ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ৮ বিমানবন্দর বন্ধ, দেড় হাজার ফ্লাইট ব্যাহত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ২১ (07 September 2026, 11:21)

ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির নতুন করে অগ্ন্যুৎপাতের পর আকাশে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ের কারণে রাজধানী জাকার্তাসহ দেশটির আটটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোকার্নো-হাত্তা এবং হালিম পেরদানাকুসুমা বিমানবন্দর। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন এবং ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।

জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দর প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিটিতে গত শুক্রবার রাত থেকে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। শনিবার দিনভর আগ্নেয়গিরি থেকে তীব্র লাভার উদ্গীরণ ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর রোববারও আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। বাতাসে ছাইয়ের বিশাল মেঘ ছড়িয়ে পড়ে জাকার্তা ও এর আশেপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। দেশটির authority জানিয়েছে, কোনো কোনো এলাকায় এই ছাইয়ের মেঘ প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

আকাশে ছড়িয়ে পড়া আগ্নেয় ছাই উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই ছাই বিমানের ইঞ্জিনে প্রবেশ করলে তা অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে সোকার্নো-হাত্তাসহ আটটি বিমানবন্দরে সব ধরনের বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলো চালু করা হবে না। পুনরায় বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়ার আগে উড়োজাহাজের ইঞ্জিনগুলোও পরীক্ষা করা হবে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় রুটের বিমান চলাচলে। জাকার্তা থেকে সিঙ্গাপুর, সিডনি, দোহা ও কুয়ালালামপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটের পাশাপাশি পর্যটন দ্বীপ বালির অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোও বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প হিসেবে সেমারাং ও সুরাবায়াসহ কয়েকটি বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অগ্ন্যুৎপাতের ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় জনজীবনেও। জাকার্তা ও এর আশপাশের বেশ কিছু এলাকার স্কুলগুলোতে সশরীরে ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুমাত্রার বান্দার লাম্পুং এলাকায় রাস্তাঘাট ও যানবাহনের ওপর ছাইয়ের আস্তরণ জমে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ছাইয়ের কারণে অনেকের চোখ জ্বালাপোড়া ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া সাগরে মাছ ধরার কাজেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ডুডি পুরওয়াগান্ধি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তাই সরকারের কাছে সবচেয়ে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার কারণে ছাই কোন দিকে কত দূর ছড়িয়ে পড়বে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় সচল করা হবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ৮ বিমানবন্দর বন্ধ, দেড় হাজার ফ্লাইট ব্যাহত

আপডেট সময় : ১১:৩৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ২১ (07 September 2026, 11:21)

ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির নতুন করে অগ্ন্যুৎপাতের পর আকাশে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ের কারণে রাজধানী জাকার্তাসহ দেশটির আটটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোকার্নো-হাত্তা এবং হালিম পেরদানাকুসুমা বিমানবন্দর। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন এবং ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।

জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দর প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিটিতে গত শুক্রবার রাত থেকে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। শনিবার দিনভর আগ্নেয়গিরি থেকে তীব্র লাভার উদ্গীরণ ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর রোববারও আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। বাতাসে ছাইয়ের বিশাল মেঘ ছড়িয়ে পড়ে জাকার্তা ও এর আশেপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। দেশটির authority জানিয়েছে, কোনো কোনো এলাকায় এই ছাইয়ের মেঘ প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

আকাশে ছড়িয়ে পড়া আগ্নেয় ছাই উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই ছাই বিমানের ইঞ্জিনে প্রবেশ করলে তা অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে সোকার্নো-হাত্তাসহ আটটি বিমানবন্দরে সব ধরনের বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলো চালু করা হবে না। পুনরায় বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়ার আগে উড়োজাহাজের ইঞ্জিনগুলোও পরীক্ষা করা হবে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় রুটের বিমান চলাচলে। জাকার্তা থেকে সিঙ্গাপুর, সিডনি, দোহা ও কুয়ালালামপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটের পাশাপাশি পর্যটন দ্বীপ বালির অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোও বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প হিসেবে সেমারাং ও সুরাবায়াসহ কয়েকটি বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অগ্ন্যুৎপাতের ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় জনজীবনেও। জাকার্তা ও এর আশপাশের বেশ কিছু এলাকার স্কুলগুলোতে সশরীরে ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুমাত্রার বান্দার লাম্পুং এলাকায় রাস্তাঘাট ও যানবাহনের ওপর ছাইয়ের আস্তরণ জমে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ছাইয়ের কারণে অনেকের চোখ জ্বালাপোড়া ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া সাগরে মাছ ধরার কাজেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ডুডি পুরওয়াগান্ধি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তাই সরকারের কাছে সবচেয়ে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার কারণে ছাই কোন দিকে কত দূর ছড়িয়ে পড়বে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় সচল করা হবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh