ব্রিকস সম্মেলনে ভারত-চীন মতপার্থক্য মেটানোর বার্তা বেইজিংয়ের
- আপডেট সময় : ০৯:৪০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে ভারত ও চীন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। তবে এই দুই দেশের সরকার প্রধানের সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারত সফরে আসবেন কিনা তা নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বেইজিং থেকে রওনা হয়ে শনিবার তিনি ভারতে পৌঁছান। প্রায় সাত বছর পর এটি তার ভারত সফর।
বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় চীন ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো ‘যথাযথভাবে’ সামলাতে কাজ করবে। ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং শুক্রবার রাতে এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নিতে চায় বেইজিং। সেই সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, সহযোগিতা জোরদার এবং মতপার্থক্যগুলো যথাযথভাবে সামলানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।
চীনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং আরও জানান, কাজান ও তিয়ানজিনে বৈঠকের পর এবার টানা তৃতীয় বছরের মতো দুই নেতা মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন। শনিবার ভারতের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে মোদি ও শি জিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই পক্ষই ভালো প্রতিবেশী হিসেবে পরস্পরের সাফল্যে সহযোগী অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যেতে চায়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় সম্পর্ক শীতল থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা বরফ গলতে শুরু করেছে। কাজান ও তিয়ানজিনে মোদির সঙ্গে শির বৈঠকের পর সেই উষ্ণতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি জিনপিং স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির জেনারেল অফিসের পরিচালক চাই ছি এবং পলিটব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই ব্রিকস সম্মেলন দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।



























