মালদায় ১৮ জনকে এনে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার তোড়জোড়
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে গ্রেপ্তার ১৮ জনকে মালদায় এনে বাংলাদেশে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিএসএফের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে নিয়মিতভাবে সীমান্ত দিয়ে এভাবে মানুষ পুশ-ইনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের জাতিবিদ্বেষী রাজনীতির শিকার হয়ে অনেক সময় ভারতীয় নাগরিকরাও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত এই ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জন নারী ও কিশোরী এবং চারজন পুরুষ। তাদের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আটক করা হয়—রাজস্থান থেকে ১০ জন, কেরালা থেকে তিনজন, তেলেঙ্গানা থেকে দুজন এবং মহারাষ্ট্র থেকে একজন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই রাজ্যগুলোর কোনোটির সঙ্গেই বাংলাদেশের সরাসরি সীমান্ত নেই। তাদের প্রথমে রাজস্থানে জড়ো করা হয় এবং পরে কঠোর পুলিশি পাহারায় ট্রেনযোগে হাওড়া হয়ে মালদা স্টেশনে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাদের মালদার ইংরেজবাজারের কাছে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে রিমা (৩৪), শিউলা আক্তার (২৩), সোনিয়া আক্তার (২৮), মোসাম্মাৎ রাজিয়া বেগম (৩৪), তসমিয়া ইসলাম ফারিয়া (২২), মোসাম্মাৎ মাফুজা (২৪), আলফনিনা আক্তার (১৯), রোশনে আক্তার মিম (২৩), সোনিয়া খাতুন (২৪), রুমা আক্তার (৩৬), মিস স্মৃতি আক্তার (২৩), কুলসুম আক্তার (২৫), রুবিনা (২৫), আতিয়ার রহমান (২৩), মিস নাসিমা আক্তার (৩৬) এবং তানিয়া সাদিক শেখ (২৮) রয়েছেন। এর আগে চলতি মাসের ১ তারিখেও বেঙ্গালুরু থেকে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করে একইভাবে মালদায় এনে পুশব্যাকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
মালদা স্টেশনে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকরা তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কোনো উত্তর দেয়নি, সম্ভবত তাদের আগেই কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছিল। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে বিজিবির হাতে হস্তান্তর না করে রাতের অন্ধকারে জঙ্গল বা ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে তাদের বেআইনিভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হতে পারে। অতীতেও এভাবে পুশব্যাক করার সময় অনেকেই নিজেদের ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রমাণিতও হয়েছে।




























