হরমুজে উত্তেজনা: পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়াতে মরিয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ১১:১৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষগুলো সীমিত পরিসরে থাকায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনো পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। বরং এই সংঘাতকে একটি নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রেখে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে সচেষ্ট যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরান তার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক চাপ থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজছে।
মঙ্গলবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান পাল্টা আঘাত করলে তাদের ওপর আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলা চালায়। বর্তমানে উভয় পক্ষের হামলাই মূলত সামরিক স্থাপনা কেন্দ্রিক। জ্বালানি অবকাঠামো বা বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে এখন পর্যন্ত হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। এছাড়া সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর নতুন করে কোনো আক্রমণ চালায়নি ইরান।
ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিত্রিনোভিচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেছেন যে, যদিও উভয় পক্ষ সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধ এড়িয়ে চলছে, তবুও উত্তেজনা যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বর্তমানে এই সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) ইরানবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাধা সৃষ্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ—উভয়ই এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য অসহনীয় হয়ে উঠছে, যদিও কেউ যুদ্ধে ফিরতে চায় না।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক পাহারায় নিরাপদে পার করে দিয়েছে। এসব জাহাজে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল, যা যুদ্ধ শুরুর পর একদিনে সর্বোচ্চ। তবে এই পদক্ষেপের পরও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটেনি। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমলেও তা যুদ্ধের আগের তুলনায় অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের জাতীয় গড় মূল্য ৪ দশমিক ১৪ ডলার, যা এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ১৯ ডলার।




























