কাতারে বোমা হামলার কথা দম্ভের সঙ্গে বললেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- আপডেট সময় : ০৮:০০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দম্ভের সঙ্গে স্বীকার করেছেন যে, তিনি কাতারে বোমা হামলা চালিয়েছেন। প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৫৫। শনিবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
নেতানিয়াহুর দাবি, গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানে কাতার ইসরাইলের নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি। আমি তাদের ওপর বোমাও ফেলেছি। যুদ্ধের সময় তাদের আক্রমণ করেছি। তারাও আমাকে আক্রমণ করেছে।’ উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরাইল এই হামলা চালায়, যার এক বছর পূর্তির কয়েক দিন আগেই এই মন্তব্য করলেন তিনি।
ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামলার সময় দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে দীর্ঘদিনের মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার। ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে হামাসের একটি রাজনৈতিক কার্যালয় রয়েছে, যা কাতারের ভাষ্যমতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই স্থাপন করা হয়েছিল।
এই হামলার ঘটনায় ইরান ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ নিন্দা জানায়। কাতারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা দেশটিতে সফর করেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। ঘটনার মাস শেষ হওয়ার দিকে নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানিকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।
ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু গাজায় কাতারের অর্থ সহায়তা নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি দাবি করেন, মোসাদ ও শিন বেতের পরামর্শে ইসরাইলের সহযোগিতায় কাতারের কোটি কোটি ডলার গাজায় পাঠানো হয়েছিল, যা মূলত মানবিক সহায়তা ছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থ গাজায় ঢোকা মোট অর্থের মাত্র ২ শতাংশ। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এই অর্থ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে।
কাতার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং দাবি করেছে, তাদের সহায়তা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারিতে গাজায় পৌঁছানো হতো। গত বছর দোহা ফোরামে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বলেছিলেন, হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং পুরো বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র জানত।




























