১ হাজার টন বিস্ফোরক দিয়ে হিজবুল্লাহর বিশাল ঘাঁটি ওড়াল ইসরাইল
- আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ১০ (11 September 2026, 20:10)
দক্ষিণ লেবাননের আলি তাহের রিজের নিচে অবস্থিত হিজবুল্লাহর একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। আইডিএফ জানিয়েছে, দুই কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ দুটি সুড়ঙ্গসহ এই বিশাল কমপ্লেক্সটি ধ্বংস করতে এক হাজার টনেরও বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে।
এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে তা ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) নিশ্চিত করেছে যে, এই বিস্ফোরণের ফলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূকম্পন সৃষ্টি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ইসরাইলি বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে বিস্ফোরণের পর আকাশে বিশাল আগুনের গোলা দেখা গেছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতা সম্পর্কে নাবাতিয়েহ শহরের বাসিন্দা আহমেদ জানান, বিস্ফোরণের প্রায় ১৫ সেকেন্ড পর একটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং পুরো বাড়ি ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, শিশুরা কাঁদতে শুরু করে এবং অনেক মানুষ গাড়ি নিয়ে বৈরুতের দিকে রওনা হন। আলি তাহের রিজ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উপকূলীয় শহর সাইদাতেও এই কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া এই ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোটি হিজবুল্লাহর বদর ইউনিটের কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দুই দশক ধরে ইরানের অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় নির্মিত এই স্থাপনায় প্রচুর পরিমাণে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র ও মাইন মজুত ছিল। অভিযানে সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা হিজবুল্লাহর কিছু সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বাকিরা পালিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছে আইডিএফ। এই অভিযানের মাধ্যমে ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর আটটি সুড়ঙ্গ ধ্বংস এবং একটি 'নিরাপত্তা অঞ্চল' প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তারা জানায়। তবে হিজবুল্লাহ বা লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত সপ্তাহে আলি তাহের রিজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ইসরাইলি বাহিনী বর্তমানে লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহতের ঘটনায় প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালালে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান ও ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। যদিও জুন মাসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং লেবানন-ইসরাইলের মধ্যে পৃথক সমঝোতার পর যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা কমেছে, তবুও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবারও দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এবং টায়ার জেলার মানসুরিতে নতুন করে ইসরাইলি হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতে নাবাতিয়েহসহ বিভিন্ন এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী তাদের টহল ও মোতায়েন বাড়িয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে অন্তত ৪ হাজার ৩৬২ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৯৫ জন নারী ও ২৫৯ জন শিশু রয়েছে। বিপরীতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই যুদ্ধে তাদের ৪০ জন সেনা এবং ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।




























