ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এফবিআইয়ের হাজারো কর্মকর্তার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের তেলুগু তারকা নানির ক্যারিয়ার, সম্পদ ও আসন্ন সিনেমার গল্প জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে তরুণীকে মারধর, থানায় অভিযোগ ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত

সৌদি ঘাঁটিতে হুতিদের নতুন হামলা, মার্কিন কমান্ডারের সঙ্গে যুবরাজের বৈঠক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই লোহিত সাগরের কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং ওমানে নির্ধারিত উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বৈঠক শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেদ্দায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

সোমবার হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করে। তাদের লক্ষ্য ছিল বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে ও গোলাবারুদের গুদামসহ বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো। এর আগে রবিবারও সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে সেখানে সাময়িক জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। হুতিদের দাবি, গত কয়েক দিনে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি জোট ৩০০টির বেশি বিমান হামলা চালানোর জবাবেই তারা এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জেদ্দায় মার্কিন সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সম্প্রতি হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন হামলায় অংশ নিতে রাজি না হলেও সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় মার্কিন প্রশাসনও চাপের মুখে পড়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রেটার হানিশ ও লেসার হানিশ দ্বীপ দুটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে হুতিরা। বাব আল-মানদেব প্রণালি থেকে ১৬০ কিলোমিটার উত্তরের এই দ্বীপ দুটি থেকে সরকারি বাহিনী সরে যাওয়ার পর তারা এর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে তারা মোখা বন্দর ও মাইয়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুতিদের আক্রমণ প্রতিহত করে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দেশটির উত্তর অঞ্চলের মারিব প্রদেশেও দুই পক্ষের লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাসকেন্দ্র রয়েছে।

চলমান সংকটের জেরে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ওমানে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর গতকালের নির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত হয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, সৌদি আরবের অনুরোধে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে এবং রিয়াদ ইয়েমেন পরিস্থিতিকে 'মিথ্যা অজুহাত' হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, ঐকমত্যের স্বার্থেই বৈঠকটি পেছানো হয়েছে। কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত মন্তব্য করেছেন, আরব দেশগুলোকেই এই সংকটের সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে এবং হরমুজ নিয়ে তাদের ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় যেতে হতে পারে।

এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেলের বাজারে। অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে। গত শুক্রবার হুতিদের ড্রোন হামলার পর সৌদির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, ইয়েমেনের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাইজে আশ্রয় নেওয়া আয়েশা মুহাম্মদ নামের এক বৃদ্ধা জানান, তাঁর দুই মেয়ে ও তিন ছেলে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আটকা পড়েছেন এবং খাবার ও পানি কেনার জন্য বাইরেও বের হতে পারছেন না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদি ঘাঁটিতে হুতিদের নতুন হামলা, মার্কিন কমান্ডারের সঙ্গে যুবরাজের বৈঠক

আপডেট সময় : ০২:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই লোহিত সাগরের কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং ওমানে নির্ধারিত উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বৈঠক শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেদ্দায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

সোমবার হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করে। তাদের লক্ষ্য ছিল বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে ও গোলাবারুদের গুদামসহ বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো। এর আগে রবিবারও সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে সেখানে সাময়িক জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। হুতিদের দাবি, গত কয়েক দিনে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি জোট ৩০০টির বেশি বিমান হামলা চালানোর জবাবেই তারা এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জেদ্দায় মার্কিন সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সম্প্রতি হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন হামলায় অংশ নিতে রাজি না হলেও সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় মার্কিন প্রশাসনও চাপের মুখে পড়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রেটার হানিশ ও লেসার হানিশ দ্বীপ দুটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে হুতিরা। বাব আল-মানদেব প্রণালি থেকে ১৬০ কিলোমিটার উত্তরের এই দ্বীপ দুটি থেকে সরকারি বাহিনী সরে যাওয়ার পর তারা এর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে তারা মোখা বন্দর ও মাইয়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুতিদের আক্রমণ প্রতিহত করে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দেশটির উত্তর অঞ্চলের মারিব প্রদেশেও দুই পক্ষের লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাসকেন্দ্র রয়েছে।

চলমান সংকটের জেরে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ওমানে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর গতকালের নির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত হয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, সৌদি আরবের অনুরোধে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে এবং রিয়াদ ইয়েমেন পরিস্থিতিকে 'মিথ্যা অজুহাত' হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, ঐকমত্যের স্বার্থেই বৈঠকটি পেছানো হয়েছে। কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত মন্তব্য করেছেন, আরব দেশগুলোকেই এই সংকটের সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে এবং হরমুজ নিয়ে তাদের ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় যেতে হতে পারে।

এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেলের বাজারে। অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে। গত শুক্রবার হুতিদের ড্রোন হামলার পর সৌদির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, ইয়েমেনের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাইজে আশ্রয় নেওয়া আয়েশা মুহাম্মদ নামের এক বৃদ্ধা জানান, তাঁর দুই মেয়ে ও তিন ছেলে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আটকা পড়েছেন এবং খাবার ও পানি কেনার জন্য বাইরেও বের হতে পারছেন না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo