বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়তে চায় ভারত
- আপডেট সময় : ১১:২১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে পারস্পরিক স্বার্থ ও আদান-প্রদানের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে চায় ভারত। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভারতের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সওয়াল জানান, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য বা অগ্রগতি তাদের কাছে নেই। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং এ নিয়ে কোনো নতুন অগ্রগতি হলে তা পরবর্তীতে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশে পলাতক ও আশ্রয়প্রাপ্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শর্ত আরোপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে এবং নতুন কিছু বলার নেই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসা প্রত্যর্পণের অনুরোধটি ভারতের বিদ্যমান আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আলোকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ প্রসঙ্গে মুখপাত্র জানান, ভারতে জ্বালানির মজুত, নিজস্ব শোধনাগারের সক্ষমতা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি দেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি।
বাংলাদেশে থমকে থাকা ভারতীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো অনুরোধ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জয়সওয়াল আবারও বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, যা দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার বিস্তার এবং বাংলাদেশে তাদের ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়েও কথা বলেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয়। ভারত এই বিপদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করতে চায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ওই প্রতিবেদনে নয়াদিল্লির লালকেল্লায় হামলাকারী শক্তির বিষয়ে বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়েছে।
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি এবং এই প্রকল্পে চীনের আগ্রহের বিষয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।



























