ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক এমপি কামারুল তিথির বিশেষ বিন্যাসে দুই দিনে পালিত হচ্ছে মহাসপ্তমী উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ যশোরের নাহিদুর ও তার পরিবার বিদেশি আগ্রাসনের কাছে মাথা নত করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান সিরাজগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় মাঠে থাকছেন ৩৬৩০ আনসার-ভিডিপি সদস্য ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির অভিযানে ৪৯০ জন গ্রেপ্তার সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে সরকার এআইয়ের যুগে তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর নতুন কৌশল ও দিকনির্দেশনা

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: ভুয়া নামে কারাগারে ৪ জেলে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগে আটক চার জেলের পরিচয় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বন বিভাগের করা মামলায় তাদের যে নাম ও পিতার পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে তার অমিল দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ভিন্ন নামে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সুন্দরবনের ভোমরখালী অভয়ারণ্যের বড় কুকুমারি খাল এলাকা থেকে ওই চার জেলেকে আটক করে বন বিভাগ। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কয়রা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বন বিভাগ আটকদের যে পরিচয় দিয়েছে, সে অনুযায়ী তাদের নাম আবু বকর (৪২), আছাদুল (৩০), পীর আলী (২৮) ও কাদের মোল্যা (৫৫)। তাদের পিতার নাম যথাক্রমে আঃ জলিল, আমিরুল গাজী, নুর সরদার ও মালেক মোল্যা। বন বিভাগ জানায়, তাদের সবার বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার ৫ নম্বর কয়রা এলাকায়। তবে বন বিভাগের দেওয়া আসামিদের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন পরিচয় পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের প্রকৃত নাম আবুল বাসার গাজী (৩৫), পিতা আকবার আলী গাজী; মো. হাবিবুল্লাহ হোসেন (৩০), পিতা নুরআলী গাজী; রবিউল ইসলাম (৩৫), পিতা মোছাক মোড়ল এবং হামিদ সানা (৪৫), পিতা আনসার আলী সানা।

অভিযোগ উঠেছে যে, বোর্ড লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) রক্ষায় তারা ভিন্ন নাম ব্যবহার করেছেন। মো. হাবিবুল্লাহ হোসেনের নামে ২৬২৭০৫০১১৯৮ নম্বর এবং আবুল বাসার গাজীর নামে ২৬২৭০৫০১২১২ নম্বর বিএলসি রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেছেন যে, হাবিবুল্লাহ ও আবুল বাসার সুন্দরবন ব্যবস্থাপনা কমিটির এক নেতার চাচাতো ভাই। এই পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তারা সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও হরিণ শিকারের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আটকের পর আসামিদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মামলার এজাহার, আটকসংক্রান্ত নথি এবং আদালতের আদেশে উল্লেখ করা নামের সঙ্গে কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিচয়ে অমিল থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে ভোমরখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছামাদুল কাদির জানান, সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের সময় চার জেলেকে আটক করা হয়। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে বোর্ড লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি), জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাস পারমিট পাওয়া যায়নি। আসামিরা যে নাম বলেছেন, সেই নাম উল্লেখ করেই বন আইনে মামলা করা হয়েছে। ভিন্ন নাম ব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানিয়েছেন, প্রকৃত পরিচয় গোপন করে মামলা হয়ে থাকলে সঠিক নাম শনাক্ত করা হবে এবং আদালতে পরিচয় সংশোধনের জন্য আবেদন করা হবে।

আসামিরা বর্তমানে জেলহাজতে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: ভুয়া নামে কারাগারে ৪ জেলে

আপডেট সময় : ১২:১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগে আটক চার জেলের পরিচয় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বন বিভাগের করা মামলায় তাদের যে নাম ও পিতার পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে তার অমিল দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ভিন্ন নামে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সুন্দরবনের ভোমরখালী অভয়ারণ্যের বড় কুকুমারি খাল এলাকা থেকে ওই চার জেলেকে আটক করে বন বিভাগ। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কয়রা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বন বিভাগ আটকদের যে পরিচয় দিয়েছে, সে অনুযায়ী তাদের নাম আবু বকর (৪২), আছাদুল (৩০), পীর আলী (২৮) ও কাদের মোল্যা (৫৫)। তাদের পিতার নাম যথাক্রমে আঃ জলিল, আমিরুল গাজী, নুর সরদার ও মালেক মোল্যা। বন বিভাগ জানায়, তাদের সবার বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার ৫ নম্বর কয়রা এলাকায়। তবে বন বিভাগের দেওয়া আসামিদের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন পরিচয় পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের প্রকৃত নাম আবুল বাসার গাজী (৩৫), পিতা আকবার আলী গাজী; মো. হাবিবুল্লাহ হোসেন (৩০), পিতা নুরআলী গাজী; রবিউল ইসলাম (৩৫), পিতা মোছাক মোড়ল এবং হামিদ সানা (৪৫), পিতা আনসার আলী সানা।

অভিযোগ উঠেছে যে, বোর্ড লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) রক্ষায় তারা ভিন্ন নাম ব্যবহার করেছেন। মো. হাবিবুল্লাহ হোসেনের নামে ২৬২৭০৫০১১৯৮ নম্বর এবং আবুল বাসার গাজীর নামে ২৬২৭০৫০১২১২ নম্বর বিএলসি রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেছেন যে, হাবিবুল্লাহ ও আবুল বাসার সুন্দরবন ব্যবস্থাপনা কমিটির এক নেতার চাচাতো ভাই। এই পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তারা সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও হরিণ শিকারের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আটকের পর আসামিদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মামলার এজাহার, আটকসংক্রান্ত নথি এবং আদালতের আদেশে উল্লেখ করা নামের সঙ্গে কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিচয়ে অমিল থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে ভোমরখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছামাদুল কাদির জানান, সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের সময় চার জেলেকে আটক করা হয়। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে বোর্ড লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি), জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাস পারমিট পাওয়া যায়নি। আসামিরা যে নাম বলেছেন, সেই নাম উল্লেখ করেই বন আইনে মামলা করা হয়েছে। ভিন্ন নাম ব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানিয়েছেন, প্রকৃত পরিচয় গোপন করে মামলা হয়ে থাকলে সঠিক নাম শনাক্ত করা হবে এবং আদালতে পরিচয় সংশোধনের জন্য আবেদন করা হবে।

আসামিরা বর্তমানে জেলহাজতে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh