ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, ভর্তি ২০৮৮ রোগী কুয়েতের গৃহকর্মীর ৮৬.১ শতাংশই বাংলাদেশসহ এশিয়ার ৪ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৭ ও ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু দুর্নীতির মামলায় কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান আব্দুল হান্নান সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক এমপি কামারুল তিথির বিশেষ বিন্যাসে দুই দিনে পালিত হচ্ছে মহাসপ্তমী উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে সরকার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:২৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একটি বাহিনীর প্রকৃত শক্তি কেবল অস্ত্র বা জনবলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থার মধ্যেই এর মূল ভিত্তি নিহিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার সকালে সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিকরা সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস অবিচ্ছেদ্য। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের সশস্ত্র প্রতিরোধ ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য অধ্যায়। সেই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়েও দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের ধরন ও কৌশলে দ্রুত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার পরিসর, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বাস্তবতায় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়, তাই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারত্ব বৃদ্ধি করা জরুরি।

তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কাজের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রয়োজনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে একযোগে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। বিদেশের শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি।

সদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার তাদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের পাশাপাশি অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। জাতীয় পে স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন। তিনি পতাকা অর্জনকারী ইউনিটগুলোকে এই স্বীকৃতির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা কেবল আনুষ্ঠানিক প্রতীক নয়, বরং এটি ইউনিটের ঐতিহ্য, বীরত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের প্রতীক। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাপ্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, সংসদ সদস্য এবং সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে সরকার

আপডেট সময় : ০১:২৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

একটি বাহিনীর প্রকৃত শক্তি কেবল অস্ত্র বা জনবলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থার মধ্যেই এর মূল ভিত্তি নিহিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার সকালে সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিকরা সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস অবিচ্ছেদ্য। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের সশস্ত্র প্রতিরোধ ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য অধ্যায়। সেই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়েও দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের ধরন ও কৌশলে দ্রুত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার পরিসর, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বাস্তবতায় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়, তাই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারত্ব বৃদ্ধি করা জরুরি।

তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কাজের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রয়োজনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে একযোগে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। বিদেশের শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি।

সদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার তাদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের পাশাপাশি অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। জাতীয় পে স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন। তিনি পতাকা অর্জনকারী ইউনিটগুলোকে এই স্বীকৃতির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা কেবল আনুষ্ঠানিক প্রতীক নয়, বরং এটি ইউনিটের ঐতিহ্য, বীরত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের প্রতীক। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাপ্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, সংসদ সদস্য এবং সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin