টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ০২:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের উখিয়ায় মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকায় কাঠ নির্মিত টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলাটিতে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীরকে প্রধান (১ নম্বর) আসামি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। আজ রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার।
মামলায় এজাহারনামীয় চার আসামির মধ্যে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, আর বাকিদের অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর গতকাল শনিবার বিকেলেই রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। আজ সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। চলমান তদন্তের মাধ্যমেই অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ বের হয়ে আসবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে খবর পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম সকাল আটটায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সমুদ্রের তীব্র বাতাসের কারণে কাঠের তৈরি ওই রিসোর্টটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। এ ধরনের স্থাপনায় অগ্নিসংকেত, বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, হোসপাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও টুপটুপ রিসোর্টে এর কোনোটিই ছিল না। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কোনো ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে নির্মিত এই রিসোর্টটির জমির মালিকানা নিয়েও দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চারজনের লাশ তিনতলার দুটি শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তবে কার লাশ কোনটি তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছরের শিশু ফায়িজান আহম্মেদ। অন্যদিকে, অপর চারজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি, যাদের মধ্যে দুই নারী, এক শিশু ও এক পুরুষ রয়েছেন।



























