ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে ৮ হাজার নিয়োগ, নেপথ্যে এস আলমের ‘বিশেষ বাক্স’ দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ১১ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করল সরকার সার চাইতে গিয়ে ৮ দিন জেল খাটলেন কুড়িগ্রামের দুই কৃষক ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রার ও দুই কর্মচারী আটক সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে আসছে ‘দ্য ব্যাটম্যান পার্ট টু’ কৃষি মন্ত্রণালয়ে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ‘আমলনামা’ পর্যালোচনা শুরু এশিয়ান গেমস কাবাডিতে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ মুকসুদপুরে বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত সরকারি দরপত্রে ২০ বছরের ‘সুযোগবঞ্চিত’দের জন্য নতুন সুযোগ

২০৪০ সালের মধ্যে ওজোনস্তর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে: ডব্লিউএমও

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:২৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মন্ট্রিল প্রটোকলের সফল বাস্তবায়নের ফলে পৃথিবীর ওজোনস্তর দ্রুত সেরে উঠছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এটি তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। তবে সিএফসি ও এইচএফসির মতো ক্ষতিকর গ্যাসের অপ্রত্যাশিত নির্গমন এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে কিছুটা বিলম্বিত করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। আজ ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজোন দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পৃথিবীর প্রাণ ও প্রকৃতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই স্তরের ক্ষয় ও ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর এই দিবসটি পালন করা হয়।

ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে অ্যান্টার্কটিকার ওজোন গহ্বরটি ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ক্ষুদ্রতম। ১৯৯২ সালে ওজোনস্তর ক্ষয়ের মারাত্মক চিত্র বিজ্ঞানীদের সামনে আসার পর থেকে পরিমাপকৃত গহ্বরগুলোর মধ্যে এটি ছিল চতুর্থ বা পঞ্চম ক্ষুদ্রতম। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ওজোন গহ্বরের আকার ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে ছোট দেখা গেছে। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্টে সাউলো একে একটি ‘বড় পরিবেশগত সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ২০০০ সাল থেকে ওজোনস্তর আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক দশকের মধ্যে এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বৈশ্বিক ওজোনস্তর আনুমানিক ২০৪০ সালের মধ্যে ১৯৮০ সালের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তবে অঞ্চলভেদে এই সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে; যেমন আর্কটিক অঞ্চলে এটি স্বাভাবিক হতে ২০৪৫ সাল এবং অ্যান্টার্কটিকায় ২০৬৬ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। ডব্লিউএমও গ্লোবাল অ্যাটমোস্ফিয়ার ওয়াচ নেটওয়ার্ক নিয়মিতভাবে এই ওজোনস্তরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আসছে।

বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে (ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫-৩৫ কিলোমিটার উপরে) ওজোন গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশ অবস্থান করে। পুরো বায়ুমণ্ডলের ওজোনকে যদি পৃথিবীপৃষ্ঠে এনে একটি স্তর তৈরি করা যেত, তবে তার পুরুত্ব হতো মাত্র ৩ মিলিমিটার। এই অত্যন্ত পাতলা স্তরটিই সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে অতিবেগুনি বিকিরণ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার কারণ ছিল ওজোনস্তরের ক্ষয় এবং মেঘের পরিমাণ কমে যাওয়া। অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে মানুষের ত্বকের ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ বছর বিশ্ব ওজোন দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘গ্লোবাল অ্যাকশন ফর এ কুলার প্ল্যানেট’ বা পৃথিবীকে শীতল রাখতে বৈশ্বিক উদ্যোগ।

ওজোনস্তর ধ্বংসকারী উপাদানগুলো রোধে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ‘মন্ট্রিল প্রটোকল’ সই হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এই দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর সুরক্ষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। বিগত চার দশকে ওজোন ক্ষয়কারী নিষিদ্ধ উপাদানের উপস্থিতি বায়ুমণ্ডলে অনেক কমেছে। তবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিএফসি-১১ এবং মাঝে মাঝে হাইড্রোফ্লোরোকার্বন (এইচএফসি)-২৩ গ্যাসের অপ্রত্যাশিত নির্গমন বিজ্ঞানীদের উদ্বিগ্ন করেছে। এছাড়া শিল্পকারখানায় কাঁচামাল বা ফিডস্টক হিসেবে ব্যবহৃত রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থেকে ওজোন ক্ষয়কারী উপাদানের নির্গমন বাড়ার কারণে মধ্য অক্ষাংশে ওজোনস্তর স্বাভাবিক হতে ৬ থেকে ১১ বছর (গড়ে ৭ বছর) বিলম্ব হতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুমণ্ডল থেকে একটিমাত্র ক্লোরিন পরমাণু পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার আগে প্রায় ১ লাখের বেশি ওজোন অণু ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই ওজোনস্তর রক্ষায় কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ নেই বলে মনে করেন পরিবেশবিদেরা। এদিকে ওজোন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কিছু চ্যালেঞ্জও উঠে এসেছে। ২০০০ সালের শুরুতে যেখানে ১৩০টি সক্রিয় পর্যবেক্ষণ স্টেশন (ডবসন ও ব্রুওয়ার স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহারকারী) ছিল, তা কমে এখন ১১০টিতে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে ওজোন পর্যবেক্ষণ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেসব এলাকার স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে নতুন প্রজন্মের অ্যারে স্পেকট্রোমিটারের ব্যবহার বাড়লেও সেগুলো মূলত বাতাসের মান ও বায়ুদূষণ পরিমাপের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, স্ট্র্যাটোমণ্ডলের ওজোন পর্যবেক্ষণে নয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

২০৪০ সালের মধ্যে ওজোনস্তর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে: ডব্লিউএমও

আপডেট সময় : ০৫:২৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মন্ট্রিল প্রটোকলের সফল বাস্তবায়নের ফলে পৃথিবীর ওজোনস্তর দ্রুত সেরে উঠছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এটি তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। তবে সিএফসি ও এইচএফসির মতো ক্ষতিকর গ্যাসের অপ্রত্যাশিত নির্গমন এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে কিছুটা বিলম্বিত করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। আজ ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজোন দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পৃথিবীর প্রাণ ও প্রকৃতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই স্তরের ক্ষয় ও ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর এই দিবসটি পালন করা হয়।

ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে অ্যান্টার্কটিকার ওজোন গহ্বরটি ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ক্ষুদ্রতম। ১৯৯২ সালে ওজোনস্তর ক্ষয়ের মারাত্মক চিত্র বিজ্ঞানীদের সামনে আসার পর থেকে পরিমাপকৃত গহ্বরগুলোর মধ্যে এটি ছিল চতুর্থ বা পঞ্চম ক্ষুদ্রতম। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ওজোন গহ্বরের আকার ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে ছোট দেখা গেছে। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্টে সাউলো একে একটি ‘বড় পরিবেশগত সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ২০০০ সাল থেকে ওজোনস্তর আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক দশকের মধ্যে এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বৈশ্বিক ওজোনস্তর আনুমানিক ২০৪০ সালের মধ্যে ১৯৮০ সালের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তবে অঞ্চলভেদে এই সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে; যেমন আর্কটিক অঞ্চলে এটি স্বাভাবিক হতে ২০৪৫ সাল এবং অ্যান্টার্কটিকায় ২০৬৬ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। ডব্লিউএমও গ্লোবাল অ্যাটমোস্ফিয়ার ওয়াচ নেটওয়ার্ক নিয়মিতভাবে এই ওজোনস্তরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আসছে।

বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে (ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫-৩৫ কিলোমিটার উপরে) ওজোন গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশ অবস্থান করে। পুরো বায়ুমণ্ডলের ওজোনকে যদি পৃথিবীপৃষ্ঠে এনে একটি স্তর তৈরি করা যেত, তবে তার পুরুত্ব হতো মাত্র ৩ মিলিমিটার। এই অত্যন্ত পাতলা স্তরটিই সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে অতিবেগুনি বিকিরণ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার কারণ ছিল ওজোনস্তরের ক্ষয় এবং মেঘের পরিমাণ কমে যাওয়া। অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে মানুষের ত্বকের ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ বছর বিশ্ব ওজোন দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘গ্লোবাল অ্যাকশন ফর এ কুলার প্ল্যানেট’ বা পৃথিবীকে শীতল রাখতে বৈশ্বিক উদ্যোগ।

ওজোনস্তর ধ্বংসকারী উপাদানগুলো রোধে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ‘মন্ট্রিল প্রটোকল’ সই হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এই দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর সুরক্ষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। বিগত চার দশকে ওজোন ক্ষয়কারী নিষিদ্ধ উপাদানের উপস্থিতি বায়ুমণ্ডলে অনেক কমেছে। তবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিএফসি-১১ এবং মাঝে মাঝে হাইড্রোফ্লোরোকার্বন (এইচএফসি)-২৩ গ্যাসের অপ্রত্যাশিত নির্গমন বিজ্ঞানীদের উদ্বিগ্ন করেছে। এছাড়া শিল্পকারখানায় কাঁচামাল বা ফিডস্টক হিসেবে ব্যবহৃত রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থেকে ওজোন ক্ষয়কারী উপাদানের নির্গমন বাড়ার কারণে মধ্য অক্ষাংশে ওজোনস্তর স্বাভাবিক হতে ৬ থেকে ১১ বছর (গড়ে ৭ বছর) বিলম্ব হতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুমণ্ডল থেকে একটিমাত্র ক্লোরিন পরমাণু পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার আগে প্রায় ১ লাখের বেশি ওজোন অণু ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই ওজোনস্তর রক্ষায় কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ নেই বলে মনে করেন পরিবেশবিদেরা। এদিকে ওজোন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কিছু চ্যালেঞ্জও উঠে এসেছে। ২০০০ সালের শুরুতে যেখানে ১৩০টি সক্রিয় পর্যবেক্ষণ স্টেশন (ডবসন ও ব্রুওয়ার স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহারকারী) ছিল, তা কমে এখন ১১০টিতে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে ওজোন পর্যবেক্ষণ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেসব এলাকার স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে নতুন প্রজন্মের অ্যারে স্পেকট্রোমিটারের ব্যবহার বাড়লেও সেগুলো মূলত বাতাসের মান ও বায়ুদূষণ পরিমাপের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, স্ট্র্যাটোমণ্ডলের ওজোন পর্যবেক্ষণে নয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo