ইউক্রেনের দুই গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৩
- আপডেট সময় : ০৮:০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ২২। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের রাস্তায় দেশটির দুটি প্রধান গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোরে কয়েক ঘণ্টার উত্তেজনার পর এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা হুরের (এইচইউআর) তিন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষটির মূলে ছিল রাশিয়ার নাগরিক এবং হুরের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার স্তেপান কাপলুনভ। কাপলুনভ রুশ স্বেচ্ছাসেবক কোরের উপপ্রধান। রাশিয়ার স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে গঠিত এই ইউনিটটি ২০২৩ সাল থেকে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ইউক্রেনের হয়ে লড়াই করছেন। বৃহস্পতিবার এসবিইউ দাবি করে, কাপলুনভ রুশ নিরাপত্তা সংস্থার হয়ে হত্যাচক্রান্তে জড়িত ছিলেন এবং স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কাপলুনভ ও তার আইনজীবী তারাস বোরোভস্কি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কাপলুনভের ভাষ্যমতে, ১০ দিন আগে তাকে অপহরণ করে চোখ বেঁধে এসবিইউ সদস্যরা জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নিতে বাধ্য করেছিল।
হুরের কমান্ডার ওলেক্সি সেরেদিউক জানিয়েছেন, গত ২৩ আগস্ট থেকে কাপলুনভ নিখোঁজ ছিলেন এবং এসবিইউ তাকে আটকের কথা অস্বীকার করেছিল। বুধবার কাপলুনভের অ্যাপার্টমেন্টে এসবিইউ কর্মকর্তারা তল্লাশি চালাতে গেলে হুরের সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। আইনজীবী বোরোভস্কির মতে, কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হুট করে গুলি শুরু হয় এবং এসবিইউ কর্মকর্তারা হুরের সদস্যদের আটক করেন।
ঘটনাটি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই ঘটনাকে ‘একেবারেই লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ কিরিলো বুদানভও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, শহরের রাস্তায় সেনাসদস্যদের অপহরণ বা গুলি চালানোর অধিকার কারো নেই।
হুর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংস্থাটির কমান্ডার সেরেদিউক এসবিইউর বেআইনি কর্মকাণ্ডকেই এই সংঘর্ষের জন্য দায়ী করেছেন এবং কাপলুনভকে রুশ এজেন্ট হিসেবে এসবিইউর দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।



























