ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমাতে পর্দার আড়ালে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা
- আপডেট সময় : ০৭:৩৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনে পর্দার আড়ালে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। গত ৭২ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মার্কিন প্রশাসন আবারও আলোচনার টেবিলে বসার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সর্বশেষ কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফর করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চপর্যায়ের এই সফরগুলোকে একটি নতুন কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ওমান ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার মাধ্যমে এই ইস্যুতে একটি নতুন সমঝোতা প্রক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও পর্দার আড়ালে বার্তা দিচ্ছেন যে, ইরান যদি নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে সম্মত হয়, তবে আলোচনার টেবিলে ফিরতে তারা প্রস্তুত।
এই প্রক্রিয়ায় কাতার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রধান দূত হিসেবে কাজ করছে। তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক সফর প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থন নিয়ে কোনো বিশেষ বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এর উত্তর সংগ্রহের কাজ চলছে।
তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হবে তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। এর মূল কারণ ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা ও বিভেদ। বাসিজ (স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী), আইআরজিসি (ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মতো ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পক্ষগুলোকে একই টেবিলে নিয়ে আসতে না পারলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হবে।




























