দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ভয়াবহ অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০২:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ০২ আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ১৬। দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের সময় আটক হওয়া একাধিক শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারী পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর, দুর্ব্যবহার এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন। অনেকে তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন প্রদর্শন করেছেন, তবে তারা স্পষ্ট করেছেন যে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বিবিসি আটক হওয়া বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর সাথে কথা বলেছে এবং তাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনেছে। যদিও দিল্লি পুলিশের কাছে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল, তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সদস্য শরণ্যা শর্মাকে ১১ অক্টোবর আটক করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, নারী পুলিশকর্মীরা তার পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন এবং পুরুষ কমান্ডোরা তাকে জোরপূর্বক বাসে তোলেন। শরণ্যা জানান, বাসের দরজা বন্ধ করার সময় তার পা আটকে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘তারা অনুরোধ করছিল, এক মিনিটের জন্য দরজাটা খুলে দিন। তাহলে ও ভেতরে ঢুকতে পারবে। কিন্তু পরের ৩০ সেকেন্ড ধরে তিনজন পুরুষ ওই দরজা জোর করে ঠেলতে থাকে।’ তাকে নাঙ্গলোইয়ের একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল, যেখানে খাবার, পানি ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাব ছিল।
এসএফআইয়ের দিল্লি সভাপতি নাদিয়াকে ১০ অক্টোবর আটক করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে মারধর করেছে, গলা টিপে ধরার চেষ্টা করেছে এবং তার ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। নাদিয়া জানান, পুলিশকর্মীরা তাকে ভয় দেখিয়ে বলেছিল যে তাকে আধমরা অবস্থায় ছাড়া হবে। তিনি আরো বলেন, ‘তার পরের ১৫ মিনিট আমার ওপর নৃশংসতা হয়েছে। অত্যাচার চালানোর মতোই ছিল সেটা। (হাতের আঘাত দেখিয়ে) এগুলো আঘাতের চিহ্ন। এগুলো মূলত টানা-হেঁচড়ার সময় হয়েছে। কিন্তু তার পরেরটুকু খুবই খারাপ ছিল (অন্য হাতের কালসিটে পড়া দাগ দেখিয়ে)। মূলত চারজন পুলিশকর্মী আমার ওপর চড়াও হন।’ একই দিনে পিএইচডি শিক্ষার্থী নোভেলকেও আটক করা হয়। তার অভিযোগ, তাকে একটি সাধারণ দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের বাসে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয়। লাথি মেরে তার চশমা ভেঙে ফেলা হয় এবং তার জামা ছিঁড়ে ফেলা হয়।
১১ অক্টোবর আটক হওয়া সমাজকর্মী অর্জুন অভিযোগ করেন, তাকে ভ্যানে মারধর করা হয়েছে এবং পুলিশ তার বুকে ও গোপনাঙ্গে বুট দিয়ে লাথি মেরেছে। তার দাবি, পুলিশ এমনভাবে আঘাত করছিল যাতে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী দাগ না থাকে। এছাড়াও, ১০ ও ১১ অক্টোবর বিক্ষোভ কভার করতে গিয়ে অন্তত ৩৭ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫ জনের বেশি দিল্লির সাংবাদিক। কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর তথ্য অনুযায়ী এই ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটেছে।





























