ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধের কৌশল ঘোষণা করলেন ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ০২:৪৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এক নতুন ও কঠোর অর্থনৈতিক যুদ্ধকৌশল ঘোষণা করেছেন। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা ইরানের সাথে ব্যবসা করবে, তাদের সবাইকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক মিত্রদের জানানো হয়েছে যে, ইরানের সাথে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করা হয়েছে। দেশটির ওপর দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতি স্বীকার করানোর লক্ষ্যেই এই নতুন কৌশল সাজানো হয়েছে। ট্রাম্পের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা সংস্থা, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থা ইরানকে যেকোনো ধরণের সুবিধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে তিনি তেল চোরাচালান, অর্থ স্থানান্তর, ভুয়া কোম্পানি এবং জাহাজের নিবন্ধনের মতো সমস্ত পথ অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক আলোচনায় বসতে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই নতুন কৌশলকে নিজেদের মুখ রক্ষার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই কঠোর অবস্থানের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অতীতেও ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপ থেকে সরে আসার নজির রয়েছে। ইসরাইল ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের সাবেক ইরান-বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল সিট্রিনোভিচ মনে করেন, তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরান ভেঙে পড়বে এমনটি ভাবা হবে চরম ভুল। তার মতে, অর্থনৈতিক ক্ষতি সত্ত্বেও তেহরান তাদের মূল রাজনৈতিক অবস্থানে অটল থাকার সম্ভাবনা বেশি।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদী ধৈর্যের পাশাপাশি ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সাথে সমন্বিত কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে। হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লুদোভিক হুড মনে করেন, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের উচিত ইরানের তেলের বড় ক্রেতা চীনের ওপর চাপ বাড়ানো। তবে আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের আগে ওয়াশিংটন এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানও পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ খুঁজছে। তেহরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে মার্কিন ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ডেমোক্রেট প্রতিনিধি জেমস ওয়াকিনশ এই অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি এমন কোনো যুদ্ধে আগ্রহী নন যার মূল্য মার্কিন জনগণকে গ্যাস স্টেশন ও মুদি দোকানে পরিশোধ করতে হয়।




























