এক দশক পর কায়রোতে শি জিনপিং, সিসির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আজ
- আপডেট সময় : ০১:১৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সাথে আর্থিক লেনদেনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কার মাঝেই এক দশক পর মিসরের রাজধানী কায়রো সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে তাঁর একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কায়রো পৌঁছান শি জিনপিং। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিয়ুয়ান। বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি এবং ফার্স্ট লেডি এন্তেসার আমের। এই সফরকে কেন্দ্র করে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিশাল নগরী কায়রোর প্রধান সড়কগুলোতে দুই দেশের পতাকা এবং দুই নেতার ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। সড়কের সাইনবোর্ডগুলোতে লেখা রয়েছে, ‘মিসর-চীন বন্ধুত্ব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নীল নদের মতো প্রবহমান।’ এদিকে প্রেসিডেন্টের সফরকে কেন্দ্র করে রাস্তায় ব্যাপক যানজটের আশঙ্কায় কায়রোবাসীকে যাতায়াতে সতর্ক করা হয়েছে।
আজ সকালের শীর্ষ বৈঠকে ব্রিকসের এই দুই সদস্য দেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই করতে পারে। এসব চুক্তির মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পরিবহন ও জ্বালানি খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া সিসির ১২ বছরের শাসনামলে নেওয়া বিশাল অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনা বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কায়রো থেকে ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত আকাশচুম্বী ভবনসমৃদ্ধ ফাইন্যান্স অ্যান্ড বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট এবং সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্য যখন হুমকির মুখে, তখন এই অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শীর্ষ বৈঠককে কাজে লাগিয়ে কায়রো তার কৌশলগত স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরতে চায়। এর মাধ্যমে মিসর দেখাতে চায় যে, ওয়াশিংটন ও বেইজিং—উভয়ের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তারা নিজেদের স্বার্থে বজায় রাখতে পারে। গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ‘ব্যাংক মিসর’-এর সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর কয়েক দিন পর মঙ্গলবার মিসরের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে সিসি কায়রোর ‘স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি’ তুলে ধরেন। তিনি লিখেন, ক্রমবর্ধমান মেরুকরণের এই বিশ্বে মিসর ও চীন ‘গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের ভূমিকা শক্তিশালী করার’ ক্ষেত্রে অংশীদার।
গত মাসে ওয়াশিংটন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয়, যার আওতায় চীনা ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও পড়তে পারে। চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং বেইজিং জানিয়েছে, তারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে। চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের কথা রয়েছে। এর আগে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চাচ্ছে। মিসর ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী এবং মার্কিন সামরিক সহায়তার অন্যতম বড় গ্রহীতা। তবে সিসির শাসনামলে মিসর বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র ক্রেতায় পরিণত হয়েছে এবং গত আগস্টে চীনা সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী জে-১৬ যুদ্ধবিমানের অংশগ্রহণে একটি বড় যৌথ বিমান মহড়াও আয়োজন করে তারা।
বুধবারের সফরের অংশ হিসেবে শি জিনপিংয়ের পুরো কায়রো শহর ঘুরে দেখার কথা রয়েছে। এছাড়া তিনি গিজার পিরামিডের কাছে অবস্থিত গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামেও যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, চীন মিসরের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক দেশ। চীনের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে মিসরের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার।
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৫৪আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৫৫



























