ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এআই-এর যুগেও নিজের অবস্থানে অনড় ‘লিপস্টিক কিং’ লি জিয়াকি টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের শুনানি আজ যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা, আলোচনায় বাণিজ্যসহ নানা ইস্যু টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের আবরার, পেছনে ফেললেন রশিদকে টানা সাত দিন কমল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম মহানবী (সা.)-এর ইনসাফ: মানবজাতির জন্য অনুপম আদর্শ মুকসুদপুরে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব

৯/১১-এর ২৫ বছর, গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিতর্ক এখনো অমীমাংসিত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়েও হামলার আগে গোয়েন্দা ব্যর্থতা, পরবর্তী কৌশলগত ভুল এবং সেসব সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থামেনি। হামলার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে আল-কায়েদা ও ওসামা বিন লাদেন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে একত্র, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করা হয়নি। সেদিন আল-কায়েদার আত্মঘাতী হামলায় ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। হামলার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছিলেন।

৯/১১ কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছিল যে, তথ্যের ঘাটতির চেয়ে বড় সমস্যা ছিল বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং হুমকি কল্পনা ও মূল্যায়নে ব্যর্থতা। যদিও সিআইএ আগে থেকেই আল-কায়েদা ও বিন লাদেন সম্পর্কে জানত এবং তাদের ধরতে বিশেষ টাস্কফোর্সও ছিল। এই অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির কাঠামো জোরদার করে। গড়ে ওঠে ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার ও ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের মতো প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ‘ফাইভ আইজ’ জোট গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

৯/১১-এর পরও গোয়েন্দা ব্যর্থতার ঘটনা থামেনি। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র (WMD) থাকার যে দাবি করা হয়েছিল, তা পরে ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হয়। ব্রিটিশ জেনারেল স্যার রিচার্ড শিরেফের মতে, ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেখান থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নেওয়া হয়নি। এছাড়া ২০০৫ সালের ৭ জুলাই লন্ডনে আত্মঘাতী বোমা হামলার আগে এমআই৫-এর কাছে পরিকল্পনাকারী মোহাম্মদ সিদ্দিক খানের বিষয়ে তথ্য থাকলেও তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ওই হামলায় ৫২ জন নিহত হন। ২০১৭ সালের ম্যানচেস্টার অ্যারেনা হামলাও গোয়েন্দা ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।

সাবেক এমআই৬ প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ংগারের মতে, ৯/১১-এর পর প্রায় দুই দশক পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবাদ ও বিদ্রোহ দমনে অতিরিক্ত মনোযোগ দেয়। এর ফলে চীনের সামরিক উত্থান ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। সাবেক এমআই৫ প্রধান লর্ড জোনাথন ইভান্সের মতে, অ-রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ এখনও হুমকি হলেও রাশিয়া, ইরান ও চীনের মতো রাষ্ট্রীয় শক্তির ঝুঁকি এখন বড় হয়ে উঠেছে। চীন সম্পর্কে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করলেও সেগুলোর সামগ্রিক কৌশলগত অর্থ বোঝা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। চীনের শক্তি কেবল সামরিক নয়, বরং সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, বন্দর ও টেলিযোগাযোগের মতো বিষয়গুলোও এর অংশ।

৯/১১-এর পর সন্দেহভাজনদের আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবাধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে অনেককে গ্রেপ্তার করে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠানো হয় এবং বিচার ছাড়াই নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে লিবীয় ইসলামপন্থী আবদেলহাকিম বেলহাজ ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে লিবিয়ায় পাঠানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল, যার জন্য ২০১৮ সালে ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়।

গত ২৫ বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও মুখমণ্ডল শনাক্তকরণের মতো প্রযুক্তি নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ালেও তা নতুন ঝুঁকিও তৈরি করেছে। ৯/১১-এর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেই তথ্যের সঠিক অর্থ বোঝা এবং সময়মতো কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ। ইরাক যুদ্ধ, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন প্রত্যাহার, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার মতো ঘটনাগুলো দেখিয়েছে যে, গোয়েন্দা ব্যর্থতা শুধু তথ্যের ঘাটতি নয়; বরং রাজনৈতিক চাপ, ভুল মূল্যায়ন ও কৌশলগত আত্মতুষ্টির কারণেও হতে পারে। তাই ২৫ বছর পরও সেই ঘটনার শিক্ষা নতুন বাস্তবতায় বারবার পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

৯/১১-এর ২৫ বছর, গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিতর্ক এখনো অমীমাংসিত

আপডেট সময় : ০১:৫২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়েও হামলার আগে গোয়েন্দা ব্যর্থতা, পরবর্তী কৌশলগত ভুল এবং সেসব সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থামেনি। হামলার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে আল-কায়েদা ও ওসামা বিন লাদেন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে একত্র, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করা হয়নি। সেদিন আল-কায়েদার আত্মঘাতী হামলায় ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। হামলার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছিলেন।

৯/১১ কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছিল যে, তথ্যের ঘাটতির চেয়ে বড় সমস্যা ছিল বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং হুমকি কল্পনা ও মূল্যায়নে ব্যর্থতা। যদিও সিআইএ আগে থেকেই আল-কায়েদা ও বিন লাদেন সম্পর্কে জানত এবং তাদের ধরতে বিশেষ টাস্কফোর্সও ছিল। এই অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির কাঠামো জোরদার করে। গড়ে ওঠে ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার ও ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের মতো প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ‘ফাইভ আইজ’ জোট গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

৯/১১-এর পরও গোয়েন্দা ব্যর্থতার ঘটনা থামেনি। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র (WMD) থাকার যে দাবি করা হয়েছিল, তা পরে ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হয়। ব্রিটিশ জেনারেল স্যার রিচার্ড শিরেফের মতে, ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেখান থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নেওয়া হয়নি। এছাড়া ২০০৫ সালের ৭ জুলাই লন্ডনে আত্মঘাতী বোমা হামলার আগে এমআই৫-এর কাছে পরিকল্পনাকারী মোহাম্মদ সিদ্দিক খানের বিষয়ে তথ্য থাকলেও তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ওই হামলায় ৫২ জন নিহত হন। ২০১৭ সালের ম্যানচেস্টার অ্যারেনা হামলাও গোয়েন্দা ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।

সাবেক এমআই৬ প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ংগারের মতে, ৯/১১-এর পর প্রায় দুই দশক পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবাদ ও বিদ্রোহ দমনে অতিরিক্ত মনোযোগ দেয়। এর ফলে চীনের সামরিক উত্থান ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। সাবেক এমআই৫ প্রধান লর্ড জোনাথন ইভান্সের মতে, অ-রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ এখনও হুমকি হলেও রাশিয়া, ইরান ও চীনের মতো রাষ্ট্রীয় শক্তির ঝুঁকি এখন বড় হয়ে উঠেছে। চীন সম্পর্কে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করলেও সেগুলোর সামগ্রিক কৌশলগত অর্থ বোঝা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। চীনের শক্তি কেবল সামরিক নয়, বরং সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, বন্দর ও টেলিযোগাযোগের মতো বিষয়গুলোও এর অংশ।

৯/১১-এর পর সন্দেহভাজনদের আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবাধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে অনেককে গ্রেপ্তার করে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠানো হয় এবং বিচার ছাড়াই নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে লিবীয় ইসলামপন্থী আবদেলহাকিম বেলহাজ ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে লিবিয়ায় পাঠানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল, যার জন্য ২০১৮ সালে ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়।

গত ২৫ বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও মুখমণ্ডল শনাক্তকরণের মতো প্রযুক্তি নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ালেও তা নতুন ঝুঁকিও তৈরি করেছে। ৯/১১-এর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেই তথ্যের সঠিক অর্থ বোঝা এবং সময়মতো কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ। ইরাক যুদ্ধ, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন প্রত্যাহার, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার মতো ঘটনাগুলো দেখিয়েছে যে, গোয়েন্দা ব্যর্থতা শুধু তথ্যের ঘাটতি নয়; বরং রাজনৈতিক চাপ, ভুল মূল্যায়ন ও কৌশলগত আত্মতুষ্টির কারণেও হতে পারে। তাই ২৫ বছর পরও সেই ঘটনার শিক্ষা নতুন বাস্তবতায় বারবার পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh