ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে যাচ্ছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ স্মৃতির অপেক্ষায় আজও প্রহর গুনছি চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ও ভূমিধসের শঙ্কা আগারগাঁওয়ে ভাইরাল মিজানের হোটেল আবারও উচ্ছেদ, সরানো হলো রান্নার সরঞ্জাম রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা

এল নিনোর প্রভাবে পানামা খালে আবারও জাহাজ চলাচলের সংকট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



এল নিনো আবহাওয়াজনিত তীব্র খরার কবলে পড়ে আবারও চাপে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান নৌপথ পানামা খাল। প্রকৃতির এই চক্রের প্রভাবে খালের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

চলতি বছরের এল নিনো গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এই আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে পানামায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। খালের পানি কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা উদ্বিগ্ন। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ এই খালের ওপর নির্ভরশীল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা গত মাসের ৩৬টি থেকে কমিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ৩২টিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার দায়িত্ব গ্রহণ করা পানামা খাল কর্তৃপক্ষের প্রধান ইলিয়া এসপিনো দে মারোত্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, খরা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ফেব্রুয়ারি বা মার্চ নাগাদ এই সংখ্যা আরও কমিয়ে ২৯টি বা তার কাছাকাছি নামিয়ে আনা হতে পারে।

পানামা খালের পরিচালনা ব্যবস্থা বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। খালটি পার হতে প্রতিটি জাহাজের প্রায় ২০ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন হয়, যা পরে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়। এল নিনোর প্রভাবে জলাধারের পানির স্তর কমে যাওয়ায় জাহাজকে ওপরে তোলা বা নিচে নামানোর লক ব্যবস্থা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ জাহাজের ড্রাফট বা গভীরতাও ১৫ দশমিক ২ মিটার থেকে কমিয়ে ১৪ দশমিক ৬ মিটারে সীমাবদ্ধ করেছে।

এই সংকট এমন এক সময়ে এসেছে যখন পানামা খালের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অনেক ব্যবসায়ী বিকল্প পথ হিসেবে পানামা খাল ব্যবহার করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিচালিত হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী বিধিনিষেধ পণ্য সরবরাহের সময় বাড়িয়ে দেবে এবং পরিবহন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও একই ধরনের খরার কারণে দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ৩৮টি থেকে ২২টিতে নামিয়ে আনতে হয়েছিল, তবে কর্তৃপক্ষ এবার পরিস্থিতি ততটা ভয়াবহ হবে না বলে আশা করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

এল নিনোর প্রভাবে পানামা খালে আবারও জাহাজ চলাচলের সংকট

আপডেট সময় : ০২:২৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এল নিনো আবহাওয়াজনিত তীব্র খরার কবলে পড়ে আবারও চাপে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান নৌপথ পানামা খাল। প্রকৃতির এই চক্রের প্রভাবে খালের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

চলতি বছরের এল নিনো গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এই আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে পানামায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। খালের পানি কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা উদ্বিগ্ন। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ এই খালের ওপর নির্ভরশীল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা গত মাসের ৩৬টি থেকে কমিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ৩২টিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার দায়িত্ব গ্রহণ করা পানামা খাল কর্তৃপক্ষের প্রধান ইলিয়া এসপিনো দে মারোত্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, খরা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ফেব্রুয়ারি বা মার্চ নাগাদ এই সংখ্যা আরও কমিয়ে ২৯টি বা তার কাছাকাছি নামিয়ে আনা হতে পারে।

পানামা খালের পরিচালনা ব্যবস্থা বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। খালটি পার হতে প্রতিটি জাহাজের প্রায় ২০ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন হয়, যা পরে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়। এল নিনোর প্রভাবে জলাধারের পানির স্তর কমে যাওয়ায় জাহাজকে ওপরে তোলা বা নিচে নামানোর লক ব্যবস্থা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ জাহাজের ড্রাফট বা গভীরতাও ১৫ দশমিক ২ মিটার থেকে কমিয়ে ১৪ দশমিক ৬ মিটারে সীমাবদ্ধ করেছে।

এই সংকট এমন এক সময়ে এসেছে যখন পানামা খালের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অনেক ব্যবসায়ী বিকল্প পথ হিসেবে পানামা খাল ব্যবহার করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিচালিত হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী বিধিনিষেধ পণ্য সরবরাহের সময় বাড়িয়ে দেবে এবং পরিবহন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও একই ধরনের খরার কারণে দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ৩৮টি থেকে ২২টিতে নামিয়ে আনতে হয়েছিল, তবে কর্তৃপক্ষ এবার পরিস্থিতি ততটা ভয়াবহ হবে না বলে আশা করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin