ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে তরুণীকে মারধর, থানায় অভিযোগ ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

চীনের নতুন কৌশলগত সীমান্ত হতে পারে আফগানিস্তানের ওয়াখান করিডর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



উনিশ শতকে ব্রিটিশ ও রুশ সাম্রাজ্যের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল হিসেবে সৃষ্টি হয়েছিল আফগানিস্তানের ওয়াখান করিডর। দীর্ঘ সময় ধরে একটি বাফার জোন বা নিরপেক্ষ এলাকা হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলটি বর্তমানে চীনের সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সীমান্তে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। সাউথ এশিয়া মনিটরে ২৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত রিশি গুরুংয়ের একটি বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে এই ভূকৌশলগত পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে।

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওয়াখান করিডরটি প্রায় ৫,১৭৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। সংকীর্ণ এই পাহাড়ি ভূখণ্ডটির উত্তরে তাজিকিস্তান, দক্ষিণে পাকিস্তান এবং পূর্ব প্রান্তে চীন অবস্থিত। করিডরটির কোনো কোনো অংশে প্রস্থ ১৫ কিলোমিটারের সামান্য বেশি। ১৮৮৫ সালের রুশ-আফগান সংঘাতের পর ব্রিটিশ ও রুশ প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে এই সীমারেখা নির্ধারিত হয়েছিল, যা স্থানীয় ওয়াখি, কিরগিজ ও তাজিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। লেখক এই বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীকে “গোস্ট কমিউনিটিজ” বা ‘ভূতুড়ে সম্প্রদায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, কারণ আধুনিক রাষ্ট্রীয় সীমান্তে তাদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রায় হারিয়ে গেছে।

চীনের এই করিডর ব্যবহারের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি চীনের জন্য একটি বিকল্প স্থলপথ হিসেবে কাজ করতে পারে, যা আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তান এবং আরব সাগরের দিকে বিস্তৃত। এটি সফল হলে মালাক্কা প্রণালির ওপর চীনের সমুদ্রপথের নির্ভরতা হ্রাস পাবে। এছাড়া, করিডরের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীকে চীনের নতুন অর্থনৈতিক অবকাঠামোর সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে লেখক সতর্ক করেছেন যে, স্থানীয় জনগোষ্ঠী চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।

উনিশ শতকে ব্রিটেন ও রাশিয়া যে অঞ্চলটিকে সাম্রাজ্যিক স্বার্থে বাফার অঞ্চল হিসেবে ব্যবহার করেছিল, একুশ শতকে সেই একই ভূখণ্ড চীন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন রূপ পাচ্ছে। তবে এটি কতটুকু বাস্তবে রূপ নেবে, তা নিশ্চিত নয়। চীনের বিআরআই বা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় এই অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণ এবং এর স্থানীয় প্রভাবকে আপাতত একটি সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক প্রবণতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ০৬আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ১৫

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

চীনের নতুন কৌশলগত সীমান্ত হতে পারে আফগানিস্তানের ওয়াখান করিডর

আপডেট সময় : ০১:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উনিশ শতকে ব্রিটিশ ও রুশ সাম্রাজ্যের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল হিসেবে সৃষ্টি হয়েছিল আফগানিস্তানের ওয়াখান করিডর। দীর্ঘ সময় ধরে একটি বাফার জোন বা নিরপেক্ষ এলাকা হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলটি বর্তমানে চীনের সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সীমান্তে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। সাউথ এশিয়া মনিটরে ২৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত রিশি গুরুংয়ের একটি বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে এই ভূকৌশলগত পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে।

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওয়াখান করিডরটি প্রায় ৫,১৭৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। সংকীর্ণ এই পাহাড়ি ভূখণ্ডটির উত্তরে তাজিকিস্তান, দক্ষিণে পাকিস্তান এবং পূর্ব প্রান্তে চীন অবস্থিত। করিডরটির কোনো কোনো অংশে প্রস্থ ১৫ কিলোমিটারের সামান্য বেশি। ১৮৮৫ সালের রুশ-আফগান সংঘাতের পর ব্রিটিশ ও রুশ প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে এই সীমারেখা নির্ধারিত হয়েছিল, যা স্থানীয় ওয়াখি, কিরগিজ ও তাজিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। লেখক এই বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীকে “গোস্ট কমিউনিটিজ” বা ‘ভূতুড়ে সম্প্রদায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, কারণ আধুনিক রাষ্ট্রীয় সীমান্তে তাদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রায় হারিয়ে গেছে।

চীনের এই করিডর ব্যবহারের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি চীনের জন্য একটি বিকল্প স্থলপথ হিসেবে কাজ করতে পারে, যা আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তান এবং আরব সাগরের দিকে বিস্তৃত। এটি সফল হলে মালাক্কা প্রণালির ওপর চীনের সমুদ্রপথের নির্ভরতা হ্রাস পাবে। এছাড়া, করিডরের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীকে চীনের নতুন অর্থনৈতিক অবকাঠামোর সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে লেখক সতর্ক করেছেন যে, স্থানীয় জনগোষ্ঠী চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।

উনিশ শতকে ব্রিটেন ও রাশিয়া যে অঞ্চলটিকে সাম্রাজ্যিক স্বার্থে বাফার অঞ্চল হিসেবে ব্যবহার করেছিল, একুশ শতকে সেই একই ভূখণ্ড চীন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন রূপ পাচ্ছে। তবে এটি কতটুকু বাস্তবে রূপ নেবে, তা নিশ্চিত নয়। চীনের বিআরআই বা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় এই অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণ এবং এর স্থানীয় প্রভাবকে আপাতত একটি সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক প্রবণতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ০৬আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ১৫

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh