেছে বলে মনে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট থেকে শুরু করে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলতে পারে। মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থার নিয়মকানুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। ভেনেজুয়েলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, বিজয়ীরই সবকিছুর অধিকার রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক লক্ষ্য পূরণে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
এত কঠোর অবস্থানের পরেও বৃহস্পতিবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পকে তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে দেখা গেছে। ইরান সংঘাতের কারণে মার্কিন অর্থনীতি চাপের মুখে থাকলেও চীনের বাণিজ্য বিশ্বজুড়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য, তাইওয়ান ও ইরানের মতো জটিল বিষয়গুলো আলোচনায় থাকলেও মূল অর্জন ছিল কেবল দুই মাসের জন্য বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, বন্ধ দরজার আড়ালে শি জিনপিং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন। প্রযুক্তি ও গাড়ি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিরল মৃত্তিকা খনিজের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের আগের কঠোর শুল্কনীতির বিপরীতে তাকে নমনীয় হতে বাধ্য করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ব্রেট ব্রুয়েন মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্প শক্তিকেই সঠিকতার মাপকাঠি হিসেবে দেখতে চাইলেও শি জিনপিংয়ের ক্রমবর্ধমান শক্তির সামনে তিনি অনেকটাই নমনীয়। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি থমকে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, জাতিসংঘে ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাসহ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার সাফল্যগুলোই তুলে ধরেছেন।
ট্রাম্পের এই ব্যস্ত সপ্তাহের ওপর সবচেয়ে বড় ছায়া হয়ে আছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে শুরু হওয়া এই সংঘাত প্রায় সাত মাস ধরে চলছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও পিছু না হটায় এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘে তিনি ‘আমেরিকা ফিরে এসেছে’ বলে ইরানে হামলার পক্ষে যুক্তি দিলেও, তার মিত্রদেশগুলো এই যুদ্ধে সহায়তার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বিশ্বনেতাদের সামনে পরোক্ষভাবে ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেছেন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প খুব একটা অগ্রগতি দেখাতে পারেননি। ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমার মনে করেন, এখন কানাডা, ইউরোপ, চীন, ইরান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো ট্রাম্পকে ‘না’ বলতে অনেক বেশি আগ্রহী। ভাষণের সময় ট্রাম্প নিজেই নিজের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন, ‘দেখা যাক আমার কতটা ক্ষমতা আছে। হয়তো আছে, হয়তো নেই। খুব শিগগিরই আমরা তা জানতে পারব।’



























