মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান শি জিনপিংয়ের
- আপডেট সময় : ০৮:০১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের গুরুত্বারোপ করেছেন। কায়রো সফরে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। এক দশক পর এটিই তার প্রথম কায়রো সফর। বেইজিং বর্তমানে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, কায়রোর ইত্তিহাদিয়া প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে শি জিনপিংকে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা জানানো হয়। বৈঠকে শি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণই তাদের নিজেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রকৃত মালিক। বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোকে শান্তি ও নিরাপত্তা সংলাপ জোরদারে সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
চার বছরের মধ্যে এটিই শির প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর। সংঘাত ও বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় মার্কিন মিত্র দেশগুলো তাদের কৌশলগত সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করছে। যদিও মিসর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিরক্ষা অংশীদার এবং বছরে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পায়, তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কায়রো চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করেছে।
দুই নেতা নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয় জোরদারে সম্মত হয়েছেন। এছাড়া ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহারের বিষয়েও উভয় দেশ একমত হয়েছে। আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও চীন কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন শি।
মিসরের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বহুমুখী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট সিসি তার সাম্প্রতিক নিবন্ধে 'কৌশলগত ভারসাম্য' নীতির কথা উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের জন্য মিসরের কৌশলগত অবস্থান ও বড় অভ্যন্তরীণ বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালে কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে মিসরে চীনের বিনিয়োগ দ্রুত বেড়েছে। সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগ ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মিসর প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্য আমদানি করেছে।
‘ঈগলস অব সিভিলাইজেশন’ নামের ওই মহড়ায় চীনের তৈরি জে-১৬ যুদ্ধবিমান এবং ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে বিরল বিমানযুদ্ধের মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়।
সুয়েজ খাল ও ১১ কোটির বেশি জনসংখ্যার মিসর চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার।





























