ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সামরিক তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করে হত্যা করা উচিত: ট্রাম্প মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত: ৩৩৮ এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের ঘোষণা মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু, বিনা খরচে যাবে ১০ হাজার কর্মী ‘নগদ’ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই, লাভজনক করার উদ্যোগ কাশ্মীরের মসজিদে অভিন্ন খুতবার প্রস্তাব, বিতর্কের মুখে ওয়াকফ বোর্ড ঈশ্বরদীতে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, থানায় মামলা পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ২৮ হামজার বিতর্কিত লাল কার্ডে ক্ষোভে ফুঁসছেন শেফিল্ড কোচ সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী খালি পেটে শিঙাড়া খেলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে

তিব্বত সীমান্তে নিখোঁজ তীর্থযাত্রী: পরিবারের কাটছে অনিশ্চিত প্রহর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২৯০ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। এই নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শুভশ্রী চক্রবর্তী এবং ৫৪ বছর বয়সী প্রাইভেট টিউটর রীনা ব্যানার্জি। গত বুধবার ভোরের দিকে শুভশ্রী তাঁর স্বামী সুদীপ্ত ভট্টাচার্যের সঙ্গে শেষবার যোগাযোগ করেছিলেন। সকাল ৭টা ৫৭ মিনিটে পাঠানো বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের দল চীনে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু ঠিক ছয় মিনিট পর, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩ মিনিটে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

শুভশ্রী প্রায় ৩০ জনের একটি দলের অংশ হিসেবে কৈলাস পর্বত তীর্থযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করে তিনি ২২ আগস্ট রক্সৌল পৌঁছান এবং এরপর নেপালের বীরগঞ্জ হয়ে কাঠমান্ডু যান। ২৫ আগস্ট দলটি বাসে করে স্যাপ্রুবেসির উদ্দেশে রওনা হয়। পথে পাহাড়ধসের কারণে তাদের প্রায় চার ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছিল, তবে পরে সেনাবাহিনী রাস্তা পরিষ্কার করলে তারা এগিয়ে যান। স্বামীর সঙ্গে কথোপকথনে শুভশ্রী জানিয়েছিলেন, আবহাওয়া পরিষ্কার ছিল। সুদীপ্তর ধারণা, বিপর্যয় ঘটার সময় তার স্ত্রী হয়তো চীনের ইমিগ্রেশন ভবনের ভেতরে বা এর কাছাকাছি ছিলেন। নিখোঁজের পর সুদীপ্ত ট্যুর অপারেটর এবং দলের অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি। তিনি এখন চীন সরকারের কাছ থেকে নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একটি তালিকা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

অন্যদিকে, রীনা ব্যানার্জির পরিবারের অবস্থাও একই রকম অনিশ্চিত। রীনাও একই দলের সঙ্গে একা ভ্রমণ করছিলেন। তার ভাতিজা দ্বৈপায়ন মুখার্জি জানান, কাঠমান্ডু থেকে পরিবারের সঙ্গে তার ভিডিও কলে কথা হয়েছিল এবং তিনি বেশ খুশি ছিলেন। পথে পাহাড়ধসের মুখে পড়লেও তারা সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন এবং নেপাল ইমিগ্রেশন সেন্টারের সামনে রীনার ছবিও পাওয়া গিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তারা জানেন না রীনা সীমান্ত পার হতে পেরেছিলেন কি না।

নেপাল সরকারের ৫৩৭ জন নিখোঁজ মানুষের তালিকায় তাদের নাম রয়েছে, কিন্তু তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। ট্যুর অপারেটরও এই দলের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। পরিবারগুলোর কাছে এখন একটাই প্রশ্ন—দুই নারী কি শেষ পর্যন্ত সীমান্ত পার হতে পেরেছিলেন?

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

তিব্বত সীমান্তে নিখোঁজ তীর্থযাত্রী: পরিবারের কাটছে অনিশ্চিত প্রহর

আপডেট সময় : ০২:০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২৯০ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। এই নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শুভশ্রী চক্রবর্তী এবং ৫৪ বছর বয়সী প্রাইভেট টিউটর রীনা ব্যানার্জি। গত বুধবার ভোরের দিকে শুভশ্রী তাঁর স্বামী সুদীপ্ত ভট্টাচার্যের সঙ্গে শেষবার যোগাযোগ করেছিলেন। সকাল ৭টা ৫৭ মিনিটে পাঠানো বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের দল চীনে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু ঠিক ছয় মিনিট পর, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩ মিনিটে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

শুভশ্রী প্রায় ৩০ জনের একটি দলের অংশ হিসেবে কৈলাস পর্বত তীর্থযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করে তিনি ২২ আগস্ট রক্সৌল পৌঁছান এবং এরপর নেপালের বীরগঞ্জ হয়ে কাঠমান্ডু যান। ২৫ আগস্ট দলটি বাসে করে স্যাপ্রুবেসির উদ্দেশে রওনা হয়। পথে পাহাড়ধসের কারণে তাদের প্রায় চার ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছিল, তবে পরে সেনাবাহিনী রাস্তা পরিষ্কার করলে তারা এগিয়ে যান। স্বামীর সঙ্গে কথোপকথনে শুভশ্রী জানিয়েছিলেন, আবহাওয়া পরিষ্কার ছিল। সুদীপ্তর ধারণা, বিপর্যয় ঘটার সময় তার স্ত্রী হয়তো চীনের ইমিগ্রেশন ভবনের ভেতরে বা এর কাছাকাছি ছিলেন। নিখোঁজের পর সুদীপ্ত ট্যুর অপারেটর এবং দলের অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি। তিনি এখন চীন সরকারের কাছ থেকে নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একটি তালিকা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

অন্যদিকে, রীনা ব্যানার্জির পরিবারের অবস্থাও একই রকম অনিশ্চিত। রীনাও একই দলের সঙ্গে একা ভ্রমণ করছিলেন। তার ভাতিজা দ্বৈপায়ন মুখার্জি জানান, কাঠমান্ডু থেকে পরিবারের সঙ্গে তার ভিডিও কলে কথা হয়েছিল এবং তিনি বেশ খুশি ছিলেন। পথে পাহাড়ধসের মুখে পড়লেও তারা সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন এবং নেপাল ইমিগ্রেশন সেন্টারের সামনে রীনার ছবিও পাওয়া গিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তারা জানেন না রীনা সীমান্ত পার হতে পেরেছিলেন কি না।

নেপাল সরকারের ৫৩৭ জন নিখোঁজ মানুষের তালিকায় তাদের নাম রয়েছে, কিন্তু তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। ট্যুর অপারেটরও এই দলের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। পরিবারগুলোর কাছে এখন একটাই প্রশ্ন—দুই নারী কি শেষ পর্যন্ত সীমান্ত পার হতে পেরেছিলেন?

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo