ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ

ট্রাম্প-কিম নতুন বৈঠক: মিত্রদের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক ঝুঁকির আশঙ্কা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং-উনের মধ্যে সম্ভাব্য আরেকটি বৈঠক নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কোনো ব্যর্থতা নয়, বরং একটি ‘সফল’ চুক্তি। এমন একটি সমঝোতা যা হয়তো ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংকে রাজনৈতিকভাবে লাভবান করবে, কিন্তু এর চরম মূল্য দিতে হতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ পুরো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে।

এই বৈঠকের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে ট্রাম্প ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দিতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বড় যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি সীমিত করা হয়েছে এবং আরেকটি মহড়া পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। ট্রাম্পের কাছে এই আলোচনা মূলত ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার একটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়। এতে দক্ষিণ কোরিয়া বা চীনের ভূমিকা কতটা থাকবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, আর জাপান ও রাশিয়ার অবস্থান থাকবে আরও দূরে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ হয়তো আর আলোচনার মূল এজেন্ডা থাকবে না। কারণ, পিয়ংইয়ং তাদের পারমাণবিক অস্ত্রকে স্থায়ী নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং সম্প্রতি নিজেদের পারমাণবিক মর্যাদাকে ‘অপরিবর্তনীয়’ বলে ঘোষণা করেছে। কিমের কাছে এখন কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিতে উত্তর কোরিয়ার এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান তাদের স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।

দুই নেতা যদি একটি চুক্তিতে পৌঁছান, তবে তা উভয় দেশের জনগণের কাছে নিজেদের বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ করে দেবে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া হয়তো নতুন কোনো আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা না করার প্রতিশ্রুতি দেবে এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আলোচনা ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখবে। এর বিনিময়ে পিয়ংইয়ং কার্যত পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি, জাতিসংঘের কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ পেতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করতে পারবেন যে তিনি আমেরিকাকে নিরাপদ করেছেন এবং উত্তর কোরিয়ার মূল্যবান খনিজ সম্পদে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রবেশের পথ তৈরি হয়েছে।

কিন্তু এই সমঝোতা পূর্ব এশিয়ার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলবে। ওয়াশিংটনের ‘পারমাণবিক ছাতা’র ওপরই মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নিরাপত্তা নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চুক্তি যদি এই সুরক্ষাকবচকে দুর্বল করে দেয়, তবে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা মিত্রদের আস্থা দ্রুতই ভেঙে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দীর্ঘদিনের দাবি আরও জোরদার হবে। একই পথ বেছে নিতে পারে জাপানও, এমনকি তাইওয়ানকেও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের (নন-প্রলিফারেশন) ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। বর্তমানে বিশ্বে স্বীকৃত ও অস্বীকৃত মিলিয়ে নয়টি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এই তালিকায় যুক্ত হলে সংখ্যাটি ১১-তে দাঁড়াবে। এই পরিস্থিতি কোরীয় উপদ্বীপের বাইরেও অন্যান্য দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে ধাবিত করতে পারে। ফলে, ট্রাম্প ও কিমের সম্ভাব্য বৈঠকের চূড়ান্ত খেসারত শেষ পর্যন্ত পুরো বিশ্বকে দিতে হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্প-কিম নতুন বৈঠক: মিত্রদের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক ঝুঁকির আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং-উনের মধ্যে সম্ভাব্য আরেকটি বৈঠক নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কোনো ব্যর্থতা নয়, বরং একটি ‘সফল’ চুক্তি। এমন একটি সমঝোতা যা হয়তো ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংকে রাজনৈতিকভাবে লাভবান করবে, কিন্তু এর চরম মূল্য দিতে হতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ পুরো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে।

এই বৈঠকের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে ট্রাম্প ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দিতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বড় যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি সীমিত করা হয়েছে এবং আরেকটি মহড়া পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। ট্রাম্পের কাছে এই আলোচনা মূলত ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার একটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়। এতে দক্ষিণ কোরিয়া বা চীনের ভূমিকা কতটা থাকবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, আর জাপান ও রাশিয়ার অবস্থান থাকবে আরও দূরে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ হয়তো আর আলোচনার মূল এজেন্ডা থাকবে না। কারণ, পিয়ংইয়ং তাদের পারমাণবিক অস্ত্রকে স্থায়ী নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং সম্প্রতি নিজেদের পারমাণবিক মর্যাদাকে ‘অপরিবর্তনীয়’ বলে ঘোষণা করেছে। কিমের কাছে এখন কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিতে উত্তর কোরিয়ার এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান তাদের স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।

দুই নেতা যদি একটি চুক্তিতে পৌঁছান, তবে তা উভয় দেশের জনগণের কাছে নিজেদের বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ করে দেবে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া হয়তো নতুন কোনো আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা না করার প্রতিশ্রুতি দেবে এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আলোচনা ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখবে। এর বিনিময়ে পিয়ংইয়ং কার্যত পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি, জাতিসংঘের কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ পেতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করতে পারবেন যে তিনি আমেরিকাকে নিরাপদ করেছেন এবং উত্তর কোরিয়ার মূল্যবান খনিজ সম্পদে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রবেশের পথ তৈরি হয়েছে।

কিন্তু এই সমঝোতা পূর্ব এশিয়ার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলবে। ওয়াশিংটনের ‘পারমাণবিক ছাতা’র ওপরই মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নিরাপত্তা নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চুক্তি যদি এই সুরক্ষাকবচকে দুর্বল করে দেয়, তবে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা মিত্রদের আস্থা দ্রুতই ভেঙে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দীর্ঘদিনের দাবি আরও জোরদার হবে। একই পথ বেছে নিতে পারে জাপানও, এমনকি তাইওয়ানকেও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের (নন-প্রলিফারেশন) ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। বর্তমানে বিশ্বে স্বীকৃত ও অস্বীকৃত মিলিয়ে নয়টি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এই তালিকায় যুক্ত হলে সংখ্যাটি ১১-তে দাঁড়াবে। এই পরিস্থিতি কোরীয় উপদ্বীপের বাইরেও অন্যান্য দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে ধাবিত করতে পারে। ফলে, ট্রাম্প ও কিমের সম্ভাব্য বৈঠকের চূড়ান্ত খেসারত শেষ পর্যন্ত পুরো বিশ্বকে দিতে হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin