ইয়েমেনে ইরানের সব পণ্য আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ
- আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ২১
ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। দেশটিতে ইরানের সব ধরনের পণ্য ও সামগ্রী আমদানি এবং বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতি গোষ্ঠীকে তেহরানের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ এবং ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুতিদের তীব্র সংঘাতের জের ধরেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, দেশটির আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থায়নবিষয়ক জাতীয় কমিটির এক বৈঠকে এই নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করা হয়। ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও কমিটির প্রধান আহমেদ গালেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ এখতিয়ার অনুযায়ী এবং প্রচলিত আইন ও বিধিমালা মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো জানানো হয়নি। এছাড়া কোন কোন ইরানি পণ্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে, তা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। শুধু ইরানের সব ধরনের পণ্য ও সামগ্রী আমদানি এবং ইয়েমেনের বাজারে বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ইয়েমেন সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান হুতিদের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২০১৪ সালে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা রাজধানী সানা ও ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় দেশটিতে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ছিল। তবে সৌদি জোটের হামলার পর গত জুলাই থেকে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সব পণ্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে তেহরান ও হুতিদের চলমান বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




























