‘কেউ বাথরুমে যাবেন না’, সমর্থকদের কেন এমন অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প?
- আপডেট সময় : ১১:৩৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জয়ের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে সমর্থকদের এক অভিনব সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোট গণনার চূড়ান্ত মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘কেউ বাথরুমে যাবেন না’। মূলত নির্বাচনের মাঠে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এবং প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি সমর্থকদের এই অনুরোধ করেন। সবসময় আলোচনায় থাকতে পছন্দ করা ট্রাম্পের এমন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বেশ হাস্যরসের জন্ম দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া ট্রাম্প রাজনীতিতে আসার অনেক আগে থেকেই মার্কিন সমাজে একজন প্রভাবশালী ধনকুবের হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে আবাসন ব্যবসা এবং শোবিজ জগৎ নিয়ে। ২০১৫ সালের ১৫ জুন যখন তিনি আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন, তখন অনেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেননি এবং তা নিয়ে বেশ হাসিঠাট্টাও হয়েছিল। তবে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা প্রমাণ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিলারি ক্লিনটনকে নাটকীয়ভাবে পরাজিত করে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেন। যদিও তাঁর এই জয়ের পেছনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং পুতিন প্রশাসনের কলকাঠি নাড়ার অভিযোগ নিয়ে পরবর্তীতে তদন্ত শুরু হয়।
পারিবারিক ইতিহাসে ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন নিউইয়র্কের একজন সফল আবাসন ব্যবসায়ী এবং মা মেরি ট্রাম্প ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ট্রাম্প চতুর্থ। চঞ্চল ও দুরন্ত স্বভাবের কারণে ছোটবেলায় তাঁকে নিউইয়র্ক军事 একাডেমিতে ভর্তি করা হয়। ১৯৬৮ সালে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ধনী বাবার প্রতিষ্ঠানে একেবারে ছোট পদ দিয়ে কাজ শুরু করলেও পরে পৈতৃক ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটিয়ে তিনি হোটেল, বহুতল ভবন, গলফ কোর্স ও ক্যাসিনো ব্যবসা গড়ে তোলেন। ব্যবসা করতে গিয়ে ট্রাম্প কয়েকবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণাও করেছেন এবং মামলা করার পাশাপাশি নিজেও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার স্পনসর ছিলেন এবং ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ নামক টিভি রিয়্যালিটি শো ও রেসলিং ম্যাচ উপস্থাপনা করে বিশ্বজুড়ে সেলিব্রিটি হয়ে ওঠেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ট্রাম্প তিনবার বিয়ে করেছেন এবং তিনি পাঁচ সন্তানের জনক। তাঁর প্রথম স্ত্রী চেক মডেল ইভানা, যাঁর সঙ্গে ১৯৯২ সালে তাঁর বিচ্ছেদ হয়। ১৯৯৩ সালে তিনি মার্লা ম্যাপলসকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯৯ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তিনি মডেল মেলানিয়াকে বিয়ে করেন, যিনি তাঁর ফার্স্ট লেডি ছিলেন। রাজনীতিতে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে মাঠে নামার পর থেকেই ট্রাম্প নানা বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন। রাশিয়া ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি প্রকাশ্যে নিজের অনুরাগ প্রকাশ করা ছাড়াও অভিবাসী, মুসলিম, নারী ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তাঁর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তীব্রভাবে সমালোচিত হয়। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পরও দলের ১৬ জন প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও ট্রাম্পের স্বভাবের কোনো পরিবর্তন আসেনি। সময়-অসময়ে টুইটারে বিভিন্ন মন্তব্য করে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নিত্যদিনের লড়াইয়ে জড়ানো ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর শাসনামলে মুসলিম নিষেধাজ্ঞা জারি করাসহ একের পর এক নির্বাহী আদেশ প্রশাসনকে গলদঘর্ম করে তোলে এবং প্রথম বছরই তাঁর প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বিদায় নেন। অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নীতিতে গোলমেলে সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বকে ট্রাম্পের ভার বইতে হচ্ছে বলেও সমালোচনা রয়েছে। এমনকি একপর্যায়ে তিনি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ দাবি করে এর নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ করার কথাও বলেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদেও নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা ট্রাম্প এখনো মার্কিন ও বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচিত চরিত্র। এ বিষয়ে হাউজ রিপাবলিকানদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্পের বার্তা (trump-to-house-republicans, republicans, lh92dhbx, house, 2026-09-06, bangla, trump, 2026) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরবর্তীতে ২০২৬ (2026) সালের ১০ সেপ্টেম্বর (2026-09-10) বাংলা (bangla) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে (yifq5zmm) ট্রাম্প (trump) সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যায়।
prothomalo-bangla/2026-08-20/ldz9ng2x/Trump.avif




























